মর্গের সামনে আহাজারি করছিলেন শাহেদ ইকবাল। ছোট ভাই শাহাবুদ্দিন শাবুর লাশ নিতে এসেছেন তিনি। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘মাকে কীভাবে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর খবর দেব ? মাকে আমি কী জবাব দেব । মা ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর খবর কোনোভাবেই সহ্য করতে পারবে না।’
নিহত শাহাবুদ্দিন শাবু (৪৫) শহরের জামতলা এলাকায় ভাড়া থাকতেন। মোনালী এন্টারপ্রাইজ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে বিপণন কর্মকর্তা পদে কাজ করতেন। তাঁদের বাড়ি যশোর জেলার চৌগাছা ইউনিয়নের ষোলওয়া এলাকায়।

মর্গের সামনে শাহেদ ইকবালকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন ছোট বোনের জামাই আবুল কালাম আজাদ, সহকর্মী শাহীন মিয়া ও মোনা এন্টারপ্রাইজের মালিক স্বপন মিয়া। কিন্তু কিছুতেই শাহেদের কান্না থামছিল না।
শাহেদ ইকবাল বলেন, তাঁর ছোট ভাই সকালে বাসা থেকে কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যান। পুলিশের কাছ থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে ছুটে আসেন। ভাবতেই পারছেন না ছোট ভাই আর নেই।
প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লার পঞ্চবটী বিসিক শিল্পনগরীতে ফকির অ্যাপারেলস নামের একটি পোশাক কারখানায় আগুনের খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে যাচ্ছিল। ফায়ার সার্ভিসের গাড়িটি শহরের চাষাঢ়ায় সান্ত্বনা মার্কেটের সামনে গেলে গাড়িচালক জাহাঙ্গীর হোসেন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যান। এদিকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আনন্দ পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস, একটি প্রাইভেট কার ও তিনটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে আনন্দ পরিবহনের বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে শাহাবুদ্দিন মারা যান। বাসের চাকা কেটে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, ফায়ার সার্ভিসের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর হোসেনকে হাসপাতালে নেওয়ার আগে মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় আহত হন আরও সাতজন। বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্যাটারিচালিত অটো রিকশাচালক সিরাজুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে।
শাহাবুদ্দিনের ছোট বোনের জামাতা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২০ বছর আগে শাহাবুদ্দিন ও শাহেদ যশোর থেকে নারায়ণগঞ্জে চলে আসেন। তাঁরা চার ভাই ও চার বোন। এর মধ্যে শাহাবুদ্দিন দ্বিতীয়। তাঁরা ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
একই হাসপাতালে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির চালক জাহাঙ্গীর হোসেনের মৃত্যুর খবর পেয়ে রাজধানীর মুগদা থেকে ছুটে আসেন ভাগনি ফারহানা ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁর মামার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বড় মেয়ে এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তাঁরা খবর পেয়ে কুমিল্লা থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
ফারহানা আরও বলেন, তাঁর ছোট মামা (জাহাঙ্গীর হোসেন) সবার আদরের। তিনি সবার বিপদে পাশে দাঁড়াতেন, সবার খোঁজ খবর রাখতেন। কেউ কোনো দিন তাঁর বিরুদ্ধে কোনো খারাপ কিছু বলতে পারবে না। তাঁর মামার আগে কোনো অসুখ ছিল না। হঠাৎ গাড়ি চালানোর সময় স্ট্রোক করে মারা গেলেন তিনি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান বলেন, শাহাবুদ্দিনের পরিবার ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। ফায়ার সার্ভিসের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর হোসেনের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিরাজুল ইসলাম নামের অটোরিকশা চালকের মৃত্যু হয়েছে।









Discussion about this post