এখনো থমথেমে অবস্থা বিরাজ করছে রূপগঞ্জের তারাবো বাজার এলাকায়। কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ২০টি দোকান ও ১৫টি বসতঘরে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় তারাব বাজার এলাকায় এমন তাণ্ডব চালায় সন্ত্রাসীরা। পুলিশ হৃদয় খান নামে একজনকে আটক করলেও অপর সন্ত্রাসীরা নানা ভং্গিমায় তার দৌড়াত্ম চারেয় যাচ্ছে । ফলে জনসাধারণ ও ব্যসায়ীরা রয়েছে আতংকে।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারাব পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের তারাব বাজার এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধের সঙ্গে দুটি কিশোর গ্যাং গ্রুপ জড়িত। এক গ্রুপের নেতৃত্বে দেন তারাব উত্তরপাড়ার বকুল ভুইয়ার ছেলে শিমুল ভুইয়া। অপরটির নেতৃত্বে আছেন রোবেল মিয়া, শ্রাবণ ওরফে কুত্তা শ্রাবণ ও আকবর বাদশা।
অপরাধ জগতের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে শিমুলকে মারধর করেন রোবেল, শ্রাবণ ও আকবর গ্রুপের লোকজন। এর জের ধরে রাত ১০টার দিকে চনপাড়া পুনর্বাসনকেন্দ্র এলাকা থেকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে দুই গ্রুপের সদস্যরা রামদা, চাপাতি, পিস্তলসহ নানা ধরনের অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। দফায় দফায় চলে ধাওয়া-পালটাধাওয়া, ফাঁকা গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
একপর্যায়ে তারা তারাব বাজারের রাস্তায় টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পান ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদের দোকান থেকে পান, আমিনুল ইসলামের সাদিয়া ট্রেডার্স থেকে টিন ও টাকা, রফিক মিয়ার দোকান থেকে ফল লুট করে সন্ত্রাসীরা। কোরবান আলীর ভ্যারাইটিজ দোকানঘর, শাওন মিয়ার ইলেট্রনিক্স দোকান ও আবদুল সাত্তারের মুদি মনোহরী দোকানেও হামলা ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
বিকাশ ও মোবাইল ব্যবসায়ী রাসেল মিয়ার গলায় ছুরি ধরে ১০টি মোবাইল ছিনিয়ে নেয় তারা। এছাড়া নিরীহ কবির ভুইয়া, হাজী তোফাজ্জল হোসেন, তামিম মিয়া, হাশেম ভুইয়া, শামিম প্রধান, সুরুজ প্রধান, তাবেল, হাবু ভুইয়ার বসতঘরে ঢুকে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট করে সন্ত্রাসীরা। তারাব বাজারে অবস্থিত সাপ্তাহিক রূপকণ্ঠ পত্রিকা অফিস ভবনের গ্লাসও ভাঙচুর করে তারা।
খবর পেয়ে পুলিশ এসে ৮ রাউন্ড শটগানের গুলি ছুড়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। সংঘর্ষে পথচারীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে কোহিনুর বেগম ও বাদল মিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ তারা। কেউ প্রতিবাদ করলেও হামলার শিকার হচ্ছে। কয়েক দিন পরপর তারা নানা ধরনের অপরাধ ঘটিয়ে আসছে। মাঝে মধ্যে কেউ গ্রেফতার হলেও জামিনে বের হয়ে ফের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ হৃদয় খান নামে একজনকে আটক করেছে। অন্যদের আটকের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশসহ থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।









Discussion about this post