আড়াইহাজারে সাবেক হুইপ নজরুল ইসলাম বাবুর দৃষ্টিনন্দন ডুপ্লেক্স বাড়িটি দু’মাস আগেই হাজারো লোকের সমাগমে মুখর থাকত। অথচ সেটি এখন পোড়োবাড়ি। বাড়িজুড়ে সুনসান নীরবতা।
আড়াইহাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে পরপর চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত এবং সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় জাতীয় সংসদের হুইপ নির্বাচিত হন নজরুল ইসলাম বাবু। তাঁর পৈতৃক বাড়ি আড়াইহাজার উপজেলার একেবারে পশ্চিম সীমান্তে দুপ্তারা ইউনিয়নের বাজবী গ্রামে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তিনি আড়াইহাজার পৌরসভার কৃষ্ণপুরা এলাকায় দৃষ্টিনন্দন ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেন। রাজধানী ঢাকায় তাঁর পরিবার থাকলেও তিনি অধিকাংশ সময় এ বাড়িতে অবস্থান করে তাঁর সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।
প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাজারো লোকের সমাগমে সবসময় জমজমাট ছিল বাড়িটি। যখন বাসা থেকে বের হতেন তার গাড়ির সামনের পেছনের ছিল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাসহ গাড়ির বহর। কিন্তু আজ তা কেবলই স্মৃতি।
গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনার পতন এবং দেশত্যাগের পর গোটা উপজেলার দৃশ্যপট মুহূর্তেই পাল্টে যায়। এর আগেই পরিবারসহ আত্মগোপনে চলে যান বাবু। ওইদিন বিকেলে দুর্বৃত্তরা তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়ে দরজা জানালা, সিঁড়ির রেলিং, এসি, টিভি, ফ্রিজ, সোফা, আলমারি ভর্তি বইপুস্তক, ক্রেস্ট থেকে শুরু করে নগদ টাকার পাশাপাশি ঘরে রক্ষিত সমস্ত আসবাবপত্র লুটে নিয়ে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। কেয়ারটেকারসহ বাসায় লোকজন আগেই সরে যাওয়ায় কোনো প্রাণহানি হয়নি।
স্থানীয় অনেকেই জানান, তাঁর জীবদ্দশায় এ রকম লুটপাট ও অগ্নিকাণ্ড দেখেননি। দিনদুপুরে দুর্বৃত্তরা বাবুর দৃষ্টিনন্দন বাড়িটি বিরানভূমি বানিয়ে ফেলেছে। বাড়ির টাইলস ও দেয়ালগুলো হ্যামার দিয়ে ভেঙে নষ্ট করে দিয়েছে। সুনসান নীরব নিস্তব্ধ বাড়ি থেকে এখনও আগুনে পোড়া দুর্গন্ধ বের হয়। গত প্রায় দুই মাস ধরে এখানে নেই কোনো প্রাণের স্পন্দন।
সরকারী চাকরী ফেলে স্বামীর সাথে পলাতক রয়েছেন আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সায়মা আফরোজ ইভা। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে ডাঃ সায়মা আফরোজ ইভা কোন কর্মকর্তাদের ই আদেশ নির্দেশনা মানতেন না। উল্টো খোদে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ এ এফ এম মুশিউর রহমানকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নানা অপকর্ম করতেন হুইপ পত্নী ডাঃ ইভা। স্বামী নজরুল ইসলাম বাবুর মতো ডাঃ সায়মা আফরোজ ইভার বিরুদ্ধে দুদকে হাজার কোটি টাকার অভিযোগ থাকলেও গত সরকারের শাসনামলে তুরি বাজিয়ে সেই অভিযোগ উড়িয়ে দেয় বাবু। আর ডাঃ সায়মা আফরোজ ইভার গাড়ী চালক (আউটসোর্সিং) ড্রাইভার জগলু নানানভাবে আঙ্গুল ফুলে কলঅগাছ বনে যাওয়ায় একই সাথে পালিয়ে যায়। একই সাথে বিগত সময়ে জগলুর মতো সুবিদাভোগি হাজার হাজার সাঙ্গপাঙ্গ পারিয়ে যায় আড়াইহাজার ছেড়ে ।
বিগত সরকারের মাসনামলে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ এ এফ এম মুশিউর রহমানও নিজের অপকর্ম ঢেকে রাখতে ডাঃ ইভাকে সবসময়ই উল্টো তৈলমর্দন করতেন একেবারেই প্রকাশ্যে । আড়াইহাজারের সকল নির্বাচনে ডাঃ সায়মা আফরোজ ইভা সরকারী কর্মকর্তা হয়েও প্রকাশ্যেই সকল ধরণের নির্বাচনী কর্মকান্ড চালাতেন। ডেম কেয়ার ভাব ছিলো ডাঃ সায়মা আফরোজ ইভার ।
এমন অসংখ্য ঘটনায় সাবেক হুইপ বাবুর পাশেই ছিল আড়াইহাজার পৌরসভার কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেনের বাসভবন। তিনি জানান, বাবুর বাড়িতে মুখোশধারী সশস্ত্র একটি গ্রুপ তাণ্ডব চালিয়েছে। হামলার সময় তারা উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী ভাঙচুর ও লুটপাট করতে থাকে। তাদের হিংস্রতা দেখে আশপাশের লোকজন আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে থাকে।
এ এলাকার বাসিন্দা আড়াইহাজার উপজেলা অনেকেই বলেন, ‘৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন হওয়ার পর ওইদিন সন্ধ্যায় নিজের বাড়িতে দেখতে আসি। এসে শুনলাম নজরুল ইসলাম বাবু নিরাপত্তার দায়িত্ব যাদের দিয়ে গেছেন তারাই তাঁর বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। যদিও নজরুল ইসলাম বাবু গত ১৫ বছর ধরে বিনা কারণে নির্যাতন, হামলা ও গায়েবি মামলা দিয়ে জেল খাটিয়েছেন। তারপরও তাঁর এ রকম ক্ষতি আমাদের কাম্য ছিল না। কারণ বিএনপি প্রতিটি নেতাকর্মী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে এবং সবসময় শান্তি-শৃঙ্খলায় বিশ্বাস করে। তাই সবসময় আমরা সব ধরনের সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলার প্রতিবাদ করে আসছি।’









Discussion about this post