মোজা ফ্যাক্টরির সিকিউরিটি ইনচার্জ থেকে হাজারো অপরাধের পথ পাড়ি দিয়ে এলিট শ্রেণীতে কোটিপতি কাতারে ঠাই নিয়ে একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন নির্লজ্জ তোফাজ্জল হোসেন তাপু । ফতুল্লার ইউনাইটেড ক্লাবের সভাপতির পদে অধিষ্ঠিত হয়ে অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি করায় বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না তার (তাপুর) ।
এবার যে কোন মূল্যে আজ ১ নভেম্বর রোববার তোফাজ্জল হোসেন তাপুকে চাঁদাবাজি, ভাংচুর মামলায় জামিনে মুক্ত করতে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে তাপু বাহিনীর সদস্যরা । একই সাথে তাপুর নিয়ন্ত্রিত একাধিক কিশোর গ্যাং ফতুল্লার পঞ্চবটী এলাকায় নানাভাবে মহড়া দিয়ে এলাকাবাসীকে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে যাতে তাপু ও তার বাহিনীর কুকর্ম কেউ কোন সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ না করে । বর্তমানে তাপু কারাগারে থাকলেও পঞ্চবটীর কিশোর গ্যাং নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় এক বিশেষ পেশার নামধারী দালাল ।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার এলিট শ্রেণিদের ক্লাব হিসেবে পরিচিত দ্যা ইউনাইটেড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তাপু এখন একটি চাঁদাবাজী মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
এর আগেও তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন জুয়ার মামলায়। তবে তার এসব কর্মকান্ডের কারণে বার বার বিতর্কিত হচ্ছে ক্লাবটি।
ফতুল্লার পঞ্চবটির হোসেন জুট মিলে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজী, ভাঙচুর মামলায় ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করে পুলিশ। শুনানী শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়।
কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি রোববার ১ নভেম্বর জামিন শুনানির দিন ধার্য্য করেন বিজ্ঞ বিচারক ।
এর আগে ২৮ অক্টোবর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হোসেন জুট মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মেহেদী হোসেন মামলায় তাপু সহ ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে হোসেন জুট মিলের বাউন্ডারী দেয়াল ভাঙা, ২০ লাখ টাকার চাঁদাবাজী, ভাংচুর ও হুমকি দেয়ার অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে ফতুল্লার একটি নির্ভরশীল সুত্র নিশ্চিত করে জানায়, তাপুর বাবা জীবদ্দশায় এই হোসেন জুট মিলে চাকরি করতো । আর সেই জুট মিলে দলবল নিয়ে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে মামলার আসামী হয়ে কারাগারে রয়েছে তাপু ।
যে কোন মূল্যে যত টাকাই লাগুক জামিন করাতে প্রয়োজনে শীর্ষ পর্যায় থেকে তদ্বির করে হলেও জামিনে মুক্ত করতে শনিবার দফায় দফায় বৈঠক করেছে তাপু বাহিনীর লোকজন ।
গত বছরের ৩ অক্টোবর দ্যা ইউনাইটেড অ্যাসোসিয়েশন (ইউনাইটেড ক্লাব হিসেবে পরিচিত) এ অভিযান চালিয়ে তাপু সহ ৭ জুয়ারী গ্রেফতারের পর মামলা দায়ের করে তাদেরকে আদালতে পাঠায় পুলিশ।
তাদের কাছ থেকে ৩ বান্ডেল কার্ড, নগদ ২০ হাজার ৫শ টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত বাইরে থেকে যতটা আভিজাত্য ফুটে না উঠে ভেতরে প্রবেশ করলে চোখ ভড়কে যাওয়ার অবস্থা হবে। প্রতিটি কক্ষ সুসজ্জিত। সেগুন কাঠের নান্দনিক ইন্টেরিয়র ডিজাইন প্রত্যেকটি রুমে। আছে ভিআইপি কক্ষও। প্রবেশ করতে হয় কার্ড পান্স করে। ভিআইটি রুমে আছে একাধিক এয়ার কন্ডিশনার, বিশার আকৃতির টিভি, ফ্রিজ থেকে শুরু করে যাবতীয় সকল আয়োজন। তাস খেলার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা আছে টেবিল। আছে বিলিয়ার্ড বোর্ডও।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পঞ্চবটি শীষমহল এলাকাতে ‘‘দ্যা ইউনাইটেড অ্যাসোসিয়েশন (ইউনাইটেড ক্লাব হিসেবে পরিচিত)’’ এ অভিযান চালিয়ে এমন দৃশ্য দেখা মিলে।
ক্লাবের ভেতরে কয়েকটি ভিআইপি রুম আছে। সেখানে সকলের প্রবেশ করতে নিষেধাজ্ঞা আছে। বিশেষ কার্ড পান্স করেই ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। রাতে ক্লাবের মূল ফটক তালা মারা থাকে। নিচতলায় কমিউনিটি সেন্টার আছে। সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠানের বুকিং দেওয়ার কথা বলে ডিবি কর্মকর্তারা ভেতরে প্রবেশ করে।
জানা গেছে, ১৯৫৩ সালে শুরু হওয়ার এই ক্লাবটির ভেতরে রয়েছে আলিসান ব্যবস্থা। ভেতরে প্রত্যেকটি কোনে রয়েছে বিলাসিতা ও আভিজাত্যের ছোয়া যা যে কারো মন কাড়তে সক্ষম হবে। এর মধ্যে অনেকগুলো ভিআইপি কক্ষ রয়েছে।
শুরুতে সভা কক্ষ থাকলেও ভেতরে প্রবেশ করতেই ভিআইপি কক্ষগুলোতে মনোমুগ্ধকর ইন্টোরিয়র ডিজাইন করা সুসজ্জিত করা হয়েছে। দেয়ালে রয়েছে ওয়ালমেট সহ দামি দামি ছবি যা ঘরের শোভা আরো কয়েকগুণ বাড়িয়েছে।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসব কক্ষে গোল রাউন্ড করা টেবিলও রয়েছে। তবে এসব টেবিল কি কাজে ব্যবহৃত তা জানা যায়নি। ভিআইপি কক্ষে দামি দামি সোফা, এলিডি টিভি, ফ্রিজ সহ নানা আসবাবপত্র রয়েছে। এছাড়া ভিআইপি কক্ষের পাশে বিলিয়ার্ড খেলার বোর্ড ও জিম করার জন্য সুব্যবস্থা রয়েছে।
এছাড়া হাসনাহেনা, জবা, গোলাপ সহ বিভিন্ন ফুলের নামে কয়েকটি কক্ষ রয়েছে। এসব কক্ষের নাম নিয়ে আগুন্তকদের মাঝে বেশ কৌতুহল রয়েছে। তবে এ কক্ষগুলোতে কোন ধরনের অনৈতিক কর্মকা- চলে কিনা তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
তবে ক্লাবটির বাইরে থেকে দেখে ভেতরের বিলাসবহুল চিত্র সম্পর্কে কারো বোঝার জো নেই। কারণ বাইরে থেকে ক্লাবের গেটের ভেতরে প্রবেশ করতেই মাত্র দ্বিতল বিশিষ্ট একটি ভবনের ভেতরের বিশাল অবস্থার ব্যাপারটি ধারণা করাও সম্ভব নয়। যেকারণে ক্লাবের ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতেই বিলাসিতার ছোয়া দেখে চোখ কপালে উঠে যাওয়ার মত অবস্থা তৈরি হবে। এছাড়াও ক্লাবের প্রেসিডেন্ট সহ বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নামে বিভিন্ন কক্ষ বরাদ্দ করা আছে ।









Discussion about this post