আমি যখন আপনাদের সামনে বীজ্র উদ্বোধন করছি আপনাদের সাথে উন্নয়ন কর্মকান্ড করছি তখন আমার বিরুদ্ধে এই মূহুর্তে রাইফেল ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন হচ্ছে। সেই সাংবাদিক সম্মেলনটা কি? আমি ভূমিদস্যু। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে ৫৪০টি মসজিদ করে দিচ্ছেন। সেখানে নারায়ণগঞ্জ শহর, সিদ্ধিরগঞ্জ এবং বন্দরে একটি করে মসজিদ হবে। শহরে মন্ডলপাড়ায় ওয়াকফা এস্টেটের একটি জায়গা আমাদের সিটি করপোরেশনের সহযোগীতা নিয়েই তারা করতেছেন। প্রায় ১০ কোটি টাকার টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। আমি সেটা উদ্বোধন করেছি। এখন আমি এটা কেন উদ্বোধন করলাম এটাই হয়ে গেল আমার চরম অপরাধ। কেন আমি ওয়াকফ স্ট্যাট এর জায়গা ইসলামি ফাউন্ডেশনকে বললাম এই জায়গায় করেন এটা আমার চরম অপরাধ। অথচ দেখেন এতো একটি মসজিদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপহার দেওয়া হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বন্দর এবং সিদ্ধিরগঞ্জকে আমরা সেই দিকে তাকাচ্ছি। কিন্তু শত্রুতার কারনে মেয়র আইভীকে ভূমিদস্যু বানাতেই হবে সেজন্য কত ধরনের চক্রান্ত।
এ ভাবেই কঠোর সমালোচনা করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বক্তব্য রেখেছেন ।
শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নাসিকের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে মাহমুদনগর এলাকায় ৪ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মাহমুদনগর সেতু এবং এক কোটি ২৩ লাখ ব্যয়ে কবরস্থান নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলে।
আইভী বলেন, আমাকে ভূমিদস্যু বলুক আর বলুক না কেন। হিন্দু ভাইদের ক্ষেপিয়েছে, দেখছেন আপনারা হেফাজত আমাকে কিভাবে নাস্তানাবুদ করার চেষ্টা করছে। উপরে আল্লাহ একজন আছেন যিনি সব কিছুর বিচারক, যিনি সব কিছু দেখেন আর আমাকে মাজার পূজারী বলে কোন লাভ হবেনা। আমি মাজার ভক্ত একজন মানুষ। আমি সুন্নিয়তের একজন মানুষ, আমি অলি আল্লাহকে বিশ্বাস করি, রাসূলকে মানি। সুতরাং আমাকে ভয় দেখাবেন না। ভয় দেখানোর মানুষ আমি না। এখানে কদমরসুল আছে বলেই নবীগঞ্জের এতো সুনাম আছে। কদমরসুলে নবী করিম (সা:) এর পায়ের নকশা আছে বলেই আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী এতো ঝড় ঝাপটার পরেও মাথা উচু করে দাড়িয়েছি। নারায়ণগঞ্জ ৬৪ জেলা থেকে কোন অংশে কম নয়। এই ৬৪ জেলার মধ্যে বাকি ৬৩টা জেলার লোক নারায়ণগঞ্জ শহরের মধ্যে এসে কাজ করে কর্মসংস্থান করে। নিশ্চয়ই আমাদের পূর্ব পুরুষেরা কোন ভাল কাজ করেছে। আমাদের প্রচুর অলি আউলিয়া এখানে শায়িত আছেন। ১২ আউলিয়ার দেশ এই বাংলাদেশ। আপনারা বলেন মাজার পূজারী। এই দেশে যদি হযরত শাহাজালাল না আসতেন তাহলে আপনারা কেউ তো মুসলমান হতেন না। সুতরাং অলি আল্লাহদের নিয়ে যারা এভাবে কথা বলেন, বেয়াদবের বদ নসিব এবং আদাবে মুক্তি। ভক্তিতে মুক্তি, বেয়াদবে বদ নসিব। বেয়াদব বেয়াদবই থাকবে আমরা মানুষকে নিয়ে উন্নয়নের কাজ করবো। আমি দলমত নির্বিশেষে আপনাদের উন্নয়নে কাজ করবো।
তিনি আরও বলেন, ‘ইদানিং নারায়ণগঞ্জ শহরে কি পরিমাণ মিথ্যা কথার চর্চা যে হচ্ছে আমি তো অবাক হয়ে যাচ্ছি। গত ২-৩ মাস ধরে যেভাবে মেয়রকে ভূমিদস্যু বানানো হচ্ছে, যেভাবে শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে, নারায়ণগঞ্জেই থাকতে দিবে না, সেখানে আপনাদের এখানে আসার পর যেভাবে প্রশংসা শুরু করলেন কোনটা যে সত্য তা আল্লাহ জানে। আমি জানি আপনারা আমাকে অনেক ভালোবাসেন।’
মেয়র আইভী বলেন, ‘আমি নয় বছর ধরে সিটি করপোরেশনের হয়ে আপনাদের সেবা করছি। সমস্যা হয়ে গেল আমার ৩৬ জন কাউন্সিলর নিয়ে। তাদের যখন-তখন ডাকা হয়, মামলার ভয় দেখানো হয়। যদিও আমি কখনো তাদের কিছু বলি না। কেন রাইফেল ক্লাবে গেলেন, কেন সিগনেচার দিলেন, এই ধরনের প্রশ্ন আমার মধ্যে নাই। কারণ সবারই বিবেক আছে। তারা কী করে তাই সেটা নিয়া আমার মাথা ব্যথা নাই।’
মাহামুদনগর পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি ও সমাজ সেবক হুমায়ন কবির সভাপতিত্বে ব্রিজ উদ্ধোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাদামতলী ধান চাউল আড়ৎ বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ¦ ফয়সাল মোহাম্মদ সাগর, ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম নবী মুরাদ, ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহাম্মেদ ১৯,২০ ও ২১ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর শিউলী নওশাদ প্রমুখ। ব্রিজ উদ্ধোধন কালে উপন্থিত ছিলেন, মাহামুদনগর পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর, সমাজ সেবক হাজী আমির হোসেন, হাজী আব্দুল খালেক, আওয়ামীলীগ নেতা হিরো, হিমেলসহ স্থানীয় এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।









Discussion about this post