নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে শামীম ওসমান ও ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সম্পর্ক সাপে নেউলে। কেউ কাউকে সহ্যই করতে পারে না। শামীমও সমান নানাভাবে মেয়র থাকাবস্থায় ডাক্তার আইভীকে হেয় করার চেষ্টা করতেন আবার সর্বত্রই ডাক্তার আইভী সুযোগ পেলেই শামীম ওসমান তার তার পরিবারের প্রায় সকলকেই খুনি, লুটেরা, চাঁদাবাজসহ নানা অপরাধী বলে আথ্যায়িত করতেন।
আশ্চর্য্য হলেও সত্যি সেই শামীম ওসমান আর ডাক্তার আইভী একই হত্যা মামলার আসামী হিসেবে অভিযোগ দায়ের হয়েছে ।
শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) নিহত রিকশাচালক তুহিনের স্ত্রী আলেয়া আক্তার মীম বাদী হয়ে ৯৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩০০ জনের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এই মামলা করেন। এ নিয়ে আইভীর বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দুটি হত্যা মামলা হলো।
শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন।
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর গুলিবিদ্ধ হয়ে মনিরুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই নাজমুল হকের করা মামলায় ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩০০ জনকে আসামি করা হয়। এ হত্যা মামলায় শামীম ওসমান ও আইভী দুজনকেই আসামি করা হয়।
এদিকে তুহিন (৩৬) হত্যার ঘটনায় করা মামলায় শামীম ওসমান ও আইভী ছাড়াও সাবেক সংসদ নজরুল ইসলাম বাবু, কায়সার হাসনাত, গোলাম দস্তগীর গাজী, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন, শামীম ওসমানপুত্র অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরি ওসমান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়ার নাম রয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন বিকেলে রিকশাচালক মো. তুহিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ডাচ বাংলা ব্যাংকের সামনে গেলে শামীম ওসমানের নির্দেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গুলিবর্ষণ করেন। তখন শামীম ওসমানের হাতে থাকা অস্ত্র দিয়ে তুহিনকে উদ্দেশ্য করে গুলি করলে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
এমন মামলার খবরে নারায়ণগঞ্জের অনেকেই সমালোচনা করে বলেন, ‘আসলেই যারা এই মামলা করতেছেন তারা কি এই মামলার বিচার চান নাকি নির্মম এমন মৃত্যু নিয়ে তামাশা করতেছেন ? এমন মামলা গুলির নেপথ্যে কারা কলকাঠি নাড়ছে ? কারা এমন মামলা থেকে কি সুবিধা আদায়ের অপচেষ্টা করছে !”









Discussion about this post