নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকার একটি বাসায় দগ্ধ হওয়া র্যাব সদস্য অভিজিৎ কুমার সিং (২৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি আছেন টুম্পা রানী দাস (৪০)।
বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে মৃত্যু হয় অভিজিতের।
তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ইনস্টিটিউটের বহির্বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল জানান, অভিজিতের শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। ৭০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে ভর্তি আছেন টুম্পা রানী। তাকেও আইসিইউ’তে রাখা হয়েছে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে স্থানীয় হাসপাতাল শেষে সকালে তাদেরকে বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়েছিল।
বার্ণ ইউনিটে আনার পর স্বজনরা এ বিষয়ে রহস্যজনক আচরণ করেন। নানা বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য করেন।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোর ৩ টা ১৬ মিনিটের সময় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আনা হলে কিসের আগুণে এমন হলো বলে প্রশ্ন করা হলে প্রথমে দগ্ধ অভিজিৎ সিং ও টুম্পা রানী পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ায় এমন ঘটেছে বলে দাবী করলেও পরবর্তীতে ‘ঘরের মধ্যে পেট্রোল আসেলো কি করে ?’ ‘কেন এই পেট্রোল ঢেলে আগুন দিলেন ?’ এমন অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর দেন নাই কেউ টুম্পা রানী আর অভিজিৎ সিং।
তাদেরকে রেফার্ড করলে র্যাবের গাড়ী এসে দগ্ধ অভিজিৎ সিং (২৮) কে নিয়ে ঢাকা রওয়ানা দিলে টুম্পা রানী দাস (৪০) অপর প্রাইভেট এম্বুলেন্স থেকে নেমে লংকাকান্ড ঘটায়। এ সময় টুম্পা রানী দাস চিৎকার করে বলতে থকেন, ‘আমি তো মরার জন্যই পেট্রোল ডাইল্ল্যা এই কাম করছি । মরমু যখন এক সাথেই মরমু !’
এমন ঘটনার পর র্যাবের গাড়িতে করেই ভোররাত ৪টার দিকে দগ্ধ অভিজিৎ সিং (২৮) ও টুম্পা রানী দাস (৪০) কে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা ।
দগ্ধদেরকে সঙ্গে সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) নিয়ে যান। সেখান থেকে তাদেরকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।
তারা আরো জানান, র্যাব সদস্য অভিজিতের পরিবার ও টুম্পার পরিবার আগে পাশপাশি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। তখন থেকে তাদের সাথে একটি পারিবারিক সম্পর্ক। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে অভিজিৎ তাদের বাসায় গিয়েছিলেন। মাঝে মাঝে ওই বাসার ছাদে গিয়ে আড্ডা দিতেন তিনি। এছাড়া মাঝেমধ্যে ওই বাসায় গিয়ে টুম্পা রানীর ছেলে বিশালকে পড়াশুনা বুঝিয়ে দিতেন। তবে রাতে কীভাবে আগুন লেগেছে, সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তারা।
তরে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের একাধিক সূত্র এবং চিকিৎসক সাবিনা ইয়াসমিনের সহযেগি চিকিৎশকের উদ্ধৃতি দিয়ে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে বলেন, “ঘটনাটি স্পর্শকাতর । টুম্পা রানী যা বলেছেন তা হলো : তার স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগ নিয়ে অভিজিত তাকে বিয়ে করবে বলে দীর্ঘদিন যাবৎ এই বাড়িতে আসা যাওয়া করেন এবং রাত্রি যাপন করেন। কয়েকদিন যাবৎ বিয়ের জন্য চাপ দিলে টালবাহানা করতে থাকলে পরিকল্পনানুযায়ী এক সাথে হয়তো বিয়ে করে সংসার করবো নয়তো মরবো এই চিন্তা থেকে পেট্রোল এনে ঘরে রাখে টুম্পা রাণী। মধ্যরাতে সকলে ঘুমিয়ে পরলে অভিজিত ফোন করে এই বাসায় আসলে বিয়ে করার জন্য চাপ দিলে অভিজিত তা অস্বীকার করে । তখন পেট্রোল ঢেলে আগুণ ধরিয়ে দেই।“ এভাবেই ঘটনার বর্ণনা দেন দগ্ধ টুম্পা রানী।
এমন ঘটনার পর হাসপাতাল সূত্র আরো জানান, একটি অসম প্রেমের যবনিকাপাত হয়তো চিরতরে ঘটতে পারে । তাদের অবস্থা খুবেই আশংকাজনক ।
নগরীর নিতাইগঞ্জবাসী ও একাধিক সূত্র জানায়, টুম্পা রানী মাদকসহ গ্রেফতারের পর এই র্যাব সদস্য অভিজিৎ সিংয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। আর ওই অসম প্রেমের ঘটনার সমাপ্তি ঘটলো পেট্রোলের আগুনে পুড়ে অভিজিৎ সিং এর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ।
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের চিকিৎসক সাবিনা ইয়াসমিন, সহকারী নার্স ইলানূর, ওয়ার্ড বয় ওয়াজকরুনীসহ অন্যান্যদের ভাষ্য অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত মৃত্যুকে আলিংগন করলেন অভিজিৎ সিং।
জানা যায়, অভিজিৎ র্যাব-১১ এর সদস্য। তার বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলার জয় কৃষ্ণপুর গ্রামে।
তবে এ বিষয়ে র্যাবের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।









Discussion about this post