নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপেডট :
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের কোন্দলকে কেন্দ্র করে শহরের একটি স্বার্থাণ্বেষী মহল নানাভবে ফায়দা হাসিল করে কোন্দলের মাত্র আরো বৃদ্ধি করে চলেছে । এমন বিশাল কোন্দলকে পুঁজি করে সব সময় ই শহরের অনেক অপরাধী নানাভাবে নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত থাকে । এবং নিজস্ব স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়ায় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী দ্বন্ধ দেখেছে পুরো দেশবাসী । তারপরও থামানো যাচ্ছে না দখলদার ও চাদাবাজদের দৌড়াত্ম ।
এমন দ্বন্ধের পরও থামানো যায় নাই রক্তক্ষয়ী দ্বন্ধের মূল হোতা খ্যাত নারায়ণগঞ্জের ফুটপাত চাঁদাবাজি চক্রকে । প্রতিদিনের মতো আজ রোববার ৭ এপ্রিল শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কসহ পুরো শহর জিম্মি হয়ে আছে হকারদের কাছে । ফুটপাত ও সড়কের পাশের এমন কোন স্থান নাই যেখানে দখল করে নাই হকাররা। এমন দখলদারীর করণে নগরবাসী চলাচল করে কিভাবে ? কে বন্ধ করবে এই দখলদারদের দৌড়াত্ম ? হত দরিদ্র বিবেচনায় হকারদের ফুটপাত দখল করলেও কোটি কোটি টাকার প্রকাশ্য চঁদাবাজি হচ্ছে কেন ? প্রকাশ্যে চাঁদা আদায়ের দৃশ্য দেখে এমন মন্তব্য করছে নগরের লাখো ভূক্তভোগি ।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে হকারদের কয়েকজন প্রতিবেদকের সাথে আলোচনাকালে জানান, আমরা ফুটপাতে বসে দোকানদারী করি পেটের দ্বয়ে । কিন্তু আমাদের প্রতিদিন একেকটি দোকানের খরচা হয় ১২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। আবার কোন কোন ফুটপাতের দোকানের খরচা হয় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত । শহরের মূল পয়েন্টের ফুটপাতের চাঁদা দিতে হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত । তাদের পুজিঁ বেশী আবার রোজিও বেশী বিবেচনা করেই চঁদা নেয় চাঁদাবাজরা ।
শহরের চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের মূল হোতা রহিম মুন্সি, আসাদুজ্জামান আসাদ, আলমগীর হোসেন পলাশ, পুলিশ পরিদর্শক সুরুজ মিয়া, আরিফ ও সোহেল। এসব চাঁদাবাজরা প্রতি বছরে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে নেতা, পুলিশসহ অনেক সেক্টরে বিতরণ করে যাচ্ছে । প্রতিদিন প্রায় লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের পর রহিম মুন্সি, আসাদুজ্জামান আসাদ, আলমগীর হোসেন পলাশ, পুলিশ পরিদর্শক সুরুজ মিয়া নিজেদের বন্টন বুঝে নিয়ে নেতাদের ও থানাসহ সকলের জন্য নির্ধারিত অর্থ বরাদ্ধ রাখে ।
খোজ নিয়ে আরো জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ হর্কাসলীগের নামধারী সভাপতি রহিম মুন্সি শহরের চাষাড়াস্থ হর্কাস মার্কেট থেকে বঙ্গবন্ধু সড়কের আমান ভবন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে কয়েক যুগ ধরেই । এই সড়কের পূবদিক ২৫০ এর অধিক হকারের দোকান থেকে প্রতিদিন দোকান প্রতি ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে । প্রতিদিন আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা এবং মাসে প্রায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা আদা করে থাকে। যা বছরের হিসেবে চাঁদা আদায় হয় আনুমানিক অর্ধ কোটি টাকা।
