পতিত সরকারের শাসনামলে নারায়ণগঞ্জে দায়িত্বরত সকল জেলা প্রশাসক নগরবাসীর মতো নিজেও মৌমিতা পরিবহণের নৈরাজ্যের শিকার হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নানা মন্তব্য করলেও এই পরিবহণের দৌড়াত্ম বন্ধ করতে পারে নাই সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও তৎকালীন সময়ের ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিমএপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার কারণে।
প্রত্যেক জেলা প্রশাসক মৌমিতা পরিবহণের কারণে পুরো নগরবাসী জিম্মির কথা বিবেচনা করে বক্তব্য প্রদান করলেও পরবর্তীতে সকল জেলা প্রশাসকগণই বিড়ালের মতো মিউ মিউ করে চুপসে গেছেন দু্ই আসাদের কারণে।
চাউর আছে, সেই মৌমিতা পরিবহণের মূল মালিক দুই আসাদুজ্জামানের একজন সাবেক স্বরাস্ট্রমন্ত্রী ৫ আগষ্টের পর দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে রয়েছেন আর আরেক আছাদুজ্জামান (যারা নিজেদেরকে মিতা বলে ডাকাতেন) তিনি গত ১২ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হয়ে এখনো পর্যন্ত কারাগারে রয়েছেন বিভিন্ন হত্যা মামলায় ।
সেই মিতাখ্যাত প্রভাবশালী দুই ক্ষমতাধরের মালিকানাধীন মৌমিতা পরিবহণ বিগত সময়ে একদিকে দাপটের সাথে চষে বেড়াতেন পুরো ঢাকা নারায়ণগঞ্জ। আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে মৌমিতা পরিবহণের ড্রাইভার হেলপারদের কাছেও দেখা যেতো পুলিশের মতো বেতার যন্ত্র। আর ওই বেতার যন্ত্র জনসম্মুখে প্রদর্শণ করে পুলিশের মতোই জনসাধারণকে নানাভাবে হুমকি দিতো প্রতিনিয়তঃ।
মৌমিতার ড্রাইভার হেলপার আর বেতার যন্ত্রসহ লাঠি হাতে নিয়ে অপরাধীদের দৌড়াত্ম এখন আর দেখা না গেলেও সেই পুরানো ভঙ্গিতেই নগরবাসীকে জিম্মি করেই চলছে এই মৌমিতা পরিবহণ। এখন সেই মিতাখ্যাত আসাদুজ্জামান ও আছাদুজ্জামানের দাপট না থাকলেও হাতের মুঠোয় নগদ দিয়ে চলছে সেই মৌমিতা পরিবহণের শতাধিক বাস।
একই সাথে জোড়ালো অভিযোগ রযেছে, বিএনপির নামদারী কিছু নেতা শতাধিক মৌমিতা পরিবহণ থেকে ২৭০ টাকা হিসেবে প্রতিদিন চাঁদাবাজি করছে প্রকাশ্যেই।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে বিএনপির শহর কমিটির এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এতো ত্যাগ তিতিক্ষার পর আওয়ামী লীগের মতো ক্ষমতাধর জগদ্দল পাথর নামক একটা সন্ত্রাসী দলকে দেশে থেকে বিতারিত করা হলো । আর এরই মধ্যে কি শুরু হলো। যে যেভাবে পারছে সেই ভাবেই বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে লুটপাটের মহোৎসব চালাচ্ছে । এরই মধ্যে কেউ বাড়ি, কেউ গাড়ি, কেউ নতুন ফ্ল্যাট, কেউ নতুন নারী আবার কেউ পুরো জাহাজ ভেঙ্গে খেয়ে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটিয়েই যাচ্ছে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে। এক আছাদ কারাগারে আরেক আসাদ ওপারে এমতাবস্থায় মৌমিতা পরিবহণের প্রায় ১৩০ গাড়ি থেকে প্রতিদিন ২৭০ টাকা হারে চাঁদা নিয়ে প্রতিরাতেই উত্তোলিত চাঁদার ৩০/৩৫ হাজার টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে ফেনসিডিল আর ইয়াবা সেবন করতে খানপুরের একাধিক স্থানে আসর বসাচ্ছে সারারাতব্যাপী। এমন চাঁদাবাজি ছাড়াও খানপুরের মতো পুরো জেলা বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় চেয়ার টেবিল সোফা দিয়ে কক্ষ সাজিয়ে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে ‘ওমুক কে ধরো, তুমুক কে ধরো, ধরে আনো বিচার করো’ এমন হুমকি ধমