‘আমরা কেউ হিন্দু, কেউ মুসলিম। কিন্তু রক্ত সবার এক। মানুষ এক সৃষ্টিকর্তারই সৃষ্টি। আমরা একেকজন একেক নামে ডাকি তাকে। কেউ আল্লাহ, কেউ ভগবান ডাকে। সুতরাং মানুষে মানুষে যাতে ভেদাভেদ না থাকে। আমরা সাধারণ মানুষ যারা আছি তারাই একমাত্র ধর্ম, জাত এসব নিয়ে কথা বলি। যারা মহামানব ছিলেন তাদের কাছে মানব ধর্মই বড় ধর্ম ছিল। এবং প্রত্যেকটি রাষ্ট্রীয় কাঠামো সেই কথাই বলে যে, সবকিছু মানুষের জন্য।’
এবাবেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী রোববার (৭ জুলাই) বিকেলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আমার এলাকা এটা। বহু স্মৃতিবিজড়িত এ এলাকা। আমার বাবার হাত ধরে এ এলাকায় ঘুরেছি আমি। এই পুরো এলাকায় আমার বাবার হাত ধরে বিচরণ ছিল। আমার যতটুকু করার দরকার আমি করব। আমি ওই চেয়ারে বসে দল মতের ঊর্ধে উঠে সবার জন্য কাজ করবো। মানুষের ওপর ভালবাসার আর কিছু নেই। মানুষের মর্যাদা মানুষের কাছে বিশাল। আমরা নানান জনে তাকে নানান নামে ডাকি। সুতরাং মানুষে মানুষে যেন ভেদাভেদ না থাকে।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাকিব আল রাব্বি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাসুদ, শিল্পপতি অমল কুমার পোদ্দার (সিআইপি), জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আদিনাথ বসু, নাসিক কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, মনিরুজ্জামান মনিরসহ হাজার হাজার পূর্ণর্থীদের উপস্থিতিতে মেয়র আইভী আরো বলেন, আমরা অনেক বিষয় নিয়ে ঝগড়া করি। কিন্তু যারা মহান তাদের কাছে কোন জাত, ধর্ম, বর্ণ নেই। তাদের ধর্ম নেই, তাদের কাজ মানুষের জন্য কাজ করা। আমাদের দেশও অসাম্প্রদায়িক, যেটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শুরু করে গিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও কাজ করে যাচ্ছেন জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে। আমিও সেটিই বলবো, আমি সকলের জন্য। আমাকে আপনারা সুযোগ দিয়েছেন আমি সকলের জন্য কাজ করার চেষ্টা করছি। সৃষ্টিকর্তা নিজেও জাত-ধর্ম দেখেন না। তিনি আমাদের সকলকে ভালোবাসেন, তাই আমাদেরও উচিত মানুষ মানুষের মধ্যে ভালোবাসা তৈরি করা। আমাদের বিচার হবে কর্মের, কোনো ধর্মের না। তাই মানুষ হয়ে মানুষকে ভালোবাসুন।’









Discussion about this post