নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট :
বন্ধন পরিবহণ নিয়ে সংবাদ প্রচারের পর এবার ঘটনা ধামাচাপা দিতে মঙ্গলবার মধ্যরাতে বিশেষ মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে নানা অপকর্মের হোতা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করা নিউ সিটি বন্ধন পরিবহনের নিয়ন্ত্রক বিতর্কিত আইউব আলী ও তার নানা অপরাধের শেল্টারদারতা ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কাশিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম সাইফ উল্লাহ বাদল ।
মঙ্গলবার ৭ মে রাত সাড়ে ১১ টায় আইয়ুব আলী ও এম সাইফউল্লাহ বাদল এবং শহরের নানা অপরাধের যুক্ত আরো কয়েকজনকে সাথে নিয়ে শহরের প্রেসিডেন্ট রোড এলাকার জালাপিনো রেস্তোরার সামনে ঢাকা মেট্টো চ-১৯-১৮৮৬ নং মাইক্রোবাস নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায় দীর্ঘক্ষন । এমন রহস্যজনকভাবে এম সাইফউল্লাহ বাদল, বিতর্কিত আইউব আলী ও তার সাথে থাকা শহরের কয়েকজন কুখ্যাত ব্যক্তির পাহাড়া দেয়ার বিষয়টি প্রতিবেদক সহ অনেকের নজরে আসার পর দ্রুত ঘটনাস্থল শহরের চাষাড়া প্রেসিডেন্ট রোডে ত্যাগ করেন তারা ।
এর কিছুক্ষন পর শহরের দুই নং রেল গেইটের পূর্ব পাশে রাত ১২টা ১২ মিনিটের সময় গাড়ী নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে এম সাইফ উল্রাহ বাদল, আইয়ুর আলী , মোহাম্মদ হোসেনসহ আরো কয়েকজন ।
মধ্যরাতে ফতুল্রা ছেড়ে চাষাড়া এবং ২নং রেল গেইটে অবস্থানকালে “আইউব আরী রক্ষা মিশন কিনা ?“ নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট এর এমন প্রশ্নে “কি যে কও মিয়া“ বলে উত্তর দেন এম সাইফ উল্রাহ বাদল । এ সময় গাড়ীর ভিতর থেকে আইসক্রিম খাওয়ার আমন্ত্রণ জানালেও দ্রুত একটি ফোন পেয়ে ২নং রেল গেইট এলাকা ছেড়ে চলে যায় আইয়ুব আলী ও সাইফউল্লাহ বাদলবাহী গাড়ীটি । গাড়ীটির পিছু পিছু গোপনে ছুটতে থাকে জেলা পুলিশের বিশের শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মধ্যরাতেই নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ রুমন বলেন, পরিবহণ চাঁদাবাজ ও নানা অপরাধের হোতা আইউব আলীর বিষয়টি আমাদের পুরোপুরি নজরে রয়েছে । কোথায়, কি করে, কিভাবে টাকা লেনদেন করে ঘটনা দামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে তার উপর আমাদের পর্যবেক্ষন রয়েছে পুরোপুরি । একজন বিশেষ পেশার লোক এসে টাকা লেনদেন করার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে ।
প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে নিউ বন্ধন পরিবহনের কমিটি গঠন করা হয় ২০১৪ সালে। ওই সময়ে কমিটির সভাপতি করা হয় সালাউদ্দিন আহমেদকে। সেক্রেটারী হন মিলন হাওলাদার। কমিটির সহ সভাপতি ছিলেন আইউব আলী। ২০০৯ সালের জানুয়ারীতে এ আইউব আলীর নেতৃত্বে একদল পরিবহন নিয়ন্ত্রকেরা বন্ধন পরিবহন দখল করে নেয়।
এদিকে গত কয়েক বছর ধরেই বন্ধন পরিবহনে ব্যাপক চাঁদাবাজীর অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ী সিটি বন্ধন পরিবহনের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে থানায় অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। হরিলুটের অভিযোগ করায় উল্টো ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী একজন ব্যবসায়ী জানান, ৬ মে আইউব আলী উল্টো বাস মালিকদের হুমকি দিচ্ছে। তিনি বলছেন পুলিশ সুপার তথা এসপি সাহেব নাকি বেশীদিন টিকবে না। তখন আন্দোলনকরাদের দেখিয়ে দিব।
