একটা বিজ্ঞাপন খুব বেশী মাত্রায় অনেকের নজর কেড়েছে । তা হলো, “দাগ থেকে যদি ভালো কিছু হয়, তাহলে দাগই ভালো।“ এই বিজ্ঞাপনের বাক্যগুলি এখনো অনেকেই বলেন নানা কারণে – অকারণে । যা এখন নাারয়ণগঞ্জ শহেরর স্বর্ণপট্টির অনেক ব্যবসায়ীর মুখে শোনা যাচ্ছে।
ভোর রাত সাড়ে তিনটা । একেবারেই নীরব পুরো নগরী । ১১ জুলাই মঙ্গলবার অর্থাৎ সোমবার দিবাগত রাত। তিন জন পুলিশ প্রতিরাতের মতোই নারায়ণগঞ্জ শহরের কালীর বাজারের স্বর্ণপট্টিতে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। কিছুক্ষন পর পর স্বর্ণপট্টির ফাতেমা টাওয়ারের সামনের সড়কের বৈদ্যুতিক খুঁটির তে স্পার্ক করছে। আর পুলিশের তিন জন সদস্যই কিছুক্ষণ পর পর দূর থেকে এসে তা সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষন করছেন।
পুলিশ বাহিনীতে যে চৌকষতার প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তার প্রমাণ করেছেন সারারাত জেগে স্বর্ণপট্টি পাহাড়া দেয়া ওই কয়েকজন পুলিশ সদস্য। তাদের দূরদৃষ্টিতার কারণে রক্ষা পেয়েছে স্বের্ণ পট্টির বিশাল অগ্নিকান্ড থেকে।
রাতের নীরবতা বৃদ্ধির সাথে সাথে কালীর বাজার স্বর্ণপট্রির ফাতেমা টাওয়ারের স্বর্ণ মার্কেটের ভিতর থেকে প্রথমে স্টার জুয়েলার্স, এরপর সিঙ্গাপুর জুয়েলার্স থেকে ধোয়ার কুন্ডলী বের হবার সাথে সাথেই পুলিশ প্রথমে ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ অফিস এবং তাদের উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন । একই সাথে পুলিশে টহল টিম ঘটনাস্থলে আসার জন্য অনুরোধ করেন।
এরই মধ্যে ডেকে আনা হয় স্বর্ণ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের। সর্বোচ্চ ১০ মিনিটের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থল ফাতেমা টাওয়ারে এসে সকল স্বর্ণের দোকানের স্ব স্ব কর্তৃপক্ষ দোকান খুলে দেখা গেলো মাতৃ জুয়েলার্সের ভিতরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে । যার কারণে বৈদ্যুতিক মিটার পুড়ে ছাই হয়ে আগুল জ্বলছেই । আগুণ নিভানোর সময় পুলিশ আরো সতর্কতার সাথে নিজেদের কাজ চারিয়ে যাচ্ছেন। কেউ যাতে জুয়েলার্সের ভিতরে প্রবেশ করে ভিন্ন কোন অঘটন ঘটাতে না পারে সেদিকেও কঠোর দৃষ্টি রাখে ওই পুলিশ ।
আগুণ পুরো পুরি নিয়ন্ত্রণে আসলেও বিদ্যুৎ বিভাগের কিল্লার পুলে কার্যালয়ে বারবার ফোন করে যোগাযোগ করলেও উল্টো রাসেল মিয়া নিজেকে কমপ্লিন অফিসার (সিও) পরিচয় দিয়ে সকাল ৪ টা ৪৭ মিনিটে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন করনে। মাত্র ২ কিলোমিটারের ফাঁকা সড়ক গাড়ীতে পাড়ি দিতে সময় ব্যায় করে ২ ঘন্টা । পরবর্কতীতে ভোর পাঁচটায় বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন এসে বৈদুতিক সংযোহগ বিচ্ছিন্ন করলে স্বস্তি আসে ব্যবসায়ী ও এলাকবাসীর মাঝে।
এ সময় উপস্থিত অনেকেই বলেন, স্বর্ণপট্টির একটি চিহ্নিত স্বার্থণ্বেষী মহল দীর্ঘদিন যাবৎ নিজেদের কে কখনো নেতা, কখনো সভাপতিসহ নানা ভূয়া পরিচয় দিয়ে সদর থানা পুলিশের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করে আসছে প্রতিটি স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। ওই স্বার্থান্বেষী মহলের বিরোধপূর্ণ বাড়ি রক্ষার্থে (ওয়ারিশগণ যাতে হামলা না করে) অত্যান্ত কৌশলে পুলিশকে স্বর্ণ পট্টির নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে ব্যবহার করছে বছরের পর বছর যাবৎ। ওই চক্র কখনো নাসিক মেয়র ডাঃ আইভীর নাম ব্যবহার করে, কখনো সদর থানার ওসির নাম ব্যবহার করে আবার কখনো স্থানীয় কাউন্সিলরের নাম ব্যবহার করে স্বর্ণ পট্টির প্রধান সড়কের উভয় পাশে বিশাল গেইট স্থাপন করে স্বর্ণপট্টির নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে জনভোগান্তির সৃস্টি করছে । মহাধূরন্ধর এই চক্রটির কারণে অসুস্থ্যদের বাড়ির বাইরে যেতে হলে পুলিশী দোহাই দিয়ে হয়রানী করেই যাচ্ছে প্রতিনিয়তঃ। রাতে আগুনের সূত্র হলে ফায়ার সার্ভিস এবং বিদ্যূতের গাড়ি আটকে থাকে এই গেইটের কারণে।
এতো হয়রানীর পরও কেউ কেউ আরো বলেন, “পুলিশের চৌকষ দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই বিশাল অগ্নিকান্ড থেকে রক্ষা পেলো পুরো স্বর্ণ পট্টি । তাই, “দাগ থেকে যদি ভালো কিছু হয়, তাহলে দাগই ভালো !” তবে পুলিশ থাকুক তবে কারো ব্যক্তিস্বার্থের হাতিয়ার যাতে না হয়।









Discussion about this post