কথিত হর্কাস সংগ্রাম পরিষদের আহব্বায়ক আসাদুজ্জামান আসাদ নিয়ন্ত্রন করেন বঙ্গবন্ধু সড়কের গলাচিপা থেকে চাষাড়া মার্ক টাওয়ার ও শহীদ মিয়ার পর্যন্ত । এ সড়কে আনুমানিক ১৫০-১৭০ টি হকারের দোকান রয়েছে। প্রতিদিন দোকান প্রতি ৫০ টাকা করে যা দাড়ায় আনুমানিক ১০ হাজার টাকা । মাসে চাঁদা আদায় হয় ৩ লাখ টাকা। বছরে চাঁদা আদায় করা হয় ৩৬ লাখ টাকা।
আলমগীর হোসেন পলাশ নিয়ন্ত্রন করেন ২ নং রেলগেইট থেকে ১ নং রেলগেইট পর্যন্ত। ফজর আলী মার্কেট থেকে উৎসব বাস কাউন্টার পর্যন্ত চেম্বার রোড সড়কের রেল লাইনের পাশে কম করে হলেও ২০০ টির অধিক দোকান। উত্তর পাশের প্রতি দোকান থেকে প্রতিদিন ১০০ টাকা করে ১০ হাজার টাকা, দক্ষিন পাশে ৫০ টাকা করে আরো ১০ হাজার টাকা করে মোট দৈনিক আদায় হয় নিম্নে ২০ হাজার টাকা হাজার টাকা । মাসে চাঁদার পরিমান দাঁড়ায় ৬ লাখ টাকা বছরে চাঁদা আদায় করে চাঁদাবাজ পলাশ । পলাশ নিজে আবার চাঁদা আদায় করতে লোক নিয়োগ করে দিয়েছে । যাদের একেক জনের বেতন প্রতিমাসে বেতন ১০ হাজার টাকা ।
২নং রেল গেইট পুলিশ বক্সের পুলিশ পরির্দশক সুরুজ মিয়া নিয়ন্ত্রন করেন মন্ডলপাড়া থেকে নগর পাঠাগার পর্যন্ত। তিনি এই সড়কের আনুমানিক ২০ টি ভ্যান গাড়ির দোকান থেকে প্রতি সপ্তাহে ভ্যান প্রতি ২০০ টাকা করে মাসে ১৬ হাজার টাকা ব্যক্তিগত ভাবে আদায় করেন। বছরে চাঁদা আদায় করা হয় ২ লাখ টাকা।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের গলি থেকে পপুলার হাসপাতালের গলি পর্যন্ত নিয়ন্ত্রন করেন আরিফ। এখানে দোকান বসে সব মিলিয়ে ১শ টির মতো। দোকান প্রতি চাঁদা তোলা হয় ১শ টাকা করে। দৈনিক ১০ হাজার টাকা হিসেবে মাসে উঠানো হয় ৩ লাখ টাকা। বছরে চাঁদা আদায় করা হয় ৩৬ লাখ টাকা।
কালীবাজার ব্যাংক মোড় থেকে ফ্রেন্ডস মার্কেট পর্যন্ত চাঁদা তোলেন সোহেল। এখানে দোকান আছে ১৫০টি। ৫০ টাকা করে টাকা দৈনিক ৭ হাজা ৫শ টাকা চাঁদা উত্তোলন করে থাকে। মাসে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বছরে চাঁদা আদায় করা হয় ৩০ লাখ টাকা।
তালিকার এ সকল ব্যক্তিরা নিরীহ হকারদের জিম্মি চাঁদাবাজদের কথিত কয়েকজন নেতার নামে হুমকি ধমকি দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি । ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় দিয়ে এবং কিছু পুলিশ কর্মকর্তাকে মেনেজ করে চলছে চাঁদা তোলার মহা উৎসব চলছেই অভিরামভাবেই ।
নারায়ণগঞ্জ শহরের এমন দখল ও প্রকাশ্য চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে সদর মডেল থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত মিজানুর রহমান নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপেডেট কে বলেন, ফুটপাত দখল করার কোন সুয়োগ নাই । পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যেহেতু আজ বোরবার ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় শহরের এমন অবস্থা হয়েছে, আমি অবশ্যই বিষয়টি দেখছি ।









Discussion about this post