আওয়ামী লীগের শাসনামলের প্রভাবশালী গডফাদার যার কথায় ডিসি এসপি সিভিল সার্জন গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপদ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, জেলা পরিষদ, ড্রেজার অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, ভূমি অধিগ্রহণ বিভাগসহ সরকারী দপ্তরগুলোতে লুটপাটকারী নেতা শামীম ওসমান সকল ধরণের অপরাধ করার কারণেই বর্তমানে দেশে ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
আরএই গডফাদারের অন্যতম হোতা শ্যালক অপরাধের মাস্টারমাইন্ড মাদক ব্যবসার নারায়ণগঞ্জ জেলার একমাত্র ডিলার সুজিৎ সাহার গডফাদার নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের অর্থ আত্মসাৎকারী ও দুর্নীতিবাজ তানভীর আহমেদ টিটু শুণ্য থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে সেই ভগ্নিপতির পদাঙ্ক অনুসরণ করে একই ভাবে গোপনে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন অজ্ঞাত স্থানে।
মহা ধুরন্ধর অপরাধী তানভীর আহমেদ টিটু ও তার অন্যতম হোতা এস.এম রানার অপরাধের ফিরিস্তি সকলের মুখে উচ্চারিত হলেও এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোন সংস্থাই ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ৪২ লাখ টাকা কেলেংকারী ও নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের শত শত কোটি টাকা লুটপাটকারী তানভীর আহমেদ টিটু ও সহ-সভাপতি এস.এম রানার অপরাধের বিষয়ে এতোদিন মুখ খুৃলে নাই কেউ ই।
এবার নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের অর্থ আত্মসাৎকারী ও দুর্নীতিবাজ তানভীর আহমেদ টিটু ও এস.এম রানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন ক্লাব কর্তৃপক্ষ। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি পদে থেকে ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তানভীর আহমেদ টিটু ও সহ-সভাপতি এস.এম রানা।
নারায়ণগঞ্জের কুখ্যাত ওসমান পরিবারের ঘনিষ্টজন হওয়ায় সেই সময় তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেন নাই নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের কেউ ই। কিন্তু এখন তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কথা বলছেন অনেকে। এদিকে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের অনেক সদস্যই বলছেন নিজেদের দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ এর হিসাব শেষ করার জন্যেই ক্লাবের অফিস কক্ষে আগুন দিয়েছে ওসমানদের দোসর এস এম রানা ও রামু সাহা চক্র। মূলতঃ বিগত সময়ের অপরাধেল আমলনামা মুছে ফেলতেই টিটুর আদেশে তার দোষর রানা ও রামু এমন কান্ড করেছেন বলেও জোড় গুঞ্জর উঠেছে।
নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের অনেকেই বলেছেন, সেদিন ১৮ জুলাই ও ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা ভাংচুর ও আগুন দেননি। ওসমানদের দোসররাই তাদের দুর্নীতির হিসাব মুছে দেওয়ার জন্য অফিস কক্ষে আগুন ও ভাংচুর করেছেন। কিন্তু গত ৫ আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পরেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে তানভীর আহমেদ টিটু। কিন্তু এখনও দেশে মধ্যে আনন্দ উল্লাসে দিন কাটাচ্ছে সহ-সভাপতি পদে থাকা এস.এম রানা ও রামু সাহা। সম্প্রতি রামু সাহার ভাই ইয়ার্ণ মার্চন্টস এর সভাপতি লিটন সাহা গ্রেফতার হলে নানাভাবে তদ্বির করে লিটন সাহাকে রক্ষা করতে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে সফল হয়। নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন থানায় তানভীর আহমেদ টিটু ও এস.এম রানার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা থাকলে এই ড্রাইভার পুত্র রানা শহরের অবস্থান করেই নানা কলকাঠি নেড়ে যাচ্ছে।
এদিকে এমন অভিযোগের পর ড্রাইভার পুত্র এস এম রানা নিজেকে সাধু আখ্যায়িত করে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ মিথ্যে ও বানোয়াট বলেও প্রতিবাদ পাঠিয়েছে গণমাধ্যমে।
