“প্রধানমন্ত্রী আমার হাতে নৌকা তুলে দেওয়ার পরেও এ নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। দাঙ্গা হাঙ্গামার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন ধরনের প্রার্থী খোঁজা হচ্ছে। অনেককে চাপ দিচ্ছে প্রলোভন দেখাচ্ছে। প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অরাজকতা ঘটিয়ে বানচাল চেষ্টা করছে। নারায়ণগঞ্জকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। আমি তাদেরকে বলবো অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে নৌকার জন্য কাজ করুন। বেশী বাড়াবাড়ি ভালো না। সম্প্রতি দেখেছেন প্রতিমন্ত্রীর অবস্থা কি হয়েছে। আমরা কারো এমন পরিণতি চাই না। তাদের বলবো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা চিন্তা করে দেখুন। তার প্রার্থীর পক্ষে থাকবেন না নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখার চিন্তা করবেন।”
এবাবেই নিজের অভিব্যাক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বুধবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী মন্তব্য করেছেন।
আইভীকে সমর্থন জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ ওই সভার আয়োজন করে। ডাক্তার আইভী জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপদি পদে রয়েছেন। এর আগে গত ৬ ডিসেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগ আইভীকে সমর্থন জানিয়ে সভা করেন।

আইভী বলেন, নেত্রীর কথায় আমার জন্য কাজ করায় সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এবং এ কাজটি করা মানে নেত্রীর জন্য করা। কিন্তু যারা এ সুযোগটি নিতে পারলেন না আমি মনে করি তারা দল ও নেত্রীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করলেন না। ভবিষ্যতে নেত্রী যার পক্ষে থাকবেন আমরাও তার পক্ষে থাকবো।
সভায় আড়াইহাজারের ৬টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের ৬জন বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত প্রার্থীকে পরিচয় করে দেন সেখানকার এমপি নজরুল ইসলাম বাবু। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি।
আইভী ওই বিষয়টি উল্লেখ করে আইভী বলেন, ছোট ভাই বাবু এখানে ৬ জন চেয়ারম্যানকে নিয়ে এসেছেন নৌকায় পাশ করেছে বলে। অথচ আমাদের এমপিরা এখানে আসলেন না এখানে চেয়ারম্যানদের নিয়ে আসতে পারলেন না যে আমাদের নৌকা পাশ করেছে। কারণে অনেক জায়গায় নৌকাকে ডুবিয়ে লাঙলকে পাশ করানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের পদ পদবী নিয়ে লাঙলকে পাশ করানোর চেষ্টা করছে। মধ্যরাতে নাটকীয়ভাবে আওয়ামী লীগের কাজিমউদ্দিনের নৌকাকে ফেল করানো হয়েছে। অতীতেও নাজমা রহমানের নৌকার ব্যালট বাক্স ছিনতাই করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাকে বহু চেষ্টা করেছেন জামায়াত বিএনপি বানাতে। আমার বাবা চুনকা জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত দলের প্রতি নিবেদিত ছিলেন। আমিও সেই পথেই থাকবো। আমার বাবা আলী আহমদ চুনকা কে নিয়ে তারা অডিও ক্যাসেটও বের করেছিল, কিন্তু কোন লাভ হয়নি।

আইভী আরো বলেন, আওয়ামীলীগ একটা অনেক বড় দল এখানে মনমালিন্য থাকতে পারে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকতে পারে তবে আমরা সবাই এক আছি বলে আমার বিশ্বাস। আমরা আগামী ১৫ তারিখ আমার মনোনয়ন পত্র জমা দেব। তারপর আমরা বিধি অনুযায়ী কাজ শুরু করবো। এর আগ পর্যন্ত আমরা আচরণবিধি মেনে কাজ করবো বলে আমি আশা করি।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের সভাপতিত্বে সভায় এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর রহমান দিপু, রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভার মেয়র হাসিনা গাজী, সহ সভাপতি আসাদুজ্জামান, আবদুল কাদির, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।









Discussion about this post