সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
মানব পাচারকারী ও পতিতা ব্যবসায়ী শেফালী বেগম (৫০) ও মামুন (৩৫) নামে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১ এর সদস্যরা। শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারী) রাত ১১টায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমিপল্লী আবাসিক এলাকার একটি ভবন থেকে শেফালী বেগমকে গ্রেফতার করা হয়।
এসময় তার বাসা থেকে মানব পাচারের শিকার ২২ বছর বয়সী এক যুবতীকে উদ্ধার করে র্যাব। পরে আটককৃত শেফালী বেগমের স্বীকারোক্তি ও ভিকটিমের জবানবন্দী অনুযায়ী কদমতলী এলাকা হতে মামুন (৩৫) নামের মানব পাচারকারী চক্রের আরেক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার র্যাব-১১ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
র্যাব আরো জানায়, শেফালী বেগম দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে ফ্যামিলি বাসার ছদ্মবেশে পতিতাবৃত্তির ব্যবসা করে আসছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে যুবতী মেয়েদের অধিক বেতনে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারিত করে নিয়ে এসে জিম্মি করে জোরপূর্বক অসামাজিক (পতিতাবৃত্তি) কাজে ব্যবহার করত।
তাছাড়া তার অধীনে অনেক যৌনকর্মী ও খদ্দের রয়েছে। গ্রেফতারকৃত মামুন তার একজন নিয়মিত খদ্দের। পরিচয়ের সূত্রে মামুন উদ্ধারকৃত ভিকটিমকে অধিক বেতনে চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় নিয়ে আসে। প্রথমে ভিকটিমকে ঢাকার কমলাপুর এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে রাখে। মামুন হোটেল কক্ষে জোরপূর্বক ভিকটিমের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। পরে চাকুরী দেয়ার নামে প্রতারণা করে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভিকটিমকে শেফালি বেগমের হাতে তুলে দেয়। শেফালি বেগম ভিকটিমকে তার বাসায় জিম্মি ও মারধর করে নিয়মিত খদ্দেরদের সাথে অসামাজিক কাজে বাধ্য করত।
গ্রেফতারকৃত শেফালি বেগম ও মামুনের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মানব পাচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।









Discussion about this post