আবারো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগড়াপাড়া চৌরাস্তার সড়কের উপর স্থাপিত সড়ক ও জনপথের (সওজ) জমির উপর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ফলের দোকানসহ তিন শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে কর্তৃপক্ষ।
আজ রবিবার (২৬ জানুয়ারী) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মঞ্জুরুল মোর্শেদ ও কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি ওয়াহেদ মোর্শেদ।
এমন অভিযানকালে মোগরাপাড়া চৌরাস্তার দু’পাশের একটি ফলের দোকানসহ মোট ৫টি অবৈধ দোকানদারকে চার হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন মোগড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, ইউপি সদস্য আবুল হোসেন, আবু জাহের ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা।
এমন উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সকলের সামনেই উপস্থিত অনেকেই কড়া ভাষায় মন্তব্য করে বলেন, “এই উচ্ছেদ কতক্ষনের জন্য? কতক্ষণ পর টাকা দিয়ে আসলেই আবার বসবে পসরা ? মূলতঃ টাকার টান (প্রয়োজন) পরলেই চলে উচ্ছেদ উচ্ছেদ নাটক। গোপনে প্রয়োজন ও চুক্তি মোতাবেক টাকা দিলেই আবার যে লাউ সেই কদু । আর এখন উচ্ছেদ চলিয়ে বাহ বাহ নিচ্ছেন সড়ক ও জনপথ।”
এ সময় অনেকেই অভিযোগ করে আরো বলেন, “ মূলতঃ সড়ক ও জনপথ, হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মহাসড়কের জায়গা দখল করে স্থায়ী ও অস্থায়ী পাঁচ শতাধিক স্থাপনা নির্মাণ করে প্রভাবশালী মহল। ওইসব স্থাপনায় দোকানপ্রতি ১০-৫০ হাজার টাকা জামানত নিয়ে মাসিক ৩-১৫ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করে আসছে যুগের পর যুগ। এছাড়া প্রতিবার দখল উচ্ছেদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ওই চক্রটি আবারও সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে মহাসড়কে যান চলাচলে বাধার সৃষ্টি করেই যাচ্ছে দীর্ঘদিন যাবৎ ।
তবে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি ওয়াহেদ মোর্শেদ এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানান, “বর্তমানে সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া এলাকায় মহাসড়কের দু’পাশের দোকানপাট ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করছি । পরবর্তীতে জেল জরিমানার পরিমাণ বৃদ্ধিসহ আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে যেন এই জায়গাগুলোতে কোনোভাবেই আর অবৈধ দোকানপাট বসতে না পারে।”
সোনারগাঁ সহকারী কমিশনার (ভূমি) মঞ্জুরুল মোর্শেদ জানান, “সরকারি জমিতে স্থাপনকৃত অবৈধ ৫টি দোকানকে চার হাজার টাকা জরিমানাসহ প্রায় তিন শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। পরবর্তীতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এমন মন্তব্যের পরও অনেকেই বলেছেন, কোন অবস্থাতেই এই অবৈধ দখলদারদের স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ হবে না । কালকের মদ্যেই আবার হবে এই দখল ।









Discussion about this post