এনএনইউ রিপোর্ট :
হকার বসানো ও উচ্ছেদ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগের এমপি শামীম ওসমান ও সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর অনুসারীদের মধ্যে গত বছর ১৬ জানুয়ারী মঙ্গলবার বিকালে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিলো । এক বছর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের অভ্যন্তরীন কোন্দলের সুযোগ নিয়ে শহরের একটি চিহ্নিত চাঁদাবাজচক্র উস্কে দিয়েছিলো মেয়র আইভীর সাথে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের দ্বন্ধ । এমন দ্বন্ধকে পুজি করে নারায়ণগঞ্জের চাঁদাবাজ চক্রটি এখনো রয়েছে সক্রিয় ।
বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সকল পক্ষই বিব্রত বোধ করলেও চাঁদাবাজ চক্রটি এখনো বহাল তবিয়্যতেই আছে । সম্প্রতি নব নিযুক্ত পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ কঠোর পদক্ষেপ নিলে শহরে বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত থেকে সরে যায় হাকার ও চাঁদাবাজরা । এরপরও চলছে পুলিশের সাথে ইদুর বিড়াল খেলা । কোটি টাকার এই চাঁদাবাজি সহসাই এখনো হাতছাড়া করতে রাজি হচ্ছে না শহরের কিছু বাম নেতা, হকার নেতা ও পুলিশের অসাধু কয়েকজন কর্মকর্তা । 
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে ২০১৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর তৎকালীন পুলিশ সুপার মাইনুল হোসেন সদর থানা ওসি শাহিন শাহ পারভেজকে কঠোর আদেশ দেন। এমন আদেশ অমান্য করায় থানা তেকে ক্লোজ হন ওসি শাহিন শাহ পারভেজ। এরপর থেকেই চলে পাল্টাপাল্টি সভা সমাবেশ। ২০১৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ জানুয়ারী ১৬ মেঙ্গলবার বিকেলে চরম দ্বন্ধে শহরবাসী হতভম্ব হয়ে পরে।
এর আগে থেকেই বেশ কয়েকদিন যাবৎ এমপি শামীম ওসমান ও মেয়র আইভী সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিলো। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারী সোমবার বিকেলে সমাবেশ করে শামীম ওসমান। তিনি ঘোষণা দেন হকারদের পুনর্বাসনের আগে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মঙ্গলবার বিকেল ৫টা হতে রাত ১০টা পর্যন্ত হকার বসবে। কিন্তু ওই সময়ে আইভী এও ঘোষণা দেন কোনভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না।
এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে নগর ভবনের সামনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও কাউন্সিলরদের নিয়ে অবস্থান নেন মেয়র। সেখান থেকে আইভী মিছিল নিয়ে ফুটপাতের উপর দিয়ে চাষাঢ়ার দিকে আসতে থাকেন। অপরদিকে চাষাঢ়া শহীদ মিনারে হকারদের কয়েকটি গ্রুপ বিকেল সোয়া ৪টার দিকে অবস্থান নেন।
বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে আইভীর নেতৃত্বে মিছিল চাষাঢ়া সায়াম প্লাজার সামনে আসে। সেখানে কয়েকজন হকারকে ফুটপাত থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে ব্যাপক বাকবিতণ্ডা হয়। এছাড়া আইভীর মিছিলটি পুলিশও আটকে দেয়। পরে সায়াম প্লাজার সামনে ফুটপাতে মেয়র আইভীসহ তার সমর্থকেরা অবস্থান নেয়। 
ওই সময় শামীম ওসমানের অনুগামী হিসেবে পরিচিত চাষাঢ়া এলাকার নিয়াজুল সেখানে গেলে তাকে মারধর করা হয়। মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন গেলে তাকেও মারধর করা হয়। খবর পেয়ে চাষাঢ়া থেকে আওয়ামী লীগের মহানগর কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু সহ অন্যরা এগিয়ে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। হকাররাও তাদের পক্ষ নেন।
সায়াম প্লাজার সামনে ব্যারিকেডে রেখে লোকজন আইভীকে রক্ষা করেন। এসময় আইভী পায়ে আঘাত পান ও প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি শরীফউদ্দিন সবুজসহ অন্তত আরও কয়েকজন আহত হন। পরে লোকজন এসে আইভীকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে নিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময়ে উভয় পক্ষের লোকজন একে অন্যকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পুরো শহরে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল ও আশেপাশের দোকানপাট।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইভী বলেন, ‘আমরা শান্ত নারায়ণগঞ্জ চাই। আমি শান্তিপূর্ণভাবে লোকজনদের নিয়ে ফুটপাত দিয়ে চাষাঢ়া গিয়েছি। কিন্তু সেখানে বিনা উস্কানিতে আমাদের উপর হামলা করা হয়েছে। নিরীহ লোকজনদের মারধর করা হয়েছে। শামীম ওসমান রাইফেল ক্লাবে থেকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন। তার লোকজন একের পর এক গুলি করেছেন। প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরীহ মানুষের উপর হামলা করেছেন।
গত বছর ১৬ জানুয়ারী সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবে বসে আমি ডিসি ও এসপির প্রত্যাহার দাবী করেছিলেন আইভী ।
শামীম ওসমানের সাথে আইভীর অভ্যন্তরীন কোন্দলকে পুজি করে শহরের চাঁদাবাজ চক্রটি এতাবড় অঘটনের জন্ম দিলেও গত এক বছর হকারদের সকলেই শহরের ফুটপাত দখল করে জনসাধারণের বোগান্তির কারণ হয়ে দাড়িয়েছিলো । একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ কঠোর হুসিয়ারীর পর গত ৫/৭ দিন শহরের ফুটপাত ফাকা রয়েছে । হকারদের কেউ কেউ ফুটপাতে পসরা বসালেও পুলিশ দেখলেই আবার পারিয়ে যাওয়ার ঘটনা অহরহই দেখা যাচ্ছে । তবে হকারদের কারণে বর্তমান পেক্ষাপটে শহরবাসীর চলাচলে কোন বোগান্তি দেখা যাচ্ছে না ।









Discussion about this post