বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর সারাবিশ্বের বায়ুর মান এর দিক দিয়ে বাংলাদেশের বায়ুর অবস্থান ছিলো অত্যান্ত মারাত্মক। এই অবস্থার জন্য দায়ী খোদ পরিবেশ অধিদপ্তরের অসাধু চক্র ।
যারা শুধু বায়ু দূষনের দায়ে জাড়িতদের সাথে আঁতাত করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাচ্ছেন সারা বছর যাবৎ । আর অসাধু ইট ভাটা ব্যবসায়ী, ডাইং ব্যবসায়ী, ব্যাটারীর কারখানা, নিষিদ্ধ পলিথিন কারখানাসহ পরিবেশ ধ্বংসকারী অসাধু ব্যবসায়ীদের সাথে তালতো (অর্থাৎ দুলাভাই এর ভাই বা হতে পরে ভাবির ভাই) ভাইয়ের মতো সম্পর্ক করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত থাকছে পরিবেশ অধিদপ্তরের অসাধু চক্র।
আর পরিবেশ অধিদপ্তরের অসাধু চক্রের কারণে দেশের পরিবেশে মারাত্মক আকার ধারণ করার চিত্র প্রকাশ হলে সেই অসাধু উভয় পক্ষ মিলিত হয়ে নতুন নতুন নাটক মঞ্চায়ন করে যাচ্ছে মাসের পর মাস আর বছরের পর বছর। বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর সারাবিশ্বের বায়ুর মারাত্মক আকার ধারন করার পর পুরানো ধারণা অনুযাযী নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট প্রকাশ করে ‘বিপর্যস্ত বায়ু : ‘দেশ পুড়ে আলু পোড়া খায়’ নির্লজ্জ কর্মকর্তারা !’ শীর্ষক প্রতিবেদন ।
সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের নগ্ন চরিত্র। পুরানো ওই ধরনের ধারনা থেকে প্রতিবেদনে আশংকা করে প্রকাশিত হয় সেই নির্লজ্জ অসাধু চক্র পরিবেশের মারাত্মক এমন অবস্থাকে পুঁজি করে দুই – একদিনের মধ্যেই আবার নতুন করে নতুন আঙ্গিকে শুরু হবে পরিবেশ অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী ও দালালচক্রের নতুন নাটক নতুন বাণিজ্য। এ যেন “কারো ঘর পুড়ে, কেউ ওই আগুণে আলু পোড়া খায়” নীতিতে দীর্ঘদিন যাবৎ চলছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একেক সময়ের একেক নাটকে পরিবেশের উন্নতি না হলেও একেকজন কর্মকর্তা কর্মচারী কি পরিমাণ দূর্ণীতি করছেন তার হিসাব করতে হলে দূর্ণীতিবাজদের তালিকা তৈরী করে তাদের ঘরে ঘরে তল্লাসী করলেই বেড়িয়ে আসবে তারা কত টাকা সরকারী বেতন ভাতা পায় আর কিভাবে তারা লাইভ লিড করেন। স্বচ্ছতার সাথে তদন্ত করলে পরিবেশ অধিদপ্তরের অসাধু নির্লজ্জ কর্মকর্তা কর্মচারীদের একেকজন সদস্য চাকরী করা তো দূরের কথা তাদের জেল খাটতে খাটতেই জীবন যাবে।
সত্যি সত্যিই এমন প্রতিবেদন প্রকাশের দুই একদিনে মধ্যেই নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্লজ্জচক্র রূপগঞ্জের তারাব এলাকায় ফটোসেশন ও অভিযান নামক নাটক মঞ্চায়ন করে সেই পুরানো কায়দায় ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক সড়কের পরিবেশ কার্যালয়ে এসে ৫ টি ইটভাটার মালিককে দেখা করতে বলেন। অর্থাৎ পরিবেশ কার্যালয়ে আসার পর দরকষাকষি করে ফের বাণিজ্য।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারী) উল্লেখিত এমন তথ্য প্রদান করেন নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন নির্ভরশীল সূত্র।
জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সিনিয়র সহকারী সচিব ফয়জুন্নেছা আক্তারের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক এএইচএম রাসেদ এবং সহকারী পরিচালক মো. মোবারক হোসেন প্রসিকিউশন প্রদান করেন।
অভিযুক্ত ইট ভাটাগুলোর তালিকা এবং জরিমানার পরিমাণ: আড়িয়াবো এলাকার মেসার্স এমএম ব্রিকস, জরিমানা ২ লাখ টাকা, মেসার্স হাকিম ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং-২, জরিমানা ২ লাখ টাকা, কর্ণগোপ এলাকার মেসার্স বিসমিল্লাহ ব্রিকস, জরিমানা ২ লাখ টাকা, মেসার্স এএসবি ব্রিকস-১, জরিমানা ২ লাখ টাকা ও এরাব এলাকার মেসার্স এইচ আর বি ব্রিকস, জরিমানা এক লাখ টাকা।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত-২০১৯) এর বিভিন্ন ধারায় অভিযুক্ত এসব ইটভাটার কার্যক্রম অবৈধ প্রমাণিত হয়। অভিযানের পর এসব ভাটার কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের এই অভিযান বায়ুদূষণ রোধ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইটভাটাগুলোর অনিয়ম এবং আইন অমান্য করার কারণে স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে।
অভিযানে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহযোগিতায় পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ দল অংশ নেয়। অভিযানের সময় ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করে আইন ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বায়ুদূষণকারী এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তারা নিয়মিত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এমন অভিযানের ঘটনাকে পুরোপুরি নগ্ন নাটক বলে মন্তব্য করেছেন ওই সূত্র। যা কারোর ই বন্ধ করার ক্ষমতা নাই বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।









Discussion about this post