“আপনারা (অন্তবর্তীকালীন সরকার) প্রশাসনে শেখ হাসিনার পোকা মাকড় রেখে দিলে দেশ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন ? নারায়ণগঞ্জে যে এসপির (পুলিশ সুপার) গুলিতে আন্দোলনকারী শাওনকে হত্যা করা হলো তাকে প্রমোশন দিয়ে ঢাকায় নিয়ে এলেন। তাহলে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, হত্যা বন্ধ করবেন কিভাবে ? যে পুলিশের কারণে রাজপথ রক্তাক্ত হয়েছে উল্টো তাদের ভালো পুরস্কার দিলে বর্তমান সরকার এবং পরবর্তীতে যারা আসবে তাদের জন্য ক্ষতিকর হবে ?“
এভাবেই অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সূচনা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে আজ রোববার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল মহানগর উত্তর আয়োজিত শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জের এসপি (পুলিশ সুপার) গোলাম মোস্তফা রাসেল ওরফে অটো রাসেলকে নিয়ে এমন সমালোচনা করে বক্তব্য প্রদান করেন।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, “কৃষক দল বাজার দরে কৃষি দ্রব্য কিনে কম মূল্যে বিক্রি করছে । বগুড়া থেকে কম মূল্যে বীজ কিনে কুড়িগ্রামে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করছে । এর জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে কৃষক দলকে ধন্যবাদ জানাই । এখন আন্দোলন নেই, কিন্তু বিএনপির কেউ বসে নেই। জনস্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে সব সময়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায় , ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং রেল গেইট এলাকায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালীতে নিজে উপস্থি থেকে গুলিবর্ষন করে তৎকালীন সময়ের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল ওরফে অটো রাসেল। (নারায়ণগঞ্জে চলাচলরত প্রতিটি অটো রিকশা থেকে নিয়মিত চাঁদাবাজি করায় হাজার হাজার অটো চালক এসপি গোলাম মোস্তফা রাসেলকে অটো রাসেল হিসেবে টিপ্পনী করে এমন অটো রাসেল হিসেবে পরিচিত লাভ করেন।)
২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর শাওনকে গুলি করে হত্যার পর নানা নাটকীয়তার পর ৪ সেপ্টেম্বর যুবদল কর্মী শাওন কে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে মামলা দায়ের করেন বিএনপিরর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী । ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেলকে । এছাড়া্ও গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহফুজুর রহমান কনক, মো. শাহরুল আলম, মো. সোহাগ, ফেরদৌস দেওয়ান, শাহাদাত হোসেনসহ অনেক পুলিশ সদস্যদের আসামী করা হলেও ওই মামলা খারিজ করে দেয় আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলের আইন বিভাগে।
পরবর্তীতে দুই বছর পর পুলিশের গুলিতে শাওন আহমেদ নামে এক যুবদলকর্মী নিহতের ঘটনায় গত ২১ অক্টোবর নিহতের বড় ভাই মিলন মিয়া বাদী মামলা করেন । এ মামলায় নারায়ণগঞ্জের সদ্য সাবেক পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের গাজী গোলাম দস্তগীর, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের লিয়াকত হোসেন খোকাসহ ৫২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে । এমন মামলার পরও নারয়ণগঞ্জের সেই এসপি (পুলিশ সুপার) গোলাম মোস্তফা রাসেল ওরফে অটো রাসেল একনো রয়েছেন বহাল তবিয়্যতে।
যার কারণে ব্যাপক সমালোচনা এখনো রয়েছে নারায়ণগঞ্জে ।









Discussion about this post