নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন কল কারখানা মিল ফ্যাক্টরীসহ নানা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিমাসে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নাম করে বিশাল চাঁদাবাজির কারণে ব্যাপক সারোচনা ছিলো দীর্ঘদিন যাবৎ । মাসোয়ার আদায়ের কারণে কোন সাড়াসী অভিযান না থাকায় বারবার পরিবেশের বিপর্যয় কে কেন্দ্র করে সমালোচনা ও উচ্চ আদালতের কঠোর আদেশের পর এবার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কে সাথে নিয়ে অভিযান চালিয়ে আবারো সমালোচনায় পাত্রে পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে একজন প্রবীন আইনজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আামাদের জুডিশিয়াল আদালতের বিজ্ঞ বিচারকগণ মূলতঃ ভ্রাম্যমান আদালত কিংবা কোন সংস্থার পক্ষ্যে বিচারক হিসেবে কাজ করতে দেখা যায় নাই । কিন্তু এবার আশ্চর্য হলাম আমাদের আদালতের বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার আলম কে নিয়ে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে । এমন অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ ভ্রাম্যমান আদালতে অভিযান পরিচালনা করেন । কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তর কেন আামদের জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মহোদয় কে নিয়ে গেলেন এই অভিযানে তা বোধগম্য হচ্ছে না ।
এমন মন্তব্যের পর তার নাম প্রকাশের অনুরোধ জানালে প্রবীন এই আইনজীবী বলেন আপাততঃ আামর নামটি প্রকাশে না করলেই খুশি হবো বলে মন্তব্য করে আরো বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে অনেকেই আলোচনা ও সমালোচনা করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তর কে নিয়ে । পরিবেশ অধিদপ্তরের কারণেই নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে সেখানে এই নাটক কিভাবে মঞ্চায়ন করার সাহস করছে আমরা অন্ততঃ বুঝি না । এমন অভিযানকে ভানুমতির খেলা বলেও মন্তব্য করেছেন এই আইনজীবী ।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ৪টি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে দু’টিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও অপর দু’টি ভাটার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশগত ছাড়পত্র ও ইট পোড়ানোর লাইসেন্স না থাকায় ইটভাটাগুলোকে জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার ফতুল্লার পাগলা এলাকায় বিশেষ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার আলমের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সহকারী পরিচালক শেখ মোজাহীদ।
ইটভাটাগুলো হলো : পাগলা এলাকার আব্দুল্লাহ ব্রিকস সাপ্লায়ারস-১, আব্দুল্লাহ ব্রিকস সাপ্লায়ারস-২, দাপা শৈলকুড়া এলাকার এস ইউ এ ব্রিকস, এম এস বি ব্রিকস। এর মধ্যে আব্দুল্লাহ ব্রিকস সাপ্লায়ারস-১ এবং আব্দুল্লাহ ব্রিকস সাপ্লায়ারস-২ এর বিরুদ্ধে বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। বাকি দু’টি ভাটা যথাক্রমে এস ইউ এ ব্রিকসকে ৭ লাখ টাকা ও এম এস বি ব্রিকসকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে ইটভাটাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধভাবে পরিচালিত পরিবেশ দূষণকারী ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।









Discussion about this post