শীতলক্ষ্যা নদীর বন্দর এলাকায় একটি জ্বালানি তেলের ট্যাংকার থেকে লুট করা ৫০ হাজার লিটার ফার্নেস তেল উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনীর একাধিক টিম।
শুক্রবার (১ নভেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের কলাগাছিয়া এলাকার থানা-পুলিশ, নৌ পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাব যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করে।
এমন অভিযানের টের পেয়ে অপরাধীরা পালিয়ে গেলে কাউকে আটক করতে পারে নাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে অপরাধীদের ধরতে চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন কলাগাছিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সালেহ আহমদ পাঠান।
সালেহ আহমদ পাঠান বলেন, যৌথ বাহিনীর অভিযানে জ্বালানি তেল লুটের কাজে ব্যবহৃত দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ মোট তিনটি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। অপরাধীদের আটক করতে চেষ্টা চলছে।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৫০ হাজার লিটার ফার্নেস তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধার করা তেলের দাম প্রায় ৫০ লাখ টাকার মতো।
বন্দর থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে প্রায় চার লাখ লিটার জ্বালানি তেল বহনকারী একটি বড় তেলের ট্যাংকার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে গাজীপুরের আরপিসিএল পাওয়ার প্ল্যান্টে যাচ্ছিল। এ সময় একদল ডাকাত দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে ট্যাংকারটি থামিয়ে প্রায় ৫০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল লুট করে।ডাকাত চক্র তেল লুটের পর ট্যাংকারের চারজন ক্রুকে জিম্মি করে তেল লুটের পরে তাঁদের নিরাপদ স্থানে ছেড়ে দেয়। লুট করা জ্বালানি তেল কলাগাছিয়া এলাকার একটি চরে ডালিম ও শিপন নামে দুজনের তত্ত্বাবধানে রাখা হলেও মূলত এই চক্রের মুল হোতা সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার প্রধান ওরফে তেলচোরা দেলু।
এমন ঘটনা জানতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দা আল-আমিন বন্দর থানা-পুলিশকে জানানো হলে বন্দর-পুলিশ ও কলাগাছিয়া নৌ পুলিশের ২০ থেকে ২৫ জন সদস্যের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে জব্দ করে ফার্ণেস অয়েল।
পুলিশের অভিযান চলাকালে তেলচোরা দেলু বাহিনীর লোকজন পুলিশকে থেকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছালে পালিয়ে যায় দেলু বাহিনী।
এরপর যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকা দুটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে লুট হওয়া জ্বালানি তেল উদ্ধার করে। নৌকা দুটি কলাগাছিয়া নৌ পুলিশ ক্যাম্পের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
পুলিশের কাজে বাধা দেয়ায় যৌথ বাহিনী তেলচোরা দেলু বাহিনীর অন্যতম হ্যতা ডালিম ও শিপনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে খালি গ্যালন, দা, ছুরি ও পাসপোর্ট উদ্ধার করলেও অপরাধী চক্রের কাউকে আটক করা যায় নাই।
এলাকাবাসী জানায়, দেলু বাহিনীর অন্যতম হোতা ডালিম, শিপনসহ বেশ কয়েকজন চিহ্নিত অপরাধী দীর্ঘদিন যাবত তেলচুরিসহ সকল ধরনের অপরাধ করেই যাচ্ছিলো। আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় থাকলে এমন অভিযান করতেই পারতো না পুলিশ।
উল্লেখ্য, তেলচোরা দেলু এক সময় নৌকার মাঝি হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে ওই দেলু দেলোয়ার প্রধান হিসেবে স্থানীয় প্রভাবশালী এবং ইউপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। একই সাথে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন গুলি করে হত্যা মামলায় আসামী হলেও ওসমান পরিবারের অন্যতম সহযোগী তেলচোরা দেলু এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলছে । যার প্রমাণ এই তেল চুরি।









Discussion about this post