শহরের চাষাঢ়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আমজাদ হোসেন (৫২) এর মৃত্যু হয়েছে। রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। আমজাদ হোসেন চাষাড়ায় মামুন পরিবহন নামের টিকিট কাউন্টারে ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতেন।
এর আগে ব্যাটারি চালিত রিকশা (মিশুক) চালক সিরাজুল ইসলামের (৫০) মৃত্যুবরণ করেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা চার জনে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার (২৪ জুলাই) গুরুতর আহত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত সিরাজুল ইসলাম মাসদাইর পাকাপুল এলাকার বাসিন্দা। ওই এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া আরেক রিকশাচালক মো. সবুজ বলেন, একই গ্যারেজের রিকশা চালান তারা। সকালে রিকশা নিয়ে বের হন সিরাজুল। চাষাঢ়ায় দুর্ঘটনায় তিনি আহত হয়েছেন খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে যান। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলেন চিকিৎসক। ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, দুপুর আনুমানিক দুইটার দিকে সিরাজুল ইসলামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সোমবার সকাল এগারোটায় ফতুল্লার বিসিক এলাকার একটি পোশাক কারখানার আগুন নেভাতে যাওয়ার পথে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারালে এর চালক ও একজন পথচারী ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহত জাহাঙ্গীর হোসেন (৫০) নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের গাড়িচালক এবং সালাউদ্দিন সাবু (৪৮) শহরের জামতলা এলাকার বাসিন্দা।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক ফখর উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, গাড়ির চালক জাহাঙ্গীর হোসেন হঠাৎ স্ট্রোক করেন ঢলে পড়েন। তখন গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশে থাকা কয়েকটি বাহনে ধাক্কা দেয়। এতে দুর্ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। তারা হলেন- নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকার ইরানি (২৬), জামতলা এলাকার সারা (১৮), একই এলাকার নাজমা (৪০), চাঁদমারী এলাকার আমজাদ (৪৫), খানপুর সরদারপাড়া এলাকার রোকন (৪০) এবং মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরের রেশমা (৪০)। আহত অবস্থায় তাদের নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে আনা হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ওয়ার্ডবয় সৌরভ বলেন, চাষাঢ়ায় দুর্ঘটনায় আহত সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। বাকি দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। রোকন নামে একজন অর্থপেডিক ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির চালক জাহাঙ্গীর হোসেনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে স্ট্রোকে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।









Discussion about this post