জানা যায়, গত ১৯ জুলাই বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন চলাকালিন সময় দুপুর ২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব থেকে শামীম ওসমান ও তার শ্যালক তানভীর আহমেদ টিটু সহ প্রায় দুই শতাধীক সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্র-জনতাকে লক্ষ করে গুলিবর্ষণকরে প্রকাশ্যেই । এসময় ওসমানদের সাথে থেকে ছাত্র-জনতাকে লক্ষ করে গুলি চালান নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি এস.এম রানা। সেদিন সকাল ১১টা থেকেই এস.এম রানা প্রায় শতাধীক সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে জড়ো হতে থাকেন। পরে দুপুরে ওসমানদের সাথে ছাত্র-জনতার উপর হামলা করেন।
কিন্তু গত ৫ আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর পরই নারায়ণগঞ্জ থেকে পালিয়ে যান এস.এম.রানা রামু সাহাসহ কুখ্যাত মাস্টারমাইন্ডার তানভীর টিটু বাহিনীর সকলেই। বর্তমানে এস এম রানা ঢাকায় বিসিবি’র একজন পরিচালক এবং নারায়ণগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম ফুয়াদের শেল্টারে ও আশির্বাদে ঢাকা নারায়ণগঞ্জে বিনা বাধায় ঘুরে বেড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ওই এসপি জায়েদুল আলম ফুয়াদ নারায়ণগঞ্জের দায়িত্বে থাকাবস্থায় তানভীর আহমেদ টিটুর বিরুদ্ধে মেরী এন্ডারসনের মাদক মামলা থেকে কৌশলে রক্ষা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। একই সাথে টিটু ও ওসমান পরিবারের সাথে সখ্যতা রেখে করোনা কালীন সময়ে পুলিমেল জন্য বরাদ্ধা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যান।
ওসমান পরিাবরের এতো অপরাধের ঘটনায় অনেকে মনে করেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার উপর হামলাকারী অনেকে গ্রেপ্তার হলেও ওসমানদের দোসর এস.এম রানা ও রামু সাহা দেশে থেকে এখনো কেনো গ্রেপ্তার হচ্ছে না।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সদস্য অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান গণমাধ্যমকে উল্লেখিত বিষয়ে বলেন, নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সদস্যরা মনে করেন এই ভাংচুর ও ক্লাবের অফিস কক্ষে আগুন লাগানো পেছনে ওসমান পরিবারই এই কান্ড ঘটিয়েছে। কারন হচ্ছে, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব থেকে তারা কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে এবং অফিস কক্ষে আগুন দেওয়ার মূল কারন হচ্ছে সেখানে থাকার সমস্ত নথিপত্র নষ্ট করে দেওয়া। ক্লাবে আগুন দেয়ার ঘটনায় বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় যে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে সেটার সাথে বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা জড়িত না। ওই সময় ওসমান পরিবার করেছে তাদের দুর্নীতি মুছে ফেলার জন্য। আমরা প্রথমে চেয়েছিলাম যারা বিগত আমলে দুর্নীতি করেছে তাদের বিরুদ্ধে একটা মামলা হউক আর যারা ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে এটার বিরুদ্ধে একটা মামলা করা হউক।
অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান আরো বলেন, ক্লাবে নব-নির্বাচিত যারা হয়েছেন তাদের কাছে সকলের প্রত্যাশা থাকবে ক্লাবের স্বার্থ রক্ষা করা এবং ক্লাবের স্বার্থ রক্ষা করতে হলে যারা দুর্বৃত্ত ও যারা ক্লাবের অর্থ আত্মসাৎ করেছে এবং সেই আত্মসাতের চিত্র, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে তার উদঘাটন করে অপিরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের লুটপাটের সময় বিগত সময়ে যারা জড়িত ছিলো তানভীর আহমেদ টিটুসহ সকলের বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত।
নব-নির্বাচিত সিনিয়র সহ-সভাপতি মারুফ আহম্মেদ বাবু উল্লেখিত বিষয়ে বলেন, নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের একটা সময় ছিলো আমরা কথা বলতে পারতাম না কিন্তু এখন সবাই কথা বলতে পারেন । আগামীতে আমাদের এজিএম আছে সেখানে আমরা এই অভিযোগগুলি উত্থাপন করবো । আর এমন ঘটনার জন্যে একটা আইনশৃঙ্খলা কমিটি গঠন করা হয়েছে ।
অতি দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান বাবু ।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের কোন কোন সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এরা কতটা দূর্ধর্ষ তা সকলেই জানে৷ তাদের এখনও শেল্টার দেয় সেই এসপি জাহেদুল ও রাসেলের মতো পুলিশ কর্মকর্তারা। যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য লোমহর্ষক অভিযোগ।









Discussion about this post