প্রতিদিন এই বন্ধন পরিবহনের আয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে অদৃশ্য কারো হাতে। এই অদৃশ্যকে খাতায় কলমে দেখানো হচ্ছে ম্যানেজমেন্ট এবং অন্যান্য ব্যায় হিসেবে। প্রতিদিন এই খাতে পরিবহন সংস্থাটি দিয়ে থাকে ৭১ হাজার টাকা। যা অনেক সময় আয়ের তারতম্যে বেড়ে যায়।
জানা যায়, প্রতিদিন কাউন্টার থেকে আয় হয় ৪৬ হাজার টাকা। অফিস বাবদ খরচ হয় সাড়ে ১১ হাজার টাকা। ম্যানেজমেন্ট ব্যয় হয় ৪১ হাজার টাকা, এনাদার ব্যায় দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। সব কিছু শেষে গাড়ির মালিক পায় ট্রিপ প্রতি ৭৭০ টাকা। দিনে ১০ ট্রিপ দিতে পারলে সেই গাড়ির মালিক পায় ৭ হাজার ৭ শত টাকা। এই হিসেবে বাস মালিকদের থেকে কয়েক গুণ বেশি আয় করে অদৃশ্যরা।
এই বন্ধন পরিবহনে রয়েছে ৫০টি বাস যার মালিক ৪২জন। ২০০৫ সালে শুরু হয় বন্ধন নাম দিয়ে ২০১৩ সালে অক্টোবর পর্যন্ত এর নিয়ন্ত্রণ কর্তা ছিলেন কয়েকজন। অবৈধ নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজী এবং লুটপাটের অভিযোগ তুলে বিলুপ্ত করা হয় বন্ধন। নতুন নামে আসে নিউ বন্ধন রূপে। তার আগে ৯৬ সালে বিএনপির ক্ষমতার সময় এই বন্ধন ছিল ডেভিডের ভাই তপনের নিয়ন্ত্রণে। বর্তমানে সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ জন হিসেবে এর নিয়ন্ত্রক হিসেবে রয়েছেন আইউব আলী। এমন অভিযোগ করেন আকরাম প্রধান নামের একজন বাস মালিক।
থানা অভিযোগে তিনি বলেন, আইউব আলী সংসদ সদস্যের এবং কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাছের মানুষ পরিচয় দিয়ে থাকেন।
তিনি মালিকদের জিম্মি করে রাখে। যে সব মালিক তাদের লুটপাটে অতিষ্ঠ হয়ে বাস নিয়ে বের হয়ে যেতে চায় তাদের কোন ভাবেই বের হতে দেয় না। যদি তারা বিক্রি করতে চায় তাহলে তা তারা নিজেরাই কম দামে কিনে নেয়। পরে তা বেশি দামে বিক্রি করে অন্যদের কাছে। এমনি করে মালিকদের জিম্মি করে রাখে। যারা একটু তাদের বাইরে কথা বলতে চায় তখনি তাদের উপর নেমে আসে অপমান-অপদস্থ। তার পরও কথা বলতে চাইলে তাদের হুমকী-ধমকী, ভয়-ভীতি দেখানো হয়। কোন কোন সময় মালিকদের গায়ে হাত তুলে এই চক্রটি। তাদের হাত থেকে বাঁচতে থানা-পুলিশের দ্বারস্থ হয় অসহায় এই মালিকরা।
বন্ধন পরিবহনে প্রকৃত অর্থে কত টাকা আয় হয়েছে বাস মালিকেরা জানে না। এ সরকার আসার পর বাস মালিকেরা কোনদিন হিসেবের খাতা পত্র দেখতে পায়নি।
জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করা নিউ সিটি বন্ধন পরিবহনের বেশ কয়েকজন মালিককে হুমকির অভিযোগ উঠেছে এ পরিবহনের নিয়ন্ত্রক বিতর্কিত আইউব আলীর বিরুদ্ধে। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে ৬ মে বেশ কয়েকজন বাস মালিককে ওই হুমকি প্রদান করেন আইউব আলী। তিনি বেশ কয়েকজন মালিককে এও বলছেন, ‘এসপি সাহেব তো বেশীদিন থাকবে না। তখন যারা আমার বিরুদ্ধে কথা বলছেন তাদের দেখিয়ে দিব।’









Discussion about this post