স্টাফ রিপোর্টার :
শহরের দেওভোগ থেকে শিশু সাদমান সাকি অপহরনের ঘটনায় শিশুর বাবা ও মামলার বাদী সৈয়দ ওমর খালেদ এপনের নানা অভিযোগ খন্ডন করে সংবাদ সম্মেরনের খবর প্রচারের পর এবার মুখ খুলেছেন নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) জয়নাল আবেদীন । আলোচনার এক পর্যায়ে জয়নাল আবেদীন অকপটেই স্বীকার করেন শিশু সাদমান সাকি নিখোজের মামলাটি একেবারেই দ্বারপ্রান্তে আসার পর মামলার বাদী নিজেই মামলাটি আর পরিচালনা করতে চান না বলে তার ভাইকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেয় ।
শিশুটি উদ্ধার না হওয়ার পিছনে মূল দ্বায়ী তার বাবা এপন নিজেই বলে মন্তব্য করেন জয়নাল আবেদীন । দ্বায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের উপস্থিতিতে আপালচারিতাকালে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেন শিশু সাদমান সাকি অপহরনের মামলার বিষয়ে ।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও বাংলাদেশ হোসিয়ারী এসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল আলম সজলকে দায়ী করে মানববন্ধনে এপনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার ১৮ মার্চ সংবাদ সম্মেলন শিশুটিকে উদ্ধারের দাবীও করেন সজল নিজেই । তিনি একজন বাবা হিসেবে নিষ্পাপ শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনাও করে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন ।
এমন সংবাদ সম্মেলনের পর ঘটনাটি নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সকল গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে প্রতিবেদকের সাথে খোলমেলা আলোচনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ইন্সপেক্টর অপারেশন জয়নাল আবেদীন বলেন, ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর দুপুরে দেওভোগ এলাকা থেকে অপহৃত হয় সৈয়দ ওমর ফারুক এপনের ছেলে সাদমান সাকি । এই ঘটনাটি অধিক গুরুত্ব দিয়ে আলফা ওয়ান ( পুলিশ সুপার স্যার ) নিজেই শিশুটির বাড়ীতে যান এবং কঠোর হস্তে তদন্ত করার আদেশ দেন । সে মোতাবেক শিশুটিকে উদ্ধার করতে দারোগা শামীম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলো। ডিস্মেবর ২৬ তারিখে ওসি শাহিন শাহ পারভেজের সাথে আলফা ওয়ানের ভূল বোঝাবুঝির কারণে গোলমেলে অবস্থার সৃষ্টি হয় থানায় । ওসির দায়িত্ব তখন পালন করছিলেন তদন্ত আবদুর রাজ্জাক । এই সময় শিশু সাকির বাবা খবর দিলো তার বাচ্চাকে ফেরত পেতে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী করে ফোন করেছে অজ্ঞাত ব্যাক্তি । তার যে অপহরণকারী তার প্রমাণ হিসেবে পরদিন সকালে তার বাচ্চার পায়ের জুতা এপনের বাসার সামনে ফেলে যাবে । অপহরণকারীর কথামতো বিকাশের মাধ্যমে ৪৫০০ টাকাও পাঠানো হলো । টাকা পাঠানার পর দিন সকালে সাকির পায়ের জুতা এপনের বাসার সামনে ফেলে যায় ।
তারিখ উল্লোখ না করে ইন্সপেক্টর জয়নাল আবেদীন আরো বলেন, এরপরও আবারো ফোন করে করে শিশু সাকিকে মুক্তিপন বাবদ ৫ রাখ টাকা দাবী করে । নইলে পরদিন বাচ্চার পরিহিত জামা আবার বাসার সামনে ফেলে যাবে বলে হুমকিও দেয় । অপহরণকারীর কথা মতো ফের সকালে ঘুম থেকে উঠে সাকির বাবা মা সাকির জামা কাপর তার দরজার সামনে দেখে হতবাক হয়ে পরে ।
এমন খবরে তৎপর হয়ে উঠে পুলিশ । আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরহরণকারীর অবস্থান পাওয়া যায় মামলার বাদি এপনের বাসার সাথেই । বারবার চেষ্টার পর মোবাইল ট্রেকিং করে পাওয়া যায় অপহরণকারী অন্য কেউ না তার (শিশুটির) আপন চাচা সাদিম আহমেদ । সেই মোতাবেক আটক করে থানায় আনা হলে মামলার বাদী সৈয়দ ওমর খালেদ এপন নিজেই তার ভাই সৈয়দ সাদিম আহমেদকে ছাড়াতে তৎপর হয়ে উঠে । থানায় ঘুরঘুর করতে থাকে সাদিমকে ছাড়ানোর জন্য । দারোগা শামীম ও আমার (জয়নাল আবেদীন) কাছে নানা ভাবে আকুতি করতে থাকে ।
এপনের আকুতি উপেক্ষা করে দারোগা শামীম ও আমি (জয়নাল আবেদীন) অপহরণ মামলার আসামী ও মোবাইলে মুক্তিপন দাবীকারী এবং সাড়ে ৪ হাজার টাকা বিকাশের মাধমে গ্রহণকারী সৈয়দ সাদিম আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলেই অচেতন হয়ে পরার অভিনয় করতে থাকে । অপরদিকে মামলার বাদী এপনের থানায় সার্বক্ষনিক অবস্থানের কারণে ঠিক মতো জিজ্ঞাসাবাদও করতে পারছি না । রাতের এক পর্যায়ে সৈয়দ সাদিম আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে সে অচতন হয়ে পরে । আমরাও নাছোরবান্দা যে কোন উপায়ে শিশুকে উদ্ধার করতেই হবেই । সে দিক বিবেচনা করে সৈয়দ সাদিম আহমেদকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই চিকিৎসা করাতে । তৎকালীন সময়ের চিকিৎসক সাদিমকে পর্যবেক্ষন করে কোন ওষুধ না দিয়ে বলেন, সাদিম সম্পূর্ণ সুস্থ্য সে অভিনয় করতেছে ।
এ সময় খবর পেয়ে আবার অপহৃত শিশু সাকির বাবা এপন পুলিশকে জানান, ”আমার ছেলে হারাইছি এখন আর ভাইকে হারাতে চাই না ।“
এপনের এমন জোড়াজুড়িতে তৎকালীন সময়ের সদর থানার দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাকের অনুমতিক্রমে হাতের নাগালে অপহরণকারীকে পেয়েও ছেড়ে দিতে হয়েছে বাদীর আপত্তির কারণে । এক্ষেত্রে পুলিশ অথবা অন্য কাউকে দোষারোপ করার কোন সুযোগ নাই মামলার বাদী এপনের ।









Discussion about this post