আমি এক নরপিচাশ, আমি খুনি । আমি চরম খারাপ লোক না হলে কেন এই শিশুদের এভাবে মারবো ! সামান্যজিদের জের ধরে তিন জনরে খুন করলাম ! আমি বিচারের আগেই ফাঁসি দিয়া দেয়া উচিৎ । এভাবেই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তির পর সিদ্ধিরগঞ্জের ট্রিপল মার্ডারের আসামী আব্বাস অকপেটেই নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট এর সাথে এমন মন্তব্য করেন।
নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট :
পারিবারিক কলহের জের এবং ত্রীকে প্রায় সময়ই মারধর করতো মাদকাসক্ত আব্বাস। এ ঘটনায় স্ত্রী, শ্যালিকা ও ভায়রা (স্ত্রীর বোনের স্বামী) সুমনের কাছে বিচার দিলে সুমন আব্বাসকে চর-থাপ্পড় দেয়। এই চর-থাপ্পরের ক্ষোভ ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শ্যালিকা (স্ত্রীর বোন), তার দুই মেয়েকে নির্মমভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে আব্বাস ।
শ্যালিকা নাজনীন (২৬), তার শিশু কন্যা নুসরাত (৮), খাদিজা (২) কে গলাকেটে খুন সহ নিজ প্রতিবন্ধী সন্তান সুমাইয়া (১৫) ছুরিকাঘাতে হতাহতের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ঘাতক আব্বাস সিনিয়িার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মিল্টন হোসেনের আদালতের খাস কামড়ায় তিনজনকে খুনের নির্মম তথ্য তুলে ধরে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধি প্রদান করেছে।
আদালতে এমন অকপটে স্বীকারোক্তির পর গণমাধ্যমকর্মীদের কাছেও দ্বায় স্বীকার করে পুলিশের উপস্থিতিতেই নিজের শাস্তি দাবী করে ঘাতক আব্বাস ।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং ওয়ার্ডের পাইনাদী সিআই খোলা এলাকার আনোয়ারের ৭ম তলা ভবনের ৬ষ্ঠ তলার পূর্বপাশের একটি ফ্লাট বাসা থেকে মা ও দুই মেয়ের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় আরেকজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পারিবারিক কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা ছিলো পুলিশের। পরে ময়না তদন্তের জন্য তিন জনের লাশ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।
নিহতরা হলো, মহানগরের আদমজী সুমিলপাড়া আইলপাড়া এলাকার সুমন মিয়ার স্ত্রী নাজনিন বেগম (২৮), তার মেয়ে নুসরাত (৫) ও খাদিজা (২)। নাজনিনের বোনের মেয়ে প্রতিবন্ধি সুমাইয়াকে (১৫) ছুরিকাঘাত করা হয়। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, ট্রিপল মার্ডারের কয়েক ঘন্টা পর আব্বাসকে সিদ্ধিরগঞ্জের পাওয়ার স্টেশনের একটি কমিউনিটি সেন্টারের টিবেলের নিচে পালিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করে। ঘাতক আব্বাস পটুয়াখালী জেলার পইক্কা গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। সে সিদ্ধিরগঞ্জ বাতেনপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকতো। পেশায় সে বাবুর্চী।
আদালতে স্বীকারোক্তি প্রদানের পর সাংবাদিকদের কাছে ঘাতক আব্বাস জানায়, “আমি এক নরপিচাশ, আমি খুনি । আমি চরম খারাপ লোক না হলে কেন এই শিশুদের এভাবে মারবো ! সামান্য জিদের জের ধরে তিন জনরে খুন করলাম ! আমি বিচারের আগেই ফাঁসি দিয়া দেয়া উচিৎ । এভাবেই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তির পর সিদ্ধিরগঞ্জের ট্রিপল মার্ডারের আসামী আব্বাস অকপেটেই নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট এর সাথে এমন মন্তব্য করেন। এ সময় আব্বাস স্বীকার করেন সে নিয়মিত গাজা সেবন ছাড়া অন্য কোন নেশা করে না ।
সিদ্ধিরগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর আবদুল আজিজ আদালত চত্তরে নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেটকে বলেন, আসামী আব্বাস অকপটেই এমন নির্মম হত্যাকান্ডের সকল তথ্য তকুলে ধরে স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে । তাকে বাড়তী কোন চাপও প্রয়োগ করা হয় নাই । নিজে থেকেই হত্যাকান্ডের নির্মমতা তুলে ধরেছে ।
আদালতের ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামান বলেন, আসামী আব্বাস তার দ্বায় আদালতের খাস কামড়ায় স্বীকারোক্তির পর বিজ্ঞ বিচারক আসামী আব্বাসকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ।









Discussion about this post