সোনারগাঁয়ে শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডাকাতি। গত এক মাসে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১১ বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। এতে ভীতসন্ত্রস্ত ও অসহায় হয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা ।
এলাকাবাসী জানায়, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িসহ ১১টি বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। ডাকাতরা তাদের হাত-পা বেঁধে স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩৪ লাখ টাকার মূল্যবান জিনিস নিয়ে গেছে। সোনারগাঁ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ডাকাতি প্রতিরোধ ও ডাকাতদের গ্রেপ্তারে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে দাবি করা হলেও এলাকাবাসী পুলিশের তেমন তৎপরতা দেখছে না। ডাকাতি প্রতিরোধে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় পাহারা দিতে বারদী ও নোয়াগাঁও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এলাকাবাসীর জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন।
ইউপি চেয়ারম্যানের দাবি, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি বেড়েই চলছে। ডাকাতি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বাসিন্দাদের সতর্ক থেকে এলাকায় পাহারার ব্যবস্থা করতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। গত এক মাসে ১১টি ডাকাতি হলেও সোনারগাঁ থানায় মাত্র তিনটি মামলা নেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, নোয়াগাঁও ইউনিয়নের চরকামালদি গ্রামের রফিক মিয়ার বাড়িতে গত ২৬ ডিসেম্বর রাতে ডাকাতি হয়। ডাকাতরা নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা, ৫ ভরি স্বর্ণসহ প্রায় ৮ লক্ষাধিক টাকার মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। একই ইউনিয়নের লক্ষ্মীবারদী গ্রামের সালেক মিয়ার বাড়িতে গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে ডাকাতরা হানা দিয়ে তার দুই ভাইসহ তিন বাড়িতে ডাকাতি করে তিনটি অটোরিকশা, নগদ ৭০ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকারসহ সাড়ে ৩ লাখ টাকার জিনিসপত্র লুট করে। লাধুর চর গোবিন্দপুর এলাকায় আজিজ মিয়ার বাড়িতে হানা দিয়ে ৫ লাখ টাকার মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। সাদিপুর ইউনিয়নের কোনাবাড়ি এলাকায় শফিকুল ইসলামের বাড়িতে ডাকাতরা হানা দিয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকার মালপত্র লুট করে। বারদী ইউনিয়নের মিশ্রিপাড়া গ্রামের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দাসের বাড়িতে গত ১০ জানুয়ারি ডাকাতি করে নগদ টাকা, ৮ ভরি স্বর্ণ, মোবাইল ফোনসেটসহ সাড়ে ৮ লাখ টাকার মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এ ছাড়াও জামপুর ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামে আবু বকর সিদ্দিকের বাড়িতে ও ঝালকান্দি গ্রামের চঞ্চলের বাড়িসহ তিন বাড়িতে ডাকাতি করে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকার মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়। গত ১৪ জানুয়ারি গোবিন্দপুর গ্রামের অধ্যাপক নাসিরউদ্দিনে বাড়িতে হানা দেয়। তবে কোনো সম্পদ লুট করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
নোয়াগাঁও ইউনিয়নের গৌরবরদী গ্রামের আহসান উল্লাহ বলেন, তাদের এলাকায় ডাকাতির হিড়িক পড়েছে। তীব্র শীত আর ডাকাত আতঙ্ক তাদের কাবু করে ফেলেছে। ডাকাতি প্রতিরোধে এলাকায় পাহারার ব্যবস্থা করেছেন। প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত আগুন জ্বালিয়ে পাহারা দিচ্ছেন তারা।
নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল আলম সামসু বলেন, ডাকাতি প্রতিরোধে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় পাহারা দেয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। সেই অনুযায়ী স্থানীয়রা পাহারা দিচ্ছেন।
বারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বাবুল বলেন, একের পর এক ডাকাতিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনগণ। এ ইউনিয়ন মেঘনা ও আড়াইহাজার এ দুটি উপজেলার পার্শ্ববর্তী হওয়ায় ডাকাতরা অন্য উপজেলা থেকে এসে ডাকাতি করছে। তার নিজ উদ্যোগে পাহারাদারদের জন্য রাতে খাবারের ব্যবস্থা করেছেন বলে জানান তিনি।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মহসিন বলেন, পুরো উপজেলায় টহল দেয়ার মতো তাদের জনবল নেই। ডাকাতি প্রতিরোধে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ডাকাতি প্রতিরোধ করতে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয়দের এগিয়ে আসতে হবে। এরই মধ্যে তিন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
Discussion about this post