এনএনইউ রিপোর্ট :
ফতুল্লার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মীর হোসেন মীরুকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে আদালতে পাঠালে আদালত আগামী ২৭ জানুয়ারী শুনানীর দিন ধার্য করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত । এক ডজন মামলার আসামী দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মীর হোসেন মীরু মুখ ডেকে আদালতে হাজির করা হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সোমবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে তাকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল মহসিন আদালতে শুনানী শেষে মানবিক দিক বিবেচনা করে পুলিশী আবেদন বিবেচনায় রেখে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মীর হোসে মীরুকে আদালতে তোলার পর এজলাসের বাহিরে মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতির কারণে উপস্থিত অনেকের মাঝে সমালোচনার ঝড় উঠে।
গতকাল (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে পাগলার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পুলিশ। মীরু ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক। সোমবার মারামারির একটি মামলায় রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠায় ডিবি পুলিশ।
দীর্ঘদিন যাবৎ মীরু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর কারণে ফতুল্লা শিল্পাঞ্চল অশান্ত হয়ে অবস্থা বিরাজ করছে। মীরু ও তার বাহিনীর হাতে প্রচুর অবৈধ অস্ত্র রয়েছে বলে পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। ওইসব অস্ত্র উদ্ধারের জন্যই পুলিশ তাকে আটক করেছে। তাছাড়া গত ৩ দিন আগে এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মারধর করে মীরু ও তার বাহিনীর সদস্যরা ২ লাখ টাকা আদায় করেছিল। এ বিষয়েও ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচনের পর প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের গুলিতে মীরু কোমড়ে গুলিবিদ্ধ হয়। এরপরেই মূলত সে পঙ্গুত্ব বরণ করে।
কিন্তু পঙ্গুত্ব বরণ করলেও মীরু হুইল চেয়ারে বসেই ফতুল্লার অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে। এজন্য মীরুর রয়েছে একটি বিশাল সশস্ত্র বাহিনী। ২০১৬ সালে মীরুর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থানায় জমা পড়লে পুলিশ তাকে হুইল চেয়ারসহই গ্রেফতার করেছিল।
এর আগেও কয়েক দফা পুলিশ এই দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মীরুকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালে আদালত মানবিক দিক বিবেচনায় বারবার এমন সন্ত্রাসী মীরুর প্রতি সহানুভুতি দেখিয়ে জামিন ও রিমান্ড নামঞ্জুর করেছিলো আদালত। অথচ এই হুইল চেয়ারে বসে পুরো অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণকারী মিরু কখনোই আদালতের এমন আচরণকে শ্রদ্ধা না দেখিয়ে অপরাধ কার্য্যক্রম চালিয়েই যাচ্ছিলো।









Discussion about this post