নারায়ণগঞ্জে অসংখ্য হতাহত, গুলিবিদ্ধ, বাড়ির ছাদে থাকা শিশু ও বারান্ধায় থাকাবস্থায় এক মায়ের মৃত্যু, পুলিশ বক্সে আগুণ, পুলিশ ফাঁড়িতে আগুণ, নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় হামলা, আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে আগুন, নাসিক ভবনে আগুণসহ খোদ শামীম ওসমানের পারিবারিক পরিবহণ ব্যবসায় আগুণ দিয়ে ২৬ টি এসি বাস পুড়িয়ে দেয়া ছাড়াও নানা নাশকতার পর নগরী জুড়ে নানা গুঞ্জনের ঢালপালা মেলেছে মারাত্মকভাবে ।
স্বরণকালের সেরা এমন তান্ডবের কথা উল্লেখ করেন নগরীর অনেক প্রবীন বলেন, “আসলে কি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে লুকিয়ে আছে জামায়াত শিবিরের অনুসারী চক্র ! যাচাই-বাছাই করা জরুরী এখনই।”
এরই মধ্যে কয়েকটি গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে চাটখিলের সংসদ সদস্য (এমপি) এইচ এম ইব্রাহিমের সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তা এসপি গোলাম মোস্তফা রাসেল, বিপিএম, পিপিএম (বার) এর ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে।
এমন সংবাদে নারায়ণগঞ্জে কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীদের অনেকেই বলেন, `আমরা গণমাধ্যমকর্মীরা একবারেই অসহায় । সব কিছু কি আমরা লিখতে পারি ? আমরা যেমন রাজনীতিবিদদের অপকর্ম নিয়ে সর সময় লিখতে পারি না তেমন সরকরাী কর্মকর্তাদের নানা অপকর্ম নিয়েও লিখতে গিয়ে হাজারোবার চিন্তা করতে হয় । ডিজিটাল আইনে মামলা ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে নানা মামলার অনেক সাংবাদিক এই নাশকতার মামলার আসামী হয়ে ফেরারী জীবন যাপন করছেন। তাই নারায়ণগঞ্জের এসপি গোলাম মোস্তফা রাসেল, বিপিএম, পিপিএম (বার) কে নিয়ে উত্থাপিত গুঞ্জন যাচাই করা জরুরী । কিন্ত এই উদ্যোগ গ্রহণ করবে কে ?“
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায় :
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কার দাবির আন্দোলনকে ঘিরে সম্প্রতি সংঘটিত সহিংসতায় যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত পুরো সড়ক এবং কাঁচপুর হয়ে সোনারগাঁ-মেঘনা পর্যন্ত ছিল রণক্ষেত্র। এতে রাজধানীর এই প্রবেশপথটি অচল হয়ে যায়।
আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ হয় এ এলাকায়। এর মধ্যে কাঁচপুর থেকে শনিরআখড়ায় হাজার হাজার বিএনপি-জামায়াত কর্মী অস্ত্র-লাঠি নিয়ে সড়ক দখল করে নেয়। তারা ঢাকায়ও প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধলে অন্তত দুজন পুলিশ সদস্য নিহত হন জামায়াতপন্থি অস্ত্রধারীদের হাতে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবালের নেতৃত্বে তিনজন নারী সাংবাদিক নির্যাতিত হন। নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা করে পুড়িয়ে দেয় বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা। কাঁচপুরে পুড়িয়ে দেওয়া হয় বেশ কয়েকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর বাণিজ্যিক ভবন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কিছু ঘটেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) ব্যর্থতা ও তৎপরতার অভাবে। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা কাঁচপুর-যাত্রাবাড়ী সড়ক ব্যবহার করে ঢাকা প্রবেশের চেষ্টা করে। এখানে তাদের বাধা দিতে গিয়ে হতাহত হন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদস্যরা। তারপরও নারায়ণগঞ্জের এসপির ভূমিকা ছিল রহস্যজনক।
চাটখিলের এমপি এইচ এম ইব্রাহিম জানান, গত ১৭ জুলাই আন্দোলন যখন পুরোপুরি শুরু হয়নি, তখন সেই সড়ক দিয়ে নোয়াখালী যাচ্ছিলেন তিনি। সেই মুহূর্তে তিনি দেখলেন, শনির আখড়া সড়কে বিএনপি-জামায়াতের কিছু কর্মী লাঠি নিয়ে জড়ো হয়েছেন। এ সময় এমপি ইব্রাহিম কল করে নারায়ণগঞ্জের এসপিকে সার্বিক পরিস্থিতি জানান এবং বলেন, এখনই ব্যবস্থা নিলে তারা জমায়েত হতে পারবেন না। ঢাকা-চট্টগ্রাম রোড বন্ধ হবে না। তখন নারায়ণগঞ্জের এসপি ঔদ্ধত্যপূর্ণ ব্যবহার করেন এমপি ইব্রাহিমের সঙ্গে। একজন এমপিকে এসপি সাহেব বলেন, ‘আমি এসপি, আমি জানি কী করতে হবে। আপনারা রাজনীতিবিদরা ঘোড়ার ডিম জানেন !’
এমপি এইচ এম ইব্রাহিম আরও জানান, নারায়ণগঞ্জের এসপির বিষয়ে শামীম ওসমানসহ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের প্রশ্ন করলে জানা যাবে, এসপি বিএনপি-জামায়াত ঘেঁষা এবং তার কারণে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক দখলে ছিল বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীরা।









Discussion about this post