তিনি একজন গবেষক, রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি । একই সাথে লেখক,-কলামিস্ট, প্রাবন্ধিক মীর আব্দুল আলিম । যিনি নিজেকে সমাজ সেবক একই সাথে শিল্পপতি হিসেবেও প্রচার করতে পছন্দ করেন ।
তিনি ( মীর আব্দুল আলিম ) সকল গুণে গুণান্বিত হিসেবে পরিচয় দিতে প্রচার মাধ্যমকে নানাভাবে ব্যবহার করেন । নিজের ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি করতে এই প্রচার মাধ্যমে নানা প্রবন্ধ ইতিমধ্যে প্রকাশও করিয়েছেন । সেই গবেষক মীর আব্দুল আলিম রূপগঞ্জ থেকে দামী গাড়ী হাকিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের শহীদ মিনারে উপস্থিত হলেন বীরদর্পে । শতাধিক সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে শহীদ মিনারের বেদীতে উঠে আসেন জুতো পায়ে ।
এরপরও তিনি নানা উপাধিতে ভূষিত হতে নানা প্রাণপন চেষ্ট চালান । এমন সংবাদের এক সপ্তাহ পেরুতে না পেরুতেই সেই বিখ্যাত কলামিষ্ট , লেখক, প্রাবন্ধিক, প্রেস ক্লাবের সভাপতি, শিল্পপতি, দাতা, মানবাধিকার সংস্থাসহ লায়ন সংগঠনের নানা নাম ব্যবহারকারী সেই লায়ন মীর আবদুল আলিমের বিরুদ্ধে আরো কিছু চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে :
নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট :
নারায়ণগঞ্জ জেলার সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা রূপগঞ্জে অত্যান্ত দাপটের সাথে দলবল নিয়ে চলা ফেরা করেন লায়ন মীর আবদুল আলিম । তিনি কখনো বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এমপি (বীর প্রতীক) এর সাথে অত্যান্ত ঘনিষ্ট অবস্থানে থেকে ছবি তুলে তা প্রচার করেন নিজ ফেসবুক পেইজে ।
জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দিন, আবার রূপগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম এক সাথে ছবি তুলে একই পন্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেন নানা কারণে। পুরো রূপগঞ্জ এলাকায় দাপটের সাথে চষে বেড়ান তিনি । তার টিকিটিও স্পর্শ করতে পারেন না কেউ । তিনি ধরাকে সরা জ্ঞান মনে করেন।
সব চাইতে আশ্চর্যের বিষয় হলো তিনি রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসানের সাথে এক সাথে আড্ডা দেন, ভূড়িভোজ করেন , র্যালী করেন । আবার প্রকাশ্যে বিভিন্ন সভা সমারবশেও অংশ গ্রহণ করে নির্ধিদ্বায় । অথচ এই লায়ন মীর আবদুল আলিম যিনি এতো উপাধিতে ভূষিত সেই আলিমের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় ই রয়েছে অসংখ্য গ্রেফতারী পরোয়ানা।
নারায়ণগঞ্জে একাধিক ওয়রেন্ট নিয়ে পুলিশের ওসি, থানা নির্বাহী কর্মকর্তা , জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সবশেষ একজন পূর্ণঙ্গ মন্ত্রীর সাথে বসে থাকেন কি করে । এমন প্রশ্ন রূপগঞ্জের অনেকের ।
নাম প্রকাশ না করা অনুরোধে রূপগঞ্জ থানার একাধিক দারোগা বলেন, আলিম একজন দূর্ধর্ষ মুকোষধারী ব্যাক্তি । তার ভিতরে কি পরিমাণ হারামীপনা বিরাজ করে তা শুধু তার সাথে যারা মিশেছেন তারাই বলতে পারবেন । লায়ন মীর আবদুল আলিমের বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য ওয়ারেন্ট । এমন ওয়ারেন্ট মাথায় নিয়ে মন্ত্রী, ডিসি, ইউএনও, ওসিসহ সকলের সামনেই বীরের বেশে ঘুরে বেড়ান ভিআইপিদের সাইরেন যুক্ত গাড়ী নিয়ে । অথচ গত বছরের অক্টোবর – নভেম্বরের পর থেকে রূপগঞ্জ থানায় অসংখ্য গ্রেফতারী পরোয়ানা জমা আছে আলিমর বিরুদ্ধে । এ ছাড়াও অসংখ্য কেলেংকারীর ফিরিস্তি রয়েছে সকলের মুখে মুখে ।
সূত্রটি আরো জানায়, লায়ন মীর আবদুল আলিমের বিরুদ্ধে এমন গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিল করতে গেলেই তার নিয়ন্ত্রিত কয়েকজন বিশেষ পেশার লোক নিয়মিত উল্টোপাল্ট সংবাদ পরিবেশন করে পুলিশের বারোটা বাজাইয়া দিবো বইল্লাই মীর আবদুল আলিমকে গ্রেফতার করা যায় না । আর এই সুযোগ নিয়েই বীরদর্পে সর্বত্র চষে বেড়ায় আলিম ও তার বাহিনী ।
মীর আবদুল আলিমের বিরুদ্ধে একাধিক প্রেফতারী পরোয়ানার বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেটকে বলেন , আমি এই ওয়ারেন্টের বিষয় জানতাম । তিনি আমাকে বলেছিলেন জামিন নিয়ে থানায় কাগজ পাঠিয়ে দিবেন । তিনি পাঠিয়েছেন কিনা তা আমার জানা নাই । এখনি আমি ওয়ারেন্ট অফিসারের কাছে খোজ নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছি । আর তার গাড়ীতে পুলিশের সাইরেন্টের বিষয়ে আমার নজরে পরে নাই । বিষয়টি আমলে নিচ্ছি । অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো ।









Discussion about this post