ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলের পুরোটা সময় ১৫ বছর আওয়ামীলীগের নেতাদের নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায় আস্ফালন ছিলো চোখে পরার মতো। তৎকালীন সময়ে ফোন করে আদালতের কোন বিচারক কোন মামলায় কি অর্ডার, কি আদেশ দিতে হবে সেই নির্দেশনা দেয়া হতো বিচারকদের মুঠোফোনে ফোন করে। এই তালিকায় আওয়ামীলীগের কুখ্যাত অপরাধী শামীম ওসমানের অন্যতম সহযোগী আইনজীবী সমিতির তৎকালীন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ওসমান পরিবারের অন্যতম চাটুকার কাজলের নির্দেশে চলতো আদালতের কার্যক্রম।
যা অনেক আইনজীবীর মাঝে ক্ষোভ থাকলেও কেউ কথা বলার সাহস পেতেন না। সেই নৈরাজ্যের অবসান হলেও এবার ফ্যাসিস্ট সরকারের দোষরদের আইনী সহায়তা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে মহানগর বিএনপি নেতা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধানের বিরুদ্ধে।
যদিও অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান বলেছেন ভিন্ন কথা।
গুঞ্জন ও সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর বিএনপি নেতা এইচ.এম আনোয়ার প্রধানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, তার (রিপনের) বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজি মামলা আছে আমি শুধু সেই মামলাটিই করেছি। তাকে আমি আমার এলাকার লোক হিসেবে চিনি। তার স্ত্রী আমার কাছে এসেছিলো। ওই একটি চাদাঁবাজি মামলা ছাড়া আমি অন্য কোন মামলা নেই নাই।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালিয়ে হত্যা ও মামুনুল হক কাণ্ডসহ একাধিক মামলায় গ্রেফতার হওয়া এক যুবলীগ ক্যাডারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান।
বিএনপিপন্থী আইনজীবী ও দলীয় নেতা হওয়া সত্ত্বেও একজন যুবলীগ ক্যাডারের পক্ষে আইনী লড়াই করায় আনোয়ার প্রধানকে নিয়ে সমালোচনা চলছে আদালত প্রাঙ্গণসহ সর্বত্র।
অসংখ্য প্রতারক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী এবং নানা অপরাধের হোতা আওয়ামী লীগের শাসনামলে যুবলীগ নেতা হিসেবে নিজের প্রচার চালানো সেই ফারুক হোসেন রিপন ওরফে সেমাই রিপন ওরফে চিটার রিপন বিগত ১৫ বছরের আওয়ামীলীগের শাসনামলের সময়ে তাকে আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মসূচিগুলোতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে দেখা গেছে।
এমনকি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর পক্ষে সক্রিয় অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে গণসংযোগে নেমে প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট চেয়ে বেড়িয়েছিলেন যুবলীগ ক্যাডার ফারুক হোসেন রিপন। ওই সময়ের একাধিক ভিডিও এবং ছবি প্রকাশ পেয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
কখনো নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, কখনো শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমান আবার কখনো ১৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা কবীর প্রধানের ঘনিষ্ঠ লোক, আবার কখনো সেই অস্ত্রধারী কুখ্যাত সন্ত্রাসী রিক্সাচালক পুত্র কাউসারের ঘনিষ্ট জন আবার নারায়ণগঞ্জ ক্লাাবের মাস্টারমাউন্ড তানভীর আহমেদ টিটুর আস্থাভাজন ড্রাইভারপুত্র এস এম রানা জমি সংক্রান্ত পার্টনার পরিচয় দিয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রিপন শহীদনগর এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে পুলিশের উপরও হামলা চালায়।
সেই কুখ্যাত অপরাধী যুবলীগ ক্যাডার রিপনের বিরুদ্ধে রয়েছে সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে আলোচিত মামুনুল হক কাণ্ডে ছাত্রলীগ যুবলীগের তাণ্ডবের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ। এমনকি ওই রয়েল রিসোর্টে হামলা ও হত্যা মামলার ১৮নং এজাহারভুক্ত আসামিও রিপন। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোসহ রিমান্ডেও নিয়েছে পুলিশ।
এছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে আন্দোলনকারীদের উপর হামলা চালানো এবং গুলি বর্ষণের মত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে এই যুবলীগ ক্যাডারের বিরুদ্ধে। নারায়ণগঞ্জ সদর, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ এবং সোনারগাঁও থানায় ছাত্র-জনতা হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত ১১ নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। এরপর একেরপর এক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো এবং রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অথচ সেই যুবলীগ ক্যাডার ও আওয়ামী দোসরের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে লড়ছেন নারায়ণগহ্জ আইনজীবী সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর বিএনপি নেতা এইচ.এম আনোয়ার প্রধান। ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামি যুবলীগ ক্যাডার রিপনের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় আনোয়ার প্রধানকে নিয়ে আদালত পাড়াতে সমালোচনা চলছে।
এমন ঘটনায় জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, আমি তো বিষয়টা জানি না আগে বিষয়টা জেনে নেই এরপর বলবো।
দীর্ঘ এক মাস পর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের উপস্থিতি ছিলো অনেক। এ সময় আজ বুধবার (১ জানুয়ারী) কয়েকজন আইনজীবী সমালোচনা করে বলেন, বিগত ১৫ বছর জুয়েল, মহসিন, খোকন সাহা, সুইটিসহ কিছু আইনজীবী কি করেছেন আদালত প্রাঙ্গণে তা সকলেই জানেন। ফোন করে কোন মামলায় কি আদেশ দিতে হবে তার নির্দেশনা দেয়া হতো বিচারকদের । ওই কান্ড করে একেকজন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। এখন তারা কোথায় ? পালিয়ে গেছে অপকর্ম করার কারণে । কোন বিএনপির আইনজীবী পালায় নাই কোন সময় ই । তাই এখন কেন ওই ফ্যাসিস্ট সরকারের অপরাধীদের আমরা সমর্থন দোবো ? এখন শুনতে পারছি কোন কোন বিএনপি নেতা ওই ফ্যাসিস্ট সরকারের অপরাধীদের নানাভবে শেল্টার দিচ্ছে। একই সাথে আদালত প্রাঙ্গণে গুঞ্জন রয়েছে একজন সিনিয়র আইনজীবী সম্প্রতি প্রকাশ্য আদালতে বিচারককে তুই তোকারী করে গালিগালাজও নাকি করেছেন । এমন কর্মকান্ড বিএনপির জন্য ক্ষতির কারন হবে। যা কোন বিএনপির নেতা, কর্মী ও সমর্থক কামনা করেন না ।









Discussion about this post