রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দেশের প্রথম সেনা প্রধান, মুক্তিযুদ্ধের এস ফোর্স বাহিনীর অধিনায়ক ও ৩ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) কে এম শফিউল্লাহ (বীর উত্তম) এর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সেনাবাহিনীর বিশেষ তত্ত্বাবধানে রোববার (২৬ জানুয়ারি) বাদ জোহর দুপুর সোয়া দুইটায় তার জন্মস্থান নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কাজী আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গার্ড অব অনারের মধ্য দিয়ে এই জাতীয় বীরের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বাদ আসর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
কে এম শফিউল্লাহ’র জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দীপু, সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলামসহ মরহুমের একমাত্র ছেলে কাজী ওয়াকার আহমেদ, নিকট আত্মীয়স্বজন, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা অংশ নেন।
জানাজা শেষে মরহুম কে এম শফিউল্লাহ আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
বাবা কে এম শফিউল্লাহ’র মৃত্যুতে একমাত্র ছেলে কাজী ওয়াকার আহমেদ বলেন, আজ রোববার বাদ আছর ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানানা শেষে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে মরহুমের মরদেহ দাফন করা হয়েছে।
কে এম শফিউল্লাহ ১৯৩৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭৫ সালের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত তিনি সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি মালয়েশিয়া, কানাডা, সুইডেন ও ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অবসর গ্রহণের পর সাবেক সেনাপ্রধান কে এম শফিউল্লাহ ১৯৯৫ সালে আওয়ামী লীগে যোগদানের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। পরের বছর ১৯৯৬ সালে নারায়ণগঞ্জ-১ আসন (রূপগঞ্জ) থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। কে এম শফিউল্লাহ তিন মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রীসহ বহু আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।









Discussion about this post