নানা অপরাধের হোতা বন্দরসহ নারায়ণগঞ্জ জেলায় অসংখ্য অপরাধের কর্তা নিজ বাড়িতে টর্চার সেল তৈরী করে অনেক নিরীহ জমির মালিকদের দিনের পর দিন জিম্মি করে পিটিয়ে এবং গুম করে ফেলার হুমকির দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়ে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে লজিং মাস্টার থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া সেই গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ওরফে গিয়াস ভেন্ডারের ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
জালিয়াতির মাধ্যমে জাল দলিল সৃজন করে সাড়ে ১৪ একর জমি বিক্রির অপরাধে মহানগর জাতীয় পার্টির এই আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ওরফে গিয়াস ভেন্ডারকে সদর থানা পুলিশ ১১ মে বুধবার গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর ৫ দিন পর আজ সোমবার (১৬ মে) দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের আদালতে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শহরের শহীদনগর এলাকার ছায়াকুঞ্জ নামের সাড়ে ১৪ একর জমির জাল দলিল সৃজন করে প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে গিয়াস ভেন্ডারের বিরুদ্ধে।
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, আদালতে ৩ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
মামলার বাদি মো: আজিজুর রহমান মিঠুর দায়ের করা মামরা থেকে জানা যায়, মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী তাদের একান্ত পারিবারিক দলিল লিখক। এ সুযোগে গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বাদির সকল বিশ্বাস ভঙ্গ করে বাদির সহি সাক্ষর জাল করে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে জাল দলিল সৃজন করে উহাকে খাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছে। এ বিষয়টি তিনি জানতে পেরে গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী তাকে প্রাণনাশের হুমকী দেয়। পরে তিনি গত ৮ মে নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে পিটিশন দায়ের (নং ১৩৩) দায়ের করেন। পরে আদালতের বিচারক জাল দলিল সৃজনের অভিযোগটিকে গুরুত্বর উল্লেখ করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি রেকর্ড করতে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের আলোকে মঙ্গলবার রাতে সদর মডেল থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। পরে বুধবার তাকে বন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শহীদনগর এলাকার ম খন্ডের ছায়াকুঞ্জ নামের সাড়ে ১৪ একর প্লটের জমির জাল দলিল সৃজন করে মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ওরফে গিয়াস ভেন্ডার। পরে সেই জমি বিক্রি করার কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে ৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
এমন ঘটনা ছাড়াও অনেকেই বলেন, এই ভেন্ডার গিয়াস উদ্দিন পেটের দায়ে বন্দর এসে লজিং মাস্টারী করে খান বাড়িতে বিয়ের পর ঘর জামাই থাকে । কোন কাজ না থাকায় জমি জমা নিয়ে দৌড়ঝাপ শুরু করে । এক পর্যায়ে ভেন্ডারীর লাইসেন্স করে শুরু করে ভেন্ডারী কাজ । নারায়ণয়গঞ্জ আদালতের প্রতারক চক্রের সহায়তায় জাল দলিল, জাল স্ট্যাম্পসহ জাল জালিয়াতির কারবারে মহা ধূরন্ধর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তুলে । আর এই বিশাল অপরাধ ধামাচাপা দিতে রাজনৈতিক ছত্র ছায়া নিতে জাতীয় পাটিকে ব্যবহার করা শুরু করে । আলহাজ্ব নাসিম ওসমান জীবদ্দশায় তার সরলতার সুযোগ নিয়ে সকল ধরণের অপকর্ম শুরু করে এই ভেন্ডার গিয়াস উদ্দিন । বন্দরের নিজ বাড়িতে রেজিস্ট্রি কার্যালয় ভাড়া দিয়ে ঘুষখোড় রেজিস্টারদের ম্যানেজ করে এই রেজিস্টার অফিসের নীচ তলায় একটি টর্চার সেল গড়ে তুলে গিয়াস উদ্দিন। ভেন্ডার গিয়াস উদ্দিনের রয়েছে একাধিক গোপন বাহিনী । যাদের মাধ্যমে জাল দলিল ছাপানো, সরবরাহ, ক্রয় বিক্রয় করে যাচ্ছে অত্যান্ত গোপনীয়তার সাথে ।
অনেকেই আরো বলেন, শত শত কোটি টাকার মলিক এই ভেন্ডার গিয়াস বিগত সময়ে সেনাবাহিনীর হাতে কোটি কোটি টাকা নিয়ে গ্রেফতার হলেও বেশিদিন তারে কারাগারে আটকে রাখা যায় নাই । একই সাথে ওই মামলায় কোন শাস্তির খবরও পাওয়া যায় নাই ।









Discussion about this post