ফতুল্লার মাসদাইর এলাকা থেকে আনোয়ার হোসেন আনু হত্যার ১৫ দিন পর চাঞ্চল্যকর এক তথ্য অনেকের মাঝে ব্যাপক গুঞ্জনের ঝড় উঠেছে।
আনু হত্যার অভিযোগে লাশ উদ্ধারের সাথে সাথে নূর আলম (৫৫), সারিদ হোসেন (১৯), কাজল (৩২) কে ২ দিন করে এবং রোকসানা আক্তার পুতুল (৪৬) জান্নাত আরা জাহান প্রেরণা (২১) কে আটক করে পুলিশ। এমন আটকের ঘটনায় ফতুল্লা থানায় তদ্বির করে প্রভাবশালী একাধিক চক্র।
ওই প্রভাবশালীদের কাছে রাসেল মাহমুদ তদ্বিরকালে জানায়, ‘`আমারে দীর্ঘদিনের মনের যন্ত্রণা মিট্টা গেছে । এখন আপনি ই আমার একমাত্র ভরসা আমার আর কোন চাওয়া পাওয়ার নাই। যাদের আটক করছে তাদেরকে মুক্ত করার চেষ্টা করেন। আপকি যা কইবেন আমি তাই করমু। তবুও এই ঘটনা থেকে আমাদের রক্ষা করেন।‘
এরই মধ্যে অনেকের কাছেই রাসেল তার চাচা আনু হত্যা করে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ মিটিযেছে বলে স্বীকার করে তাদের রক্ষা করতে তদ্বির চালাতে অনুনয় বিনয় করে যাচ্ছে অদ্যবদী। একদিকে থানায় অপরদিকে হাসপাতালের পোস্টমর্টেম রিপোর্টে আনু আত্মহত্যা করেছে এমন প্রতিবেদন দিতে কোটি টাকা ব্যয় করতেও দৌড়ঝাপ করেছে একাধিক চক্র।
সূত্র জানায়, এরই মধ্যে থানায় মোটা অংকের টাকা দেয়া হয়, একই সাথে প্রয়োজনে আরো টাকা ব্যয় করতে মোটা অংকের অর্থ (ঘুুষের) প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে । আনু হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামী ভাতিজা রাসেল মাহমুদ ও নিহত আনুর সাবে স্ত্রী পাপিয়ার আকতার পান্না পলাতক থেকেই এখনো পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এমন ব্যাপক তৎপরতা।
চাচীর পাপিয়ার পাপের পরকীর জের ধরে ভাতিজা রাসেল মাহমুদের নানা কেলেংকারী ঘটনার পর চাচা আনোয়ার হোসেন আনুকে হত্যা করতে পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছিলো ২০১৯ সালের ২ জানুয়ারির পর থেকেই । চাচা আনুকে শায়েস্তা করতে চাচার প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়েকে সাথে নিয়ে চাচী পাপিয়া সন্তানতুল্য ভাতিজা রাসেল মাহমুদ কে বিয়ে করে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর। এরপর অসংখ্যবার আনুকে হত্যার পরিকল্পনা করে এই পাপিয়া ও রাসেল মাহমুদ। এমন পরিকল্পনায় ঘৃন্য সফলতার মুখ দেখে ৫ বছর ৮ মাস পর অর্থাৎ ২৬ আগস্ট সোমবার । হত্যা করা হয় আনুকে। আনুর লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল রিপোর্ট দেখে জানা যায় মৃত আনুর শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে ।
এমন ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত মূল পরিকল্পনাকারী আনুর হত্যাকারী রাসেল মাহমুদ ও পাপিয়া কে গ্রেফতার না করে তাদের সাথে আইনশৃংখলা বাহিনীর সখ্যতার অভিযোগ উঠেছে ।
এমন ঘটনায় এরই মধ্যে সূত্রটি নিশ্চিত করে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে জানায়, “২০১৯ সালের ২ জানুয়ারী বুধবার সন্ধ্যা ৭ টায় নগরীর ২২/১ আমলাপাড়ার কে বি সাহা বাইলেন সড়কের নিজাম উদ্দিনের ৫ তলা ভবনের ৩য় তলায় ভাতিজা রাসেল মাহমুদের সাথে চাচী পাপিয়া আক্তার পান্নাকে নগ্ন অবস্থায় হাতেনাতে আটক করে চাচা আনোয়ার হোসেন আনু ও তার আত্মীয় স্বজনরা। ওই সময় পিটিয়ে রাসেলকে গুরুতর আহত করে । আর পাপের রানী পাপিয়াকে চর থাপ্পর দিলে দুইজনই আনু ও তার স্বজনদের পা ধরে ক্ষমা চেয়ে মামলা না করতে অনুরোধ জানায়। এরপর দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে রাসেল তার চাচা আনুকে চরম শিক্ষা দিতে পরিকল্পনা শুরু করে ।
এমন পরিকল্পনা থেকেই ২০২০ সাথে ৩০ জুন আনোয়ার হোসেন আনুকে তালাক নোটিশ পাঠায় পাপিয়া আর ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর চাচীকে বিয়ে করে ভাতিজা রাাসেল। আনুর পরিবারকে নরকে পরিণত করার পরও ক্ষোভ যেন কোন অবস্থাতেই শেষ হয় নাই রাসেল মাহমুদের। শেষ পর্যন্ত ওই ক্ষোভ থেকে পরিকল্পনা বাস্বতবায়ন করে ২৬ আগষ্ট সন্ধ্যায়। এমন ঘটনার পর পর নূর আলম (৫৫), সারিদ হোসেন (১৯), কাজল (৩২) কে ২ দিন করে এবং রোকসানা আক্তার পুতুল (৪৬) জান্নাত আরা জাহান প্রেরণা (২১) কে আটক করলে রাাসেল তার ঘনিষ্ঠ শেল্টারদাতাকে বলেন, `আমারে দীর্ঘদিনের মনের যন্ত্রণা মিট্টা গেছে । এখন আপনি ই আমার একমাত্র ভরসা আমার আর কোন চাওয়া পাওয়ার নাই। যাদের আটক করছে তাদেরকে মুক্ত করার চেষ্টা করেন। আপকি যা কইবেন আমি তাই করমু। তবুর এই ঘটনা থেকে আমারে রক্ষা করেন।‘
২০১৯ সালের ২ জানুয়ারী হাতেনাতে আটক হয়ে পিটুনীর শিকার রাসেল ও তার পরকীয়া প্রেমিকা চাচী পাপিয়াকে ঘিরে প্রকাশিত সংবাদ হুবহু তুলে ধরা হলো :
নগরীর আমলাপাড়ায় পরকীয়া প্রেমের জের ধরে রাসেল আহমেদ (৩০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। ২ জানুয়ারী বুধবার সন্ধ্যা ৭ টায় নগরীর ২২/১ আমলাপাড়া কেবি সাহা বাই লেন সড়কের নিজাম উদ্দিনের ৫ তলা ভবনের ৩য় তলায় ওই ঘটনা ঘটে।
মুমূর্ষু অবস্থায় রাসেল আহমেদকে নগরীর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
জানা গেছে, রাসেলের চাচীর সাথে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে চাচীকে নিয়ে ভাড়া থাকতো রাসেল। বেশিরভাগ সময় বাড়িতে থাকতো না তারা। এদিকে চাচা এই ঘটনা জানতে পেরে ভাতিজা রাসেলকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়।
ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া ও প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, গত কুরবানি ঈদের আগে আহত রাসেল ও একজন নারী স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে তৃতীয় তলার ফ্লাটটি ভাড়া নেয়। তবে তারা সব সময় বাড়িতে থাকেন না। সপ্তাহে বা বিকেলে তাদের দেখা যেতো। বাড়িতে কিছু অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েদের আনাগোনা ছিল বলেও জানান তারা।
তারা আরও জানান, বিকেলে হঠাৎ চেচামেচি শুনে তিনি এবং অন্যান্য ভাড়াটিয়ারা তাদের ফ্লাটে যান। গিয়ে দেখেন, দরজা বন্ধ একটি কক্ষ থেকে ধোয়া বের হচ্ছে। আহত রাসেল আহমেদ দরজা খোলার চেষ্টা করছে। ভাড়াটিয়ারা ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে রাসেল আহমেদ বলেন, এটা আমাদের স্বামী-স্ত্রীর সমস্যা। আপনাদের আসতে হবে না। অবস্থা বিবেচনা করে ভাড়াটিয়ারা ভিতরে প্রবেশ করেন এবং দরজা খুলতে বাধ্য করেন। দরজা খুলে স্ত্রী বের হয়ে আসলে রাসেল মেয়েটিকে মারধর করার চেষ্টা করতে থাকে। এমন সময় স্ত্রীর ফোনে ৪ জন ব্যক্তি চাপাতি নিয়ে আসেন এবং রাসেলকে কুপিয়ে আহত করেন।
আহত রাসেলের ফুপাতো ভাই হারুন বলেন, রাসেলকে হাসপাতালে নিয়ে যাবার পূর্বে সে আমাকে জানিয়েছে, ওর চাচাই ওকে কুপিয়ে জখম করেছে। আর চাচীর বিষয়ে কিছু আমাকে জানায়নি।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পরকীয়া প্রেমের জের ধরে ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা ঘটনাস্থলে আসার আগেই ঘাতকরা পালিয়ে যায়। অন্যদিকে রাসেলের কথিত স্ত্রীকে পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত চলছে।’









Discussion about this post