‘‘যারা রক্ষক হয়ে ভক্ষক হচ্ছে তাদের হাত থেকে এই শহরকে বাঁচাতে চাই। কারো মিষ্টি মিষ্টি কথায় মন না গলিয়ে চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু পারিনি ব্যর্থ হয়েছি। যাতে কেউ আর বলতে না পারে আপনার গোয়াতুর্মির জন্য হয়নি। একবার বসেন টেবিলে, আলোচনা করি। সেই আলোচনাও ভেস্তে গেছে। কারণ দেখলাম, এখানে স্বার্থ ছাড়া কিছুই করার নেই। যারা এখনে রাজনীতি করে আমাদের, নারায়ণগঞ্জের মানুষদের ব্যবহার করতে চায় এই শহরের জমি-জমা প্রত্যেক জায়গা থেকে লুটপাট হচ্ছে।”
এভাবেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জের অন্যতম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আব্দুর রহমান স্মরণে আয়োজিত সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন ।
মেয়র আইভী ক্ষোভের সাথে বলেন, এমন কোনো সেক্টর নাই, যেখান থেকে লুটপাট হচ্ছে না। যেমন প্রশাসন তেমন রাজনীতিবিদ। একাকার হয়ে গেছে সবাই। আমরা নিশ্চুপ হয়ে গেছি। এই নিশ্চুপ হওয়ার কারণ আমি ঠিক জানি না। আমার মনে হয়, আমাদের সময় এসেছে কথা বলার জন্য। কথা বলতে হবে। এই শহরের মানুষের জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।’
অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানিয়ে সিটি মেয়র বলেন, ‘আসুন নিজেদের মধ্যের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আমরা আবার আন্দোলন করি। এই আন্দোলন আইভীর আন্দোলন না, সিটি কর্পোরেশনের না। এই শহরের মানুষ, জমি, ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য কি করণীয় সেটা চিন্তা করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বক্তারা বলেছেন এখন আমরা কথা বলি না, মেনে নিচ্ছি, আওয়াজ তুলি না। এটা সত্য ইদানিং আমরা থেমে গেছি। কিন্তু এটাও সত্য যখন প্রয়োজন, যে কোনো পরিস্থিতিতে এ শহরের মানুষ যে আওয়াজ তুলতে পারে তা কিন্তু আপনারা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে দেখিয়ে দিয়েছেন। এই শহরের মানুষ সাহসী। আমি মনে করি, অন্যান্য জেলা থেকে নারায়ণগঞ্জের মানুষ অনেক বেশি সাহসী, সত্য কথা বলে। কিন্তু পরিবেশ, পরিস্থিতির কারণে কিছু দানবের কারণে, দানবীয় কর্মকান্ডের কারণে বিভিন্ন সময় নারায়ণগঞ্জের মানুষ হোচট খেয়েছে কিন্তু পথ ভুলে যায়নি। আবদুর রহমানের মত মানুষদের কারণে।’
’জিয়াউল ইসলাম কাজলের সঞ্চালনায় এড. এবি সিদ্দিক এর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, নাগরিক কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি রফিউর রাব্বি, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী নুরউদ্দিন আহমেদ, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ, সামাজিক আন্দোলনের দেলোয়ার হোসেন চুন্নু, মহিলা পরিষদের জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লক্ষ্মী চক্রবর্তী, কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, বাসদের আবু নাইম খান বিপ্লব, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মাহমুদ হোসেন, ভোরের সাথীর নাসির উদ্দিন মন্টু, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শঙ্কর রায়, উদীচীর জেলা সভাপতি জাহিদুল হক দীপু, সমমনার সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ, খেলাঘরের জেলা সভাপতি জহিরুল ইসলাম, শ্রুতির সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল ও প্রয়াত আব্দুর রহমানের সন্তান আহমেদুর রহমান তনু, আরিফুর রহমান অনু, তানহা রহমানসহ অন্যান্যদের উপস্থিতিতে আইভী আরও বলেন, ‘একজন বলল, শ্রমিক আন্দোলন করলেন। চিন্তাও করলেন না এই শ্রমিক আন্দোলনের সুফল কি। কেউ বলে দিল, হকারের পক্ষে চলে গেলেন। চিন্তাও করলেন না ভবিষ্যতে আপনাকে কি ঘোলপানিটা খেতে হবে। একজন বলল দাঁড়িয়ে গেলেন তার পাশে। আমি কোথাও যাওয়ার আগে ১০ বার চিন্তা করি। নিজের জন্য না, শহরের মানুষের জন্য। ওইখানে গেলে শহরের, মানুষের কতটুকু লাভ হবে। সাত-পাঁচ ভেবে করি। যেহেতু রাজনীতি করে, একটি দলের সাথে আছি, অনেককিছুই আমাকে ত্যাগ করতে হয়, যেতে হয়। কিন্তু আমি আমার আদর্শ এবং নগরবাসীর স্বার্থ থেকে কখনো বিচ্যুত হইনি।









Discussion about this post