স্টাফ রিপোর্টার :
সিদ্ধিরগঞ্জের আধিপত্য বিস্তার ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে নাসিক প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতির উপর আক্রমন এবং পরবর্তিতে মতি বাহিনী আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ক্যাম্প (বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কার্যালয়) পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে দু’পক্ষ।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জের একক প্রভাবশালী কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতিকে আহত করার ঘটনায় তার ভাই মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে । অপর মামলা দায়ের করেন সাবেক কাউন্সিলর ইসমাইল হোসেনের ভাবী রোকেয়া বেগম । বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এ মামলা দু’টি দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিন শাহ পারভেজ ।
জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান মামলায় উল্লেখ করেন বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে বের হন। এ সময় পথিমধ্যে আসামিরা মতিকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করে। এতে সে মারাত্মক আহত হয়। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা বলে এজাহারে উল্লেখ করেন বাদী । মামলায় আসামিরা হলেন- ইসমাইল, হান্নান, ফারুক, মজিবর, নাঈম, আলমগীর, হাসান মোস্তফাসহ অজ্ঞাত ১৫ জন। মামলায় ফারুককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে ।
অপরদিকে পাল্টা মামলাটি দায়ের করেন ইসমাইলের ভাবী রোকেয়া বেগম। তিনি মামলায় উল্লেখ করেন সুমিলপাড়ার নতুন বাজার আবেদ আলীর হাজী বাড়িতে তার পৈতৃক সাড়ে ৩ শতাংশ জমি রয়েছে যা দখল করতে সেখানে আসামীরা দেশিয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের উপর হামলা করে তাদের বাড়িঘর ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। এতে তাদের কয়েকজন আহত হয় বলেও মামলা উল্লেখ করা হয়। মামলার বিবাদীরা হলো- রাজ্জাক, মনির, রফিকসহ অজ্ঞাত ১০ জন। এরা সকলেই মতির সমর্থক।
সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী নতুন বাজার এলাকায় আওয়ামীলীগের দুই সংঘর্ষের ঘটনায় কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতিসহ ১০ আহত হয়। মতি আহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ভাংচুর ও হামলা চালায়। পুড়িয়ে দেয়া হয় সিদ্ধিরগঞ্জ বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কার্যালয়টি।
পুরো সিদ্ধিরগঞ্জে দীর্ঘদিন যাবৎ চলমান থাকা প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতির একক আধিপত্য বিস্তার এবং সাবেক কাউন্সিলর ইসমাঈল হোসেন কোন ভাবেই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে না পেরে ক্ষােভের আগুনে ফুসছিলো দুই পক্ষই । একক ভাবে কাউন্সিলর মতি তেল সেক্টর নিয়ন্ত্রণ, ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও সকল ধরণের ভুমিদস্যুতার অভিযোগ ছিলো মতির বিরুদ্ধে । নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের আগে কাউন্সিলর নূর হোসেনের অপরাধ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যেমন কেউ কোন প্রতিবাদ করতে পারতো না, ঠিক একই কায়দায় আরেক নূর হোসেন হিসেবে মতিউর রহমান নিজেকে প্রতিষ্টিত করেছে । একই সাথে সকল ধরণের অপরাধসহ খুনের মতো ঘটনার জন্ম দিয়েছে মতি । এ ছাড়াও মতি নিজ কার্যাালয়ে সারাদিন ও মধ্যরাত পর্যন্ত নানা বিচার শালিশীর নামে এলাকায় সকলের উপর প্রভাব বিস্তার করে বেড়াতো কাউন্সিলর মতি । এমন জোড়ালো অভিযোগ রয়েছে কাউন্সিলর মতি বিরোধীদের মুখে। অপরদিকে সাবেক কাউন্সিলর ইসমাঈলের বিরুদ্ধে মতি বাহিনীর অভিযোগের আঙ্গুল ছিলো অনেক দিন যাবৎ।
এমন অসংখ্য পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও ক্ষোভের কারণেই বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় দুপক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে কাউন্সিলর মতির গালিগালাজের সুযোগে হামলার ঘটনা ঘটায় ইসমাঈল পক্ষ । আর এ ঘটনায় আগুণ জ্বলে উঠে সিদ্ধিরগঞ্জে ।









Discussion about this post