নামে জাতীয় পার্টি করলেও প্রকৃত পক্ষে দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামীলীগের শাসনামলে অত্যান্ত আস্থার সাথে ওসমান পরিবারের পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে পরম শ্রদ্ধায় তেলবাজি করে সংসদ সদস্য হয়েই লিয়াকত হোসেন খোকা অসীম ক্ষমতার অধিকারী বনে যান।
অথচ এই লিয়াকত হোসেন খোকা এক সময় নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জে ট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ছিলেন নসিম ওসমানের বদৌলতে। এরপর নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির প্রয়াত প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসিম ওমানের হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। এমপি হয়ে সু-সম্পর্ক গড়েন জাতীয় পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদের সাথে। ওই সময় নাসিম ওসমান খোকা ও এরশাদের সম্পর্ক দেখে নিজেও খোকার বিরুদ্ধে হিংসার রাজনীতি শুরু করেন। তবে এতে কোনো কাজ হয়নি। খোকার সাথে ততক্ষণে এরশাদ ও তার ভাই জিএম কাদেরের সখ্যতা অনেক বেড়ে গেছে।
অনেকের মতে, লিয়াকত হোসেন খোকা ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠজন এবং জাতীয় পার্টির এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি পেশীশক্তির রাজনীতি করেন নি। নমনীয় আচরণ এবং সবার সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রেখে চলার জন্য তার সুনামও রয়েছে।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ পতনের পর বেশ কয়েকটি হত্যা মামলা হয়েছে লিয়াকত হোসেন খোকার বিরুদ্ধে। কিন্তু জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় হত্যা মামলা কাঁধে নিয়েই ঢাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন খোকা। ২২ জানুয়ারি ঢাকার বনানীতে অবস্থিত জাপার চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় জিএম কাদেরের ঠিক পাশেই বসা অবস্থা দেখা গেছে একাধিক মামরার আসামী এই খোকাকে।
কাদেরের কার্যালয়ে আয়োজিত ওই মতবিনিময় সভার সভাপতিত্ব করেন লিয়াকত হোসেন খোকা। এ সময় খোকাসহ পার্টির নেতাকর্মীরা ৫ আগস্টের পর তাদের স্বাভাবিক রাজনীতি করতে বাধা প্রদান এবং হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, ‘সরকার জাতীয় পার্টিকে রাজনীতিতে কোণঠাসা করতে চাইছে। ‘জাতীয় পার্টির সঙ্গে বৈষম্য শুরু হয়েছে। আমাদের স্বাভাবিক রাজনীতিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, আমাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হচ্ছে। সে হিসেবে আমরা নব্য ফ্যাসিবাদের শিকার মনে হচ্ছে।’
বুধবার (২২ জানুয়ারী) দুপুরে জাপার চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়ে নরসিংদী জেলার নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জি এম কাদের এ কথা বলেন।
মতবিনিময় ওই সভায় ঢাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মো. মজিবুল হক চুন্নু, নরসিংদী জেলা সভাপতি হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক নেওয়াজ আলী ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম হাসান ও সদস্য আবু সাঈদ স্বপন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হেনা খান, চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী প্রমুখ।









Discussion about this post