চর দখলের মতো সর্বত্রই যেন চলছে দখলের নৈরাজ্য। কে কোন সেক্টর দখল করবে তা যেন ঠিক করে রাখা এমন চিন্তা চেতনা থেকে এবার নারায়ণগঞ্জে শহর-বন্দর পারাপারে ১নং খেয়াঘাট দখল করতে শুরু হয়েছে নৈরাজ্য। আতংক সৃষ্টি হয়েছে প্রতিদিন লাখো যাত্রীর মাঝে। এই খেয়াঘাট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুলের মুখোমুখী হতে যাচ্ছেন কারাবন্দী সন্ত্রাসী জাকির খানের লোকজন।
গত জুলাইতে এই ঘাটটি ইজারাদার পান শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূইয়া সাজনু। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের পর তিনিও আত্মগোপনে আছেন। এর পরেই ঘাট দখল নিয়ে শুরু হয়েছে রীতিমত যুদ্ধ। বিগত আমলে ইজারা নিয়ে শহর-বন্দরবাসী পারাপারে ফ্রি সার্ভিস দিয়েছিলেন সাবেক এমপি সেলিম ওসমান।
একাধিক সূত্র জানা গেছে, সেলিম ওসমান এমপি থাকাকালে তার নামে ইজারা পর ঘাটের দায়িত্বে ছিলেন বিএনপি নেতা জাকির খানের বিশস্ত স্বেচ্ছাসেবকদলের তৎকালীন নেতা দিদার খন্দকার। এতে ঘাটের ট্রলার চলাচল, তেল সরবরাহ ও স্টাফ প্রতিদিন খরচ দেখিয়ে লস প্রজেক্ট দেখানো হয়। এর ফলে গত বছর দিদার খন্দকারকে হটিয়ে চেম্বারের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল ও যুবলীগ নেতা সাজনুকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এতে গত বছর ও চলতি বছর জুন জুলাই মাসে ঘাট পরিচালনা করে লাভজনক দেখাতে সক্ষম হন সাজনু। চলতি বছরের জুলাই থেকে নিজের নামে ইজারা দেন সাজনু। এর মধ্যে ৫ আগষ্ট হঠাৎ আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর সেলিম ওসমান সহ ঘাট পরিচালনা সাজনু ও তাদের সহযোগিতা গা-ঢাকা দেয়। এর দুই দিন পর ঘাট পরিচালনা ফিরে আসেন দিদার খন্দকার। ওই সময় পুরো ঘাট নিয়ন্ত্রণে কারাবন্দি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের নাম প্রচার করা হয়।
ঘাটের সূত্রে জানা গেছে, ইজারাদার সাজনুকে অবগত না করে দিদার খন্দকারের এমন ঝটিকা ঘাট দখলে সমালোচনা সৃষ্টি হয়। ইতোমধ্যে সেলিম ওসমানকে ঘাট দখলে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন সাজনু। দখলের পরও ইজারা দায়িত্ব নেয়ার তিন দিন অপেক্ষা পর বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি থেকে বহিস্কৃত আতাউর রহমান মুকুলকে ভারপ্রাপ্ত দেয়া হয়েছে। এমন সংবাদে জাকির খানের পক্ষে থাকা দিদার খন্দকার মঙ্গলবার রাতে মুকুলকে ঘাট দায়িত্ব থেকে সরে যেত অনুরোধ করেন এবং ঘাটটি চালাতে পারবেন না বলে জানান।
আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত দিদার খন্দকারের অধীনে ঘাটটি পরিচালনা করা হচ্ছে। ঘাটের অর্থও দিদার নিয়ন্ত্রণে নেয়া হচ্ছে বলে ঘাট সূত্রে জানা গেছে। ইজারাদার থেকে পাওয়ার নেয়া নিয়ে মুকুলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন জাকির খান এমন আভাস পাওয়া গেছে।
এমন ঘটনা ছাড়াও দিদার খন্দকার বিগত সময়ে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের নাম ব্যবহার করে এই ঘাট ব্যবহার করে নানা অপরাধ সাম্রাজ্য চালাতো বলেও অভিযোগ থাকায় এই ঘাট থেকে কয়েক বছর আগে হটানো হলে এবার সুযোগ পেয়ে আবারো ঘাট দখল করে লুটপাট চালাচ্ছে বলেও বিএনপির একাধিক সূত্র ফের অভিযোগ তুলছে ।









Discussion about this post