কাটায় কাটায় ১১ ডিসেম্বর অর্থাৎ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২ টা ৩৯ মিনিট । শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের ঠিক নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের মূল ফটকের সর্বোচ্চ ১০ গজ দক্ষিনে দিকে অর্থাৎ ক্লাব মার্কেটের সামনে একজন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ হেটে হেটে যাচ্ছেন। কিন্তু হাটতে গিয়ে তিনি বারবার হোচট খাচ্ছেন। এমন দৃশ্য দেখে সামনে এগিয়ে তার সম্যস্যা জিজ্ঞেস করতেই ষাটোর্ধ্ব স্যুট কোট পরিহিত এই বৃদ্ধ প্রতিবেদককে চিনতে পেরে ভাই বলে সম্বোধন করে বলেন, “আমি ভাই একটু বেশী খেয়ে ফেলেছি । কোন গাড়ীও পাচ্ছি না। আমাকে একটু বাড়ি পৌছে দিবে ?“
ষাটোর্ধ্ব স্যুট কোট পরিহিত এই বৃদ্ধের এমন অনুরোধে তাকে গাড়িতে তুলে তার বাড়ির পথে রওয়ানা হওয়ার সময় থেকে বারবার বলতে থাকেন, “ভাই আমি তোমাকে খুব ভালো করে চিনি। প্লিজ বিষয়টি ভিন্ন ভাবে নিও না । আমি প্রতিদিন খাই না। আজকে সোলায়মান সাহেব আর মাহমুদ খুব করে ধরেছে, তাই খেয়েছি একটু বেশীই । বিদেশী ছিলো তো।”
আবার তিনি বলছেন, “ভাই কিছু মনে কইরো না, আজকের হোস্ট ছিলেন সোলায়মান ভাই। আর এরেঞ্জার ছিলেন মাহমুদ। কথা হইলো সব কিছুতেই এখনো ওই ওসমান পরিবার। সোলায়মান ভাইকে দুবাই থেইক্কা পুরা সাপোর্ট দিতেছে শামীম ওসমান ও টিটু । আর সেলিম ওসমান তো প্রতিনিয়তঃই ভোটারদেরকে হিসেব করে ফোন দিতেছে সোলায়মান ভাইকে পাশ করানোর জন্য। একই সাথে সোলায়মান ভাইয়ের নিজের যেমন অর্থ বিত্ত কম নাই তেমনই তার বিয়াই ক্যাসিনো দেলু নেপথ্যে থেইক্কা সকল কলকাঠি নাড়তেছে মাহমুদের মাধ্যমে। বিশাল এই মদের আয়োজনও করেছে সেই ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ট মদ ব্যবসায়ী আমলাপাাড়ার সুজিত সাহা। সুজিতের বিরুদ্ধে নাকি মামলা হইছে, আশ্চর্য না ! সেই সুজিত ই ক্লাবের মদের ব্যবসা চালাইতাতে ওর ভাই মন্টুরে দিয়া। আর ক্যাসিনো দেলু তো আছেই। যেই দেলু ফ্যাসিষ্ট সরকারের মেয়র সাইদ খোকন কে ব্যবহার করছে আবার পল্টি দিয়ে মেয়র তাপস কে ব্যবহার করে ক্যাসিনোর ব্যবসা করে হাজার কোটি টাকার মালিক। সেই দেলোয়ার হোসেন গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া এলাকা ও দক্ষিণ সিটির নগর ভবনে তার পরিচিতি ‘মার্কেট খেকো দেলু’ নামে চিনলেও তার বাড়ি এই নারায়ণগঞ্জেই।”
নিশ্চিত সভাপতির পদে জয়ী হবেন এমন খুশিতে সোলায়মান ভাই আর মাহমুদ কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতেছেন নির্বাচনের জন্য। আজ মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) বিশাল খাবারের আয়োজন ছাড়াও মদ দিয়ে ভোটারদের আপ্যায়ন করেছেন সোলায়মান ভাই। আর বিএনপির যারা আছে তাদের অনেকেই ওই ওসমান পরিবারের কথায় এখনো উঠে আর বসে। এর কারণ কি জানো ভাই, কারণ হইলো, টিটু যে ক্লাবের শত শত কোটি টাকা লুটপাট করছে তার হিসাব যেন কেউ জানতে না পারে। আমি মদ খাইছি বইল্লা আবার মনে কইরো না আমি মাতাল হইয়্যা গেছি ।”
এ সময় গাড়ি থামিয়ে দোকান থেকে দিয়াশলাই কিনে সিগারেট ধরিয়ে ফের গাড়ি চালাতে বলে ফের বলতে থাকেন, “ছোট ভাই, তুমি তো ছোট ভাই, আমারে ক্ষমা কইরো মদ খাইছি বলে। আমি তোমারে চিনি । আমার সম্মান যেন ক্ষুন্ন না হয় সে দিকে খেয়াল রাইখো প্লিজ।“
ষাটোর্ধ্ব এই বৃদ্ধকে তার বাড়ির গেইটের সামনে নামিয়ে দিলে তিনি আবার বলেন, “ছোট ভাই সি ইউ এগেইন। মেনি মেনি থ্যাংকস।”
নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, আগামী ২১ ডিসেম্বর সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এখানে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে এম সোলায়মান ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন। যদিও তিনি বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। তাছাড়া এর আগেও তিনি সভাপতি হিসেবে ছিলেন। অপরদিকে তার বিপক্ষে সভাপতি পদে ১ নং ব্যালট নাম্বার নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছেন জুলফিকার রি-রোলিং মিলস লিমিটেড এর চেয়ারম্যান মো. মাহববুর রশিদ জুয়েল। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ স্টীল রি রোলিং মিলস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি পদে প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার মারুফ বাবু ও ইকবাল হাবিব। সহ সভাপতি পদে রয়েছেন আমিরুজ্জামান, সাইদুল্ল হৃদয়, খাজা এবাদুল হক প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়া সদস্য পদে ৯জন প্রার্থী রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ক্লাব নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন আনিসুল ইসলাম সানি, সদস্য হলেন, সাউফুল আলম, কুতুব উদ্দিন আহমেদ, এড.রকিবুল হাসান শিমুল, মোহাম্মদ হোসেন মিঠু।
Discussion about this post