নারায়ণগঞ্জ তথা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী ‘বোস কেবিন’ বিক্রি কার হয়েছে গোপনে। এমন গুঞ্জন থেকে শুরু হওয়া নতুন করে কানাঘুঁষা ঢালাপালা মেলেছে মারাত্মকভাবে। ব্যাপক গুঞ্জন থেকে ঢারপালা মেলে এমন গুঞ্জনের প্রতিফলন ঘটেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এতেও ক্ষান্ত হয় নাই অর্বাচিন চক্র।
‘কানে হাত না দিয়ে কান নিয়ে গেছে চিলে’ সেই ভ্রান্ত চিন্তা থেকে কেউ কেউ নানাভাবে প্রচার অপপ্রচারও চালিয়েছে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী ‘বোস কেবিন’ বিক্রি করে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বর্তমান কর্ণধার তারক বোস ওরফে বোম্বে দেশে ছেড়ে চলে গেছে।
বেশ কিছুদিন যাবৎ এমন ব্যাপক গুঞ্জনের পর তারক বোস তার ফেসবুক টাইমলাইনে এক স্ট্যাটাসে দিয়েছেন এমন গুঞ্জনের জবাব।
তারক বোষ তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন :
কিছুদিন যাবৎ বোস কেবিন সম্পর্কে পেপারে আসছে । গত ৮ মাস যাবৎ আমার সহধর্মীনী লিভারের জটিল রোগে ভূগছিল, এখনো তার চিকিৎসা চলছে । যার কারণে আমার তার সাথে সবসময় থাকতে হয়। অযথা কোন গুজবে বোস কেবিনের সম্মানিত গ্রাহকগণ কান দিবেন না। বোস কেবিন যেমন আছে তেমই থাকবে । সবাই আমার সহধর্মীনীর জন্য দোয়া করবেন । সে যেন দ্রুত সুস্থ হয় এবং আমি আপনাদের মাঝে ফিরে আসি…….
এমন স্ট্যাটাসের পূর্বে কেউ কেউ বলছেন এটা বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। মালিক পক্ষ ভারতে অবস্থান ও স্থায়ী হওয়ার কারণে তিনি আর দেশে আসছেন না। সে কারণেই বিক্রি করে দিয়েছেন। শহরের একটি রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানার মালিক সেটা কিনে নিয়েছেন। তবে অপর একটি পক্ষ বলছেন, বোস কেবিন বিক্রি হয়নি। সবকিছু উড়ো খবর। আর বোস কেবিনের বর্তমান পরিচালনা করা লোকজন রীতিমত মুখে কুলুপ এটেছেন।
জানা যায়, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৭১’র মুক্তিযুদ্ধ এমনকি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বোস কেবিনের অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মতো অনেক নেতা এই বোস কেবিনের চা পানে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছেন। এমনকি সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হকও এখানে এসেছিলেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলার ১ ও ২ নম্বর রেলগেটের মাঝামাঝি ফলপট্টির কাছাকাছি রেললাইনের পাশেই বোস কেবিনের অবস্থান। একটি টংঘরের মধ্য দিয়ে এই বোস কেবিনের যাত্রাশুরু ১৯২১ সালে। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন নৃপেণ চন্দ্র বসু। তবে তিনি এলাকায় ভুলুবাবু নামেই অধিক পরিচিত। তার আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের ষোলঘরে।
জীবিকার সন্ধানে ২০ বছর বয়সে ঢাকায় আসেন ভুলু বোস। শুরুতে তেমন কোনো কাজ না পেয়ে একটি ছোট টংঘরে কড়া লিকারের চা, লাঠি বিস্কুট ও বাটার বিস্কুট নিয়ে বিক্রি করতে বসে যান তিনি। সে সময়ই সমাদৃত হয় তার কড়া লিকারের রং চা। তাই আস্তে আস্তে তখনই তাঁর দোকানটি জনপ্রিয়তা পেতে থাকে। ধীরে ধীরে দোকানের কলেবর বাড়তে থাকে, নাম হয় ‘নিউ বোস কেবিন’।
১৯৩৭ সালে একবার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু নারায়ণগঞ্জে এসেছিলেন। সেসময় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে ভুলুবাবু কড়া ও হালকা লিকারের দুই কেটলি চা বানিয়ে ছুটলেন নেতাজির জন্য। সেই চা খেয়ে তখন খুবই খুশি হয়েছিলেন নেতাজি, আশীর্বাদও করেছিলেন।
জানা গেছে, বোস কেবিনের বর্তমান মালিক ভুলুবাবুর নাতি তারক বোস। দীর্ঘদিন যাবত বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন। সম্প্রতি এটা বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে গুঞ্জন রটে যাচ্ছে।









Discussion about this post