সম্প্রতি বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন কয়েকটি গণমাধ্যমে রূপগঞ্জের রফিকুল ইসলাম ওরফে আন্ডা রফিকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে “তথ্য গোপন করে বিক্রি করে দেওয়া জমির দলিল বন্ধক রেখে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ২৭০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। ২০২২ সালের শেষের দিকে এসব জমি বিক্রি করে দিলেও ঋণ নিয়েছেন চলতি বছরের জুন মাসে।”
রূপগঞ্জের এক সময়ের বাড়ি বাড়ি হেটে হেটে আন্ডা (ডিম) রফিকের বিরুদ্ধে এমন গুরুত্বপূর্ণ অপকর্মের সংবাদ প্রকাশের পর তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে আন্ডা রফিক ও তার নিয়ন্ত্রিত লোকজন৷ এমন ঘটনার পরদিন রফিকুল ইসলামের (যাকে রূপগঞ্জের সকলেই আন্ডা রফিক হিসেবে চিনেন) মালিকানাধীন প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায় বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের ছবি যুক্ত করে “বসুন্ধরা গ্রুপ নিজেদের জালিয়াতি ঢাকতে রংধনু গ্রুপের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে” এমন সংবাদ প্রকাশ করে । সেই প্রতিবেদনে ছিলো বসুন্ধরা গ্রুপের অপকর্মের ফিরিস্তি । যা নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হলো :
বসুন্ধরা গ্রুপ জালজালিয়াতি ও ভূমিদস্যুতার মাধ্যমে গত ৩০ বছরে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে। হাজার হাজার মানুষের জমিতে জোর করে বালু ফেলে ভরাট করে নিজেদের কবজায় রেখেছে গ্রুপটি। এ জমিগুলো দখল করার পর সেখানে বড় বড় বাউন্ডারি নির্মাণ করে তারা সন্ত্রাসীদের দিয়ে পাহারা বসিয়েছে। রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নে একই কায়দায় গ্রুপটি কবজায় নিয়েছে ২ হাজার ৫০০ বিঘা জমি। এর সিংহভাগ তারা বিক্রি করে দিয়েছে। এখন চোখ পড়েছে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের আরও প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমির ওপর।নিরীহ গ্রামবাসীকে তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করে ওই জমিগুলো দখলে নিতে চাইছে ভূমিদস্যু গ্রুপটি।
কায়েতপাড়ার নাওড়া গ্রামে জন্ম রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ রফিকুল ইসলামের। এ গ্রামের মানুষ বংশপরম্পরায় রফিকুল ইসলামের আত্মীয়। স্থানীয়রা যখন তাদের ভিটেমাটি, জমি হারানোর ভয়ে ভীত, ঠিক তখনই রফিকুল ইসলাম তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। আর তাতেই তার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বসুন্ধরা গ্রুপের কর্তাব্যক্তিরা। সেখান থেকেই শুরু রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, মামলা আর দমনপীড়ন। বসুন্ধরা গ্রুপ মনে করে, রফিককে গ্রামে ঢুকতে না দিলে তাদের পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে গ্রামবাসীর জমি দখল করে নেওয়া সহজ হবে।
বসুন্ধরা গ্রুপ থেকে জমি কিনে প্রতারিত হওয়া মানুষের সংখ্যা অনেক। লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে বসুন্ধরা-বারিধারা প্রকল্পের প্রায় ৪ হাজার প্লট বিক্রি করে গ্রুপটি। সাধারণ মানুষ তাদের সারা জীবনের উপার্জন দিয়ে এ প্লটগুলো কিনেছিল। কিন্তু মালিকানা বুঝে নিতে গিয়ে ওই মানুষগুলো দেখতে পান বসুন্ধরা গ্রুপ তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। যে ব্লকের প্লট দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিল সেখানে আর প্লট নেই। সব প্লট বালু নদের ওপারে নারায়ণগঞ্জ জেলায় অবস্থিত কায়েতপাড়ায় হস্তান্তর করা হয়েছে। কোনো ক্রেতা এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে ১৫ থেকে ২০ বছর আগে ১২ লাখ টাকায় কেনা ৩ কাঠা জমির সেই টাকা ফেরত নিয়ে যেতে বলছে। অথচ যে জমি দেখিয়ে ক্রেতার কাছ থেকে বসুন্ধরা গ্রুপ টাকা নিয়েছিল তার বাজারমূল্য এখন ৩ কোটি টাকা। আর যেখানে এখন প্লট বরাদ্দ দিয়েছে সেখানে ১ বিঘা জমির বাজারমূল্য ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা। এ জমিগুলো বসুন্ধরা গ্রুপ ভয়ভীতি দেখিয়ে কম মূল্যে গ্রামবাসীর কাছ থেকে কিনে নিয়েছিল। এখানেই শেষ নয়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ভেতরে ১৫০ থেকে ২০০ বিঘা জমি দখল করে রেখেছে তারা। মূল মালিকরা জমি বিক্রি না করলেও জাল দলিলের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ব্যাংকে জাল দলিল দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা ঋণ নিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। শুধু সাধারণ মানুষের জমি দখলই নয়, সরকারের বিপুল পরিমাণ খাসজমির দখল এখন বসুন্ধরা গ্রুপের হাতে। খাল ভরাট করে প্লট বানিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে গ্রুপটি।
এনজিওকর্মী জুলিয়া জানান, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ভেতরে তার মায়ের নামে সাড়ে ৮ বিঘা জমি রয়েছে। এগুলো দখল করে জাল দলিলের মাধ্যমে বিক্রিও করে দেওয়া হয়েছে। অনেক দিন থেকে জমি উদ্ধারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ নানা জায়গায় ধরনা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু আজও জমি উদ্ধার করতে পারেননি। বেদখল হওয়া জমির মালিকরা ভয়ে নিজেদের জমিতে যাওয়ার সাহস পর্যন্ত পান না। কেউ প্রতিবাদ করলে তার ওপর নেমে আসে নির্যাতন। মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে করা হয় হয়রানি। এমনই একজন ঢাকার স্বনামধন্য সাংবাদিক আতিক। জাতীয় প্রেস ক্লাবে যার ছিল প্রতিদিনের বিচরণ, তাকে কয়েক মাস ধরে আর প্রেস ক্লাবে দেখা যায় না। তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ। কোথায় আছেন, বেঁচে আছেন না মরে গেছেন এ নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা ভয়ে মুখ খুলছেন না। আতিক দখল হয়ে যাওয়া পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধারে বসুন্ধরার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। এখন জমি উদ্ধার দূরের কথা, তার খোঁজই পাচ্ছেন না দীর্ঘদিনের সহকর্মী-বন্ধুরা।
কয়েক দিন আগেও দেশের অন্যতম শিল্প গ্রুপ রংধনু গ্রুপের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল বসুন্ধরা গ্রুপের। তাদের কথামতো কাজ না করায়, স্বার্থে আঘাত লাগায় আজ রংধনু গ্রুপের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। তাদের মালিকানাধীন পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেল ব্যবহার করে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে রংধনু গ্রুপকে ঘায়েল করার হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
রংধনু গ্রুপ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রংধনু গ্রুপ কখনও সাধারণ মানুষের জমি জবরদখল করে ব্যবসা পরিচালনা করে না। প্রচুর ক্রেতা এই গ্রুপের কাছ থেকে জমি কিনে তা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগদখল করে আসছেন। যদি কোনো ক্রেতা তার কেনা জমির কাগজপত্রে বিন্দুমাত্র খুঁত পান তা সঙ্গে সঙ্গে ঠিক অথবা পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। রংধনু গ্রুপ সব সময় মানুষের জমি জবরদখলের বিপক্ষে। যারা এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সব সময় কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে আসছে রংধনু গ্রুপ। আর এসব কারণে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত অফিস, বাড়িঘর, জমিজমা থেকে রংধনু গ্রুপকে উচ্ছেদ করার পরিকল্পনায় নেমেছে বসুন্ধরা গ্রুপ।
এমন সংবাদ প্রকাশের পর বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের পুত্র সায়েম সোবহান আনভীরের পা ধরে কান্নাকাটি করে ক্ষমা চাওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে শনিবার রাতে। যা নিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে তোলপাড় ।









Discussion about this post