জান্নাত আরা ঝর্ণা কে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগে সোনারগাঁয় থানায় হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ধর্ষণ মামলায় নারায়ণগঞ্জ আদালতে আরো দুইজনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, মামলায় এখন পর্যন্ত ২৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মামুনুল হকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক নয়ন জানান, আরো দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণ আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রতীয়মান হয়েছে যে মামুনুল হক নির্দোষ, আমরা ন্যায় বিচার পাব আশা করি।
জান্নাত আরা ঝর্ণার দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালীন সময়ে আদালত চত্তরে মামলার আসামী মামুনুল হক পন্থী অসংখ্য হেফাজত ইসলামীর নেতাকর্মী উপস্থিত হয়ে মামুনুল হকের মুক্তির দাবী করে শ্লোগান দিতে থাকে। এ সময় হেফাজত কর্মীরা বলেন, “হুজুরের স্ত্রী হুজুরের নামে ধর্ষণের মামলা করছে ! আর সুযোগ নিয়েছে সরকার।”
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রকিব উদ্দিন জানান, আজ মামলার আরো দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী ৪ অক্টোবর নির্ধারণ করেছেন আদালত।
উল্লেখ্য ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টে স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা নামের এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন মামুনুল হক। তখন স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে মামুনুল হক তার সাথের নারীকে স্ত্রী হিসেবে দাবী করেন। স্ত্রীর নাম জিজ্ঞাসা করলে মামুনুল হক তার এই স্ত্রীকে দুই বছর আগে বিয়ে করেছেন বলে তার নাম উল্লেখ করেন আমেনা তৈয়বা । একই সাথে মামুনুল হক মারমুখী এবং অস্বস্তিকর আচরণসহ হুমকি-ধমকি ও মিথ্যাচারের আশ্রয় নেন।
আর এই ঘটনা ফেসবুক লাইভে প্রচার হতে থাকলে মুহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পরে ঘটনা। নিরাপত্তার কারণে সোনারগাঁ থানা পুলিশ মামুনুল হক ও জান্নাত আরা ঝর্ণাকে রয়েল রিসোর্ট থেকে সোনারগাঁ থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে হেফাজত নেতাকর্মীরা লংকাকান্ড ঘটিয়ে মামুনুল হক ও জান্নাত আরা ঝর্ণাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। একই সাথে চারানো হয় জ্বালাও পোড়াও, ভাংচুর, অবরোধ।
এরপর ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মামুনুলকে।
এ ঘটনায় ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলা করেন মামুনুল হকের দাবিকৃত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা।
মামুনুল হক নিজের অপরাধ থেকে রক্ষা পেতে জান্নাত আরা ঝর্ণাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবী করলেও আদালতে দাঁড়িয়ে এবং মামলার এজাহারে বাদী নিজেই মামুনুল হেকর প্রতারণার অভিযোগ তুলেন। একই সাথে মামুনুল হক তার মুঠোফোনে স্ত্রীর সাথে কথোপকথনের রেকর্ড প্রকাশের পর পরিস্কার হয়ে যায় জান্নাত আরা ঝর্ণাকে স্ত্রীর মতো ব্যবহার করেছেন মামুনুল হক।









Discussion about this post