স্টাফ রিপোর্টার :
পুলিশ সুপার মাঈনুল হোসেন শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করার নির্দেশ না মানায় এক বছর পূর্বে ২৬ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন শাহ পারভেজকে থানা থেকে ক্লোজ করার নির্দেশ দেন। ফুটপাত দখল করে শহরের চিহ্নিত চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কথা করতে গিয়ে মেয়র ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভীর সাথে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সাথে দ্বন্দের খবর সারাদেশে তোলপাড়ের সৃস্টি হয়।
বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত গড়ায় । এরপরও শহরের ফুটপাতে আবার সেই পুরানো চাঁদাবাজচক্র সক্রিয়। নির্বাচনকে সামনে রেখে এই চাঁদাবাজ চক্র এবং ফুটপাত দখলকারীরা বিভিন্ন সংসদ সদস্য প্রার্থীদের মিছিল মিটিংয়ে দেখা যায় প্রতিনিয়ত:।
জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ নারায়ণগঞ্জ শহরের কয়েক কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে বিশাল চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে পুরানো সেই চাঁদাবাজরাই। এ যেন নারায়ণগঞ্জ শহরে চাঁদাবাজির মহোৎসব চলছে প্রকাশ্যেই। চাঁদা আদায়কারীদের অন্যতম হোতা আসাদ বয়েছে বহাল তবিয্যতে আর নরসিংদীর রহিম মুন্সী, টাংগাইলের আনোয়ার মুন্সী, বরিশালের শহিদ, নাসির ওরফে কাইল্লা নাইচ্ছা, দুলাল, মহসিন, প্রয়াত চাঁদাবাজ মান্নান ভান্ডারীর ছেলে আশিক, নাতি মিলন, চাঁদপুরের রিপন, সোহেল, কালীরবাজারের তুলাপট্টির বিহারী গুজা চেয়ারম্যান, চশমা সেলিম, মুন্সীগঞ্জের নিজাম, তাহের মুন্সী, কলেজের সামনে রফিক, ২নং রেল গেইট ও আশেপাশের এলাকায় পলাশ, পাট ভবনের সামনের তিন ভাই, মোতালেব ভান্ডারী, সোলেমান, মন্ডলপাড়ায় চোরাই মোবাইলের লিটন, সকালের কাঁচা বাজারের শুক্কুর, সোহেল, জাকির, শীলার মা সহ আরো কয়েকজন চাঁদাবাজ প্রতিদিন চাঁদা আদায় করছে প্রকাশ্যেই। এককজন চাঁদাবাজ প্রতিদিন ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে। কথিত এক সাংবাদিক প্রতিদিন একাই ভাসমান ফাস্টফুটের গাড়ী থেকে ৭ হাজার টাকা চাঁদা। সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারী গোবিন্দসহ আরো কয়েকজনকে প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার টাকা দেয়া হতো উত্তোলিত চাঁদা থেকে।
এমন তথ্য প্রদান করে এক চাঁদাবাজ টাকা উত্তোলনকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, অনেক নেতা, কথিত সাংবাদিক, নাসিক কর্মচারী ও পুলিশের অসহয়োগিতায় ই ফুটপাতে এই চাঁদাবাজি হচ্ছে প্রতিদিন ।
বিশাল এই চাঁদাবাজির নেপথ্যে থেকে নানাভাবে কলকাঠি নাড়ছে নারায়ণগঞ্জ শহরের সাবেক কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা, আওয়ামীলীগ নেতা, সদর থানা, চাষাড়া ফাঁড়ির পুলিশ, কথিত সাংবাদিক, নাসিক কর্মচারী গোবিন্দসহ আরো কয়েকজন। স্থানীয় মাস্তান ও ছিনতাইকারী একটি চিহ্নিত চক্রও রয়েছে চাঁদাবাজির নেপথ্যে। নেতাদের চাঁদার বিশাল একটা অর্থ প্রতিদিন বন্টনের পাশাপাশি মিছিল মিটিংয়ে নিয়মিত লোক সরবরাহ করছে হকারদের চাঁদা আদায়কারীরা। আর এই নেতাদের নেপথ্যের সহায়তার কারণে নানাভাবে হুংকার দিয়ে শহরে অরাজকতার সাহস পাচ্ছে ফুটপাত দখলকারীরা।
ফলে ফুটপাত দিয়ে পথচারী সাধারণ মানুষ নানা বিরম্বনায় পরতে হচ্ছে প্রতিদিন।
প্রকাশ্যেই পুলিশ নিচ্ছে চাঁদা, লাইনম্যান খ্যাত চিহ্নিত অপরাধীরা বহাল তবিয়্যতে চাঁদা আদায়ের পাশাপাশি নেতাদের পাশে থেকে মিছিল মিটিংয়ে সরব উপস্থিতি থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা যেন অত্যান্ত ভীতিকর পর্যায়ে উপনীত হয়েছে ।
পথচারীরা চলাচলের বাধার কারণে কোন প্রতিবাদ করলে ফুটপাত দখলকারীরা হুমকি দিয়েই এখন বলে বেড়াচ্ছে, ”আমাদের উচ্ছেদ করতে এসে খোদ মেয়র আইভী নিজেই মাইর খাইয়া গেছে আর আপনারা কারা যে সড়ক/ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে।”
দখলকারী হকারদের এমন আস্ফালন প্রতিনিয়ত: সহ্য করে শহরবাসীর অনেকেই সমালোচনা করে বলেন, এই শহরের হকাররাই কি ভোটার । তাদের ভোটেই কি জিয়ী হবে আমাদের নেতারা ? তবে কেন শহরবাসীকে এতো ভোগান্তির পাশাপাশি হজম করতে হবে বহিরাগত হকারদের অত্যাচার ?
দীর্ঘদিন যাবৎ শহরের এমন দখলের ঘটনায় ফুটপাত দিয়ে চলাচল একেবারেই অনুপোযোগী হয়ে পরেছে নগরবাসীর জন্য। দখলকারীদের বিরুদ্ধে কথা বললেই মারমুখি আচরণ প্রায়ই সহ্য করতে হচ্ছে নগরবাসীর।









Discussion about this post