সোনারগাঁ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় যৌতুকের দাবীতে গৃহবধূ সালমা আক্তার (২৬) কে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার মাদকাসক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের সোনাপুর এলাকার আব্দুর কাদির মিয়ার ভাড়াটিয়া বাড়িতে। ঘটনার পর থেকে ঘাতক স্বামী তার সন্তান নিয়ে পলাতক রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সোনারগাঁ থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গতকাল বুধবার নারায়ণগঞ্জ জেলা হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আব্দুর রব মিয়া বাদী হয়ে বুধবার সন্ধায় সোনারগাঁ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের সোনাপুর এলাকার গত মঙ্গলবার বিকেলে আব্দুর কাদির মিয়ার ভাড়াটিয়া বাড়িতে বসবাসকারী মাদকাসক্ত ইকবাল হোসেন(৩৪) যৌতুকের দাবীকৃত ২০ হাজার টাকার জন্য তার স্ত্রী সালমা আক্তারকে চাপ প্রয়োগ করে । সালমা এ টাকা দিতে অস্বীকার করলে দুজনের মধ্যে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তার স্বামী সালমাকে বেধড়ক পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে একমাত্র সন্তান ইমরান (৬) কে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় ।
ঘটনার পর ভাড়াটিয়া বাসার আশপাশের লোকজন এসে খাটের উপর গৃহবধূ সালমার লাশ পরে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে একই এলাকায় বসবাসরত সালমার দুই বোন আরজুদা ও করমা এসে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে প্রেরণ করে।
নিহত গৃহবধূ সালমার বড় ভাই আব্দুর রব জানান, ইকবাল সব সময় নেশা করতো। সে আমার বোনকে মারধর করে বেশ কয়েক বার যৌতুক আদায় করেছে। সর্বশেষ ২০হাজার টাকা যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। আমার বোন এ টাকা পরিবার থেকে এনে দিতে অস্বীকার করলে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির জানান, কাঁচপুর সোনাপুর এলাকায় গৃহবধূ সালমা হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় অভিযুক্ত ইকবালের বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার বিকেলে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। ইকবালকে গ্রেফতারের জন্য ইতিমধ্যে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।









Discussion about this post