বক্তাবলী ইউনিয়নের কানাইনগরে বিচার শালিসে সন্ত্রাসী হামলায় আহত বাবুর মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে । এ নিয়ে এলাকায় প্রতিটি মোড়ে মোড়ে, চায়ের আড্ডায় চলছে ব্যাপক গুঞ্জন । অনেকেই বলেছেন, ‘আরো কোন দুঃসংবাদ হয়তো অপেক্ষা করছে বক্তাবলীবাসীর জন্য । তাই এখনই উচিৎ দ্রুত ব্যবস্তা গ্রহণ করা।
ফতুল্লায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে বিচার শালিসে বৈঠকে তর্ক বিতর্কের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় বাবু (৩০) নামে যুবক নিহত ও উভয় পক্ষের ৮/১০ জন গুরুতর আহত হয়েছে।
এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বাবু নিহতের সংবাদে অপরপক্ষের লোকজন এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে।
শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবু মারা যায়। বাবুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করেন। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের পর সোমবার রাতেই স্থানীয় কবরস্তানে দাফন করা হয় । এর পর থেখেই আরো উত্তেজনা বিরাজ করছে পুরো বক্তাবলীতে ।
বাবু নিহতের ঘটনায় নিহত বাবুর বড় বোন মৌসুমী বাদী হয়ে আব্দুর রহমান হালিম, আরিফ, আশাদউল্লাহ, রাকিব, আলাল সহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।
মামলা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ১১ টায় কানাইনগর বেকারী মোড়ে জমির বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে স্থানীয় ভাবে শালিসী বৈঠক বসে মেম্বারসহ মাতুব্বরগণরা। শালিসীর মধ্যে হালিম, আসাদউল্লাহ গংরা উত্তেজনা মূলক কথা বলে। এ নিয়ে সালাউদ্দিন, দাদন গাজী গংরা প্রতিবাদ করলে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে হালিম, আরিফ, আসাদউল্লাহ গংরা পূর্ব পরিকল্পিত থাকায় খুব অল্প সময়ের মধ্যে রামদা, চাপাতি, বগি, হকিস্টিক সহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালায়। পরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। হালিম, আরিফ, আশাদউল্লাহ গংদের হাতে দেশীয় অস্ত্র থাকায় সালাউদ্দিন, দাদন গাজী গংরা এক চেটিয়া হামলার শিকার হয়। হালিম, আরিফ, আশাদউল্লাহ গংরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সালাউদ্দিন, আলাউদ্দিন, দাদন গাজী, মহিউদ্দিন, শরীফ ও বাবুকে এলোপাথারী কোপাতে থাকে এবং লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। বাবু, সালাউদ্দিন, দাদন গাজী সহ আরো কয়েকজনকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তাদের অবস্থা আশঙ্কা হওয়ায় তাদেরকে তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। দুইদিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বাবু মারা যায়। একই সময় আহত হয় অপর পক্ষের হালিম, আলাল রাকিব সহ আরো দুইজন আহত হয়। তবে হালিম, রাকিব, আশাদউল্লাহ গংদের হাতে দেশীয় অস্ত্র থাকায় বাবু সহ আরো কয়েকজনকে কুপিয়ে মারাত্মক ভাবে রক্তাক্ত জখম করে।
মৌসুমী জানান, হালিম, রাকিব, আশাদউল্লাহ গংরা পরিকল্পিত ভাবে তার ভাই বাবু সহ আরো কয়েকজন রামদা, চাপাতি দিয়ে এলোপাথারী ভাবে কোপাতে থাকে। বিশেষ করে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপায়। আমার ভাই বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার করলে হালিম গংদের একটুও মায়া হয়নি, তারা আমার ভাইকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করে। আমি আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরে আযম মিয়া জানান, বক্তাবলীতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় একপক্ষের বাবু নামের একজন মারা গেছে আরো কয়েকজন আহত হয়েছে। বাবুকে হত্যা এবং অন্যদের আহত করার ঘটনায় নিহতের বড় বোন মৌসুমী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরে আযম মিয়া জানান, বক্তাবলীতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় এক পক্ষের বাবু নামের একজন মারা গেছে আরো কয়েকজন আহত হয়েছে। বাবুকে হত্যা এবং অন্যদের আহত করার ঘটনায় নিহতের বড় বোন মৌসুমী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ।









Discussion about this post