অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী নারায়ণগঞ্জের শাসক দলের রাজনীতিবিদদের শেল্টারে পরিচালিত এবং বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাসের চেলা হিসেবে পরিচিত সেই জি কে শামীমের বিরুদ্ধে এবার আরো একটি মামলায় সাজার রায় ঘোষনা করেছে আদালত।
যুবলীগের কথিত নেতা ও গণপূর্ত বিভাগের অস্ত্রধারী ঠিকাদার জিকে শামীমের এমন সাজার পর এবার মাথায় হাত পরেছে নারায়ণগঞ্জে কয়েকজন (চাঁদাবাজদের) শেল্টারদাতার।
মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় সাজা ছাড়াও অসংখ্য মামলায় জিকে শামীমের সকল অপকর্মের ফিরিস্তি ইতিমধ্যেই গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে । নারায়ণগঞ্জের শাসক দলের কয়েকজন নেতা, একজন প্রভাবশালী এমপি, একজন ঠিকাদারের সাথে একজন রাজাকার পুত্রের বিশাল অর্থনৈতিক লেনদেনের সকল তথ্যই হাতে রয়েছে রাষ্ট্রিয় সকল গোয়েন্দা সংস্থার কাছে। কুখ্যাত অপরাধী জিকে শামীমের এমন সাজার খববে নড়েচড়ে বসেছে নারায়ণগঞ্জের ওই চিহ্নিত চক্র ।
মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় আলোচিত ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের ১০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৭ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। এ ছাড়া বাকি ৭ আসামির প্রত্যেকে চার বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. মোরাদ হোসেন, মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. শহীদুল ইসলাম, মো. কামাল হোসেন, মো. সামসাদ হোসেন ও মো. আনিছুল ইসলাম।
এর আগে ১৫ জুন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৫ জুন দিন ধার্য করেন। গেল ২৫ জুন মামলার রায় ঘোষণা ও অধিকতর যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন আসামি পক্ষের আইনজীবী অধিকতর যুক্তি উপস্থাপন করেন। এরপর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মামলার রায় ঘোষণা ১৭ জুলাই নতুন দিন ধার্য করেন।
২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সাত সশস্ত্র দেহরক্ষীসহ জি কে শামীমকে তার কার্যালয় থেকে আটক করে র্যাব। এসময় তার কার্যালয় থেকে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা, ৯ হাজার ইউএস ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুরের ডলার, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর, অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। এরপর জি কে শামীমের বিরুদ্ধে র্যাব বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। অস্ত্র আইনের মামলা নম্বর ২৮(০৯)১৯, মানি লন্ডারিং আইনের মামলা নম্বর ২৯(৯)১৯ ও মাদক আইনের মামলা নম্বর ৩০(৯)১৯।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু সাঈদ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৪ আগস্ট আদালতে জি কে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় চার্জশিট দাখিল করেন। ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত। মামলাটিতে চার্জশিটভুক্ত ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর অস্ত্র আইনের মামলায় জিকে শামীমসহ তার ৭ দেহরক্ষীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।









Discussion about this post