সোনারগাঁয়ের সেই রয়েল রিসোর্টে মাওলানা মামুনুল হকের উপর হামলার পর গ্রেপ্তার হেফাজতে ইসলামের কর্মী মাওলানা ইকবাল হোসেন মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় হাবিবুর রহমান নামের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এস–এর সোনারগাঁ প্রতিনিধিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (১৩ নভেম্বর) রাতে সোনারগাঁর টিপরদী এলাকার ওষুধের দোকান থেকে হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার নারায়ণগহ্জ আদালতে পাঠানোর পর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারী গণমাধ্যমকে বলেন, ২০২১ সালের ঘটনায় গত ২১ অক্টোবরে দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হাবিবুর রহমান। ১৩ নভেম্বর (বুধবার) রাতে মামলার বাদীসহ লোকজন হাবিবুর রহমানকেকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। হাবিবুরকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।
অভিযোগ সূত্রে যানা যায়, মাওলানা মামুনুল হক স্ত্রীসহ ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল রাতে সোনারগাঁর রয়েল রিসোর্টে অবকাশযাপনের জন্য আসলে দুই সাবেক সংসদ সদস্যের ষড়যন্ত্রে পুলিশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে এজাহারনামীয় ১২৮ আসামি ছাড়াও আরো অজ্ঞাতনামা ১৫০ আসামি মামুনুল হককে স্ত্রীসহ হেনস্তা করে। এ ঘটনায় রাতে সোনারগাঁয়ে হেফাজতকর্মী মাওলানা ইকবাল হোসেন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় মামুনুল হককে হেনস্তার প্রতিবাদ করেন।
জানা যায়, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিলের ওই ঘটনার তিন বছর পর গত ২১ অক্টোবর হেফাজতে ইসলামের সদস্য মাওলানা শাজাহান শিবলী বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় নারায়ণগঞ্জের সাবেক দুই সংসদ সদস্য সাবেক নজরুল ইসলাম বাবু, কায়সার হাসনাত, পুলিশ সুপার জায়েদুল আলমসহ ১২৮ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে মামলা দায়ের করে ।
এজাহারনামীয় আসামীরা মাওলানা ইকবাল হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে কিল–ঘুষিসহ রড দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। আহত অবস্থায় তাঁকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে আদালতে পাঠান। ঘটনার পর তৎকালীন সময়ে পুলিশ তাঁকে রিমান্ডের নামে নির্যাতন করে মাওলানা ইকবালকে। মাওলানা ইকবাল অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করে । শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২১ সালের ২১ এপ্রিল মারা যায় মাওলানা ইকবাল।









Discussion about this post