এবার নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ কমিটি ঘিরে চলছে নোংরামি খেলা । এ খেলা চলছে দীর্ঘদিন যাবৎ।
৫ আগষ্টের পর চর দখলের মতো সেই ওসমান পরিবারের চাটুকার চক্র নানা নয়-ছয়ের মতো ঘোষণা দেয় নতুন কমিটি।
এরপর চলে নানা নাটক মঞ্চায়ন। এমন ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার পর নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের ঘোষিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) স্থগিতের দাবী উঠার পর এ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য এসেছে সভাপতি মাসদুজ্জামানের কাছ থেকে।
শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে এ দাবির পর কথা বলেন তিনি।
এ জন্য দোষারোপ করেন শিল্পপতি মোহাম্মদ আলীকে।
শিল্পপতি মোহাম্মদ আলী সম্পর্কে মো. মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেন, উনি কি কাউকে সভাপতি বানানোর কোনো ক্ষমতা রাখেন নাকি? সে মূলত চেম্বারের কেউ না। শুধুমাত্র তিনি একজন মেম্বার। এছাড়া তো উনি কিছু না। উনি কিভাবে সভাপতি বানায় ফেলেন ? এটা আগে সম্ভব ছিল। এখন আর কিভাবে ঘটবে। মোহাম্মদ আলী সাহেবের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আমার সম্পর্ক ভালো। কিন্তু উনি যা এখন করাচ্ছেন তা নোংরামি ছাড়া কিছুই না। আজকের সংবাদ সম্মেলনের পেছনে পরিষ্কারভাবে তার ইন্ধন রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের আগে মোহাম্মদ আলীর পঞ্চবটির অফিসে মিটিং হয়েছে। এতোদিন এ নিয়ে কেউ কথা বলেননি। কারণ মোহাম্মদ আলী সাহেবকে দাওয়াত দেই নি তাই। সংবাদ সম্মেলনে কি কথা বলতে হবে তাও মোহাম্মদ আলী সাহেব বানিয়ে দিয়েছেন। উনি সুযোগ চাচ্ছেন চেম্বারে প্রবেশ করার। কিন্তু যারা গত ১৫ বছর বিভিন্নভাবে সুবিধা নিয়েছিল তারাই যদি পুনরায় চেম্বার অব কমার্সের দায়িত্বে আসতে চায় এ নিয়ে আমি উৎসাহবোধ করি না।
তিনি বলেন, আমি জোর করে সভাপতির পদ দখল করি নাই। ওই কঠিন মুহূর্তে আমাকে চেম্বার অব কমার্সের ব্যবসায়ীরা সংগঠনের হাল ধরতে বলেন। পরে আমি সভাপতি পদ গ্রহণ করে চেম্বার অব কমার্স পরিচালনা করছি। আর আমিতো পূর্বের ন্যায় সারাজীবনের জন্য সভাপতি হয়ে যাইনি। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির দিকে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। নির্বাচনে চেম্বার অব কমার্সের যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারবেন। সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যেই শনিবার এজিএমের আয়োজন করা হয়েছে। এদিন নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখসহ বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণ করা হবে। একটি মহলের ইন্ধনের কয়েকজন ব্যবসায়ী গুজব ছড়াচ্ছেন, এজিএমের মাধ্যমেই নাকি আমরা নির্বাচন ছাড়াই কমিটি গঠন করে ফেলছি যা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আর রেজিস্ট্রেড প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে এজিএমে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এখানে কাউকে মাইনাস করার সুযোগ নেই। বিগত আওয়ামী লীগের পুরোটা সময় আমি নির্যাতিত ছিলাম। তখন কমিটি নিয়ে কেউ কোনো কথা বলার সাহস পেতো না। এখন যারা বলছে তাদের আমি সাধুবাদ জানাই। নির্বাচনে ১০টা প্যানেল হোক আমরা তাতে রাজি আছি। সবাই যে চেম্বার অব কমার্স নিয়ে কথা বলছেন তা আমি ইতিবাচকভাবে দেখি। আমি চাই আমাদের কোনো ভুল হলে তারা গঠনমূলক সমালোচনা করুক।
‘চাঁদাবাজির টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে স্ট্যান্ডবাজি করেছেন’ এই প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, আমি যেদিন সভাপতির পদ গ্রহণ করি সেদিন আমি স্পষ্ট করে বলেছিলাম, চেম্বার অব কর্মাস থেকে চাঁদাবাজি করে যারা ৮ লাখ টাকা নিয়েছেন। যদি খুব শিগগিরই এই টাকা ফেরত না দেন তাহলে শহীদ মিনারে রেড কার্ড দেখিয়ে সেসব চাঁদাবাজদের নাম প্রকাশ্যে বলা হবে। আমার এই বক্তব্যের পর ওইসব চাঁদাবাজরা পরবর্তীতে এক সপ্তাহের মধ্যেই চাঁদার টাকা ফেরত দিয়ে দেন। তাহলে কোন যুক্তিতে তাদের নাম প্রকাশ করি, প্রশ্ন মাসুদুজ্জামানের।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ঘোষিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) স্থগিতের দাবি জানানো হয়েছে। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সদস্য ব্যবসায়ী গোলাম সারওয়ার সাঈদ।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ সভাপতির পদ থেকে খালেদ হায়দার খান কাজল পদত্যাগ করার পরে অতি চাতুর্যতার সাথে ফ্যাসিবাদের দোসর মোরশেদ সারওয়ার সোহেল গং মাসুদুজ্জামানকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে কো-অপ্ট করেন। সেইসাথে ত্বকী হত্যাকা-ের আত্মস্বীকৃত খুনি পরিবারের ব্যক্তিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাখা হয়েছে। এছাড়াও চাঁদাবাজির টাকা ফেরত দেয়া নিয়েও স্ট্যান্টবাজি করা হয়েছে। বিগত দিনে মাসুদুজ্জামান আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ লোক ছিলেন, স্বৈরাচারের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। যার পুরস্কার স্বরূপ শেখ হাসিনার সরকার তাকে সিটিজেন ব্যাংক উপহার দিয়েছিল। তিনি কত কোটি টাকা শেখ পরিবারকে দিয়েছেন এইটা নারায়ণগঞ্জবাসী জানতে চায়। স্বৈরাচার সরকারের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তিনি গত ১৬ বছরে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন, এই বিষয়টি সরকারকে দেখতে হবে। সেইসাথে তাকে প্রমাণ করতে হবে কাকে তিনি চাঁদা দিয়েছেন এবং কে ফেরত দিয়ে গেছে। বিগত ১৬ বছরে তিনি কত টাকা চাঁদা দিয়েছেন সেটিও তাকে জনসমক্ষে বলতে হবে। মাসুদুজ্জামানের নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদের দোসরদের চেম্বার অফ কমার্সে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। তারই অংশ হিসেবে তার নিজস্ব বলয়ের কিছু ব্যবসায়ীদেরকে নিয়ে শনিবার চেম্বার অব কমার্সের এজিএম করতে যাচ্ছেন। গঠনতন্ত্রের আলোকে কমপক্ষে সাত দিন পূর্বে সাধারণ সভার নোটিশ সকল সদস্যদের কাছে পৌঁছাতে হবে। কিন্তু তিনি সুকৌশলে তার বলয়ের লোকের বাইরে কাউকে দাওয়াত দেননি। চেম্বারের সদস্য হলেও অন্তত ২০০ ব্যবসায়ীর সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে যারা এজিএমের কোন চিঠি পাননি। তাই শনিবারের এজিএম স্থগিতের দাবি জানাচ্ছি। কমিটিতে ফ্যাসিস্টদের দোসর থাকায় মাসুদুজ্জামানসহ নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পূর্ণাঙ্গ বোর্ড পদত্যাগ করতে হবে এবং নির্বাচন দিতে হবে। যদি এজিএম স্থগিত করা না হয় এবং ফ্যাসিস্টদের দ্বারা পরিচালিত এই কমিটি পদত্যাগ না করে তাহলে আমরা নিয়ম মোতাবেক পদক্ষেপ নিব।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ৪ দফা দাবি উত্থাপন করেন ব্যবসায়ীরা। দাবিগুলো হচ্ছে- মাসুদুজ্জামানসহ নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পূর্ণাঙ্গ বোর্ড পদত্যাগ করতে হবে এবং নির্বাচন দিতে হবে।
বিএনপি ও জামায়াতকে নারায়ণগঞ্জবাসীর সামনে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিতে হবে, চাঁদাবাজির টাকা তারা নিয়েছে কিনা ? জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র জনতাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের কিভাবে মূল্যায়ন করবে? সেহেতু নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক সকল সাধারণ সদস্যবৃন্দ তাই সাধারণ সদস্যদের প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে যদি ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রেতাত্মা দখলদারিত্ব করতে চায় তাহলে সাধারণ সদস্যরা প্রতিরোধ করবে এবং এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে।
এমন ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হলে আজ শনিবার ২৬ অক্টোবর দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেন মাসুদুজ্জামান।









Discussion about this post