ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিটি এলাকার প্রধান প্রধান সড়কে কয়েক ঘন্টার জন্য জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলেও ফতুল্লার সকল এলাকায় জনভোগান্তি এরই মধ্যে চরম আকার ধারণ করেছে । রোববার রাত থেকে মুষলধারে শুরু হয়েছে এমন বৃষ্টি । এতে ফতুল্লার প্রায় সকল এলাকায় হাঁটুপানি নীচে।
এ ছাড়া বৃষ্টিতে বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে এলাকার ভিন্ন অলিগলিতে। বিভিন্ন কারখানার রঙ কেমিক্যাল মিশ্রিত দূষিত পানি দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে কর্মজীবী শিক্ষার্থীসহ সব পেশার লোকজনকে।
নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের অসাধু সকল কর্মকর্তা কর্মচারী, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং কয়েকজন চেলাচামুন্ডাদের নিয়মিত মাসোয়ারা দিয়ে এমন অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ী চক্র । যার কারণে এমন ভোগান্তি সারাবছর জুড়েই । অসাধু একজন ডাইং ব্যবসায়ী প্রভাবশালী এক রাজনীতিবিদের পুত্রের বিয়েতে ৩৬ লাখ টাকায় গাড়ী উপহার দিয়ে ওই ব্যবসায়ী তার অপকর্ম অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে । একই সাথে সংশ্লিষ্ট সকল আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাসোয়ারা দিয়েই চালিয়ে যাচ্ছে এমন গুরুতর অপরাধ ।
এলাকাবাসী জানান, ডিএনডি খালের সদর উপজেলার আশপাশে অধিকাংশ স্থানে ময়লা আবর্জনার জট থাকায় পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না। এতে ফতুল্লার সস্তাপুর, কোতালেরবাগ, ইসদাইর, কুতুবআইল, কায়েমপুর, রামাপাড়া, লামারবাগ, নয়ামাটি, দাপা, ইদ্রাকপুর, মুন্সিবাগ, নূরবাগ, শাহীবাজার, লালপুর এলাকায় হাঁটুপানি জমেছে। এই পানিতে কি পরিমাণ বিষাক্ত ক্যামিকেল তা সাদা চোখেই দেখা গেলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের কেউ তা চোখেই দেখে না ।
এসব এলাকায় রঙ কেমিক্যাল মিশ্রিত পানির সঙ্গে এলাকার ডাস্টবিনের ময়লা মিশে একাকার হয়ে গেছে।
কোতালেরবাগ এলাকার ব্যবসায়ী ইয়াসিন মিয়া জানান, অল্প বৃষ্টিতেই এলাকার বউ বাজারের সামনের সড়কে হাঁটুপানি জমেছে। আর এ পানি দীর্ঘদিন থাকে। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ময়লা আবর্জনায় ভরা পানি দিয়েই এলাকার মানুষের চলাচল করতে হয়। এতে বেশি সমস্যা হয় শিশুদের স্কুল-মাদ্রাসায় আনা-নেওয়ায়।
দাপা আদর্শ স্কুল এলাকার মাসুদ আলী জানান, বৃষ্টি ছাড়াই ফতুল্লা পাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে ময়লা পানি জমে থাকে। আর বৃষ্টি হলে সেই পানি বেড়ে বাসাবাড়িতে ওঠে।
মুন্সিবাগ নূরবাগ এলাকার আউয়াল মুন্সি জানান, আমাদের এলাকার সড়কগুলো নিচু অবস্থায় রেখে পাকা করা হয়েছে। এতে অল্প বৃষ্টিতে সড়কে হাঁটু পানি জমে। ফলে সড়কের অধিকাংশ স্থানই ভেঙে গেছে। এ সড়ক দিয়ে চলাচলে এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সস্তাপুর গাবতলা এলাকার সুমন রেজা জানান, সদর উপজেলার পুরাতন সড়ক সস্তাপুর গাবতলা থেকে চাঁনমারী ইসদাইর প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত সড়ক পাকা করলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এ ছাড়া সড়কের অধিকাংশ স্থানেই উঁচু-নিচু। বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি জমে থাকে। এ পানি সহজেই নিষ্কাশন হয় না। আর জমে থাকা পানির কারণে সড়কের পিচ ঢালাইও উঠে গেছে। দিন দিন সড়কটির অবস্থা নাজুক হচ্ছে। এ সড়কের পাশে একাধিক সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা এবং ঘনবসতি রয়েছে। ফলে এ সড়কে যাতায়াত করতে জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এলাকাবাসীর দাবি— ফতুল্লার প্রতিটি এলাকার সড়ক উঁচু করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা রেখে মেরামত করতে হবে ।
সন্ত্রাসী হামলা ও অসাধু ডাইং ব্যবসায়ীদের দৌড়াত্মে ভীত ফতুল্লার কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, এই ডাইং ব্যবসায়ীসহ প্রায় সকল অসাধু ব্যবসায়ীরা কি পরিমাণ অপরাধ কর্মকান্ডে লিপ্ত রযেছে তা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা স্বচ্ছ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিলেই ফতুল্লার জনদুর্ভোগ লাগব হবে । কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাধবে কে ? পিছনে তো রয়েছে সিংহের গর্জন ।









Discussion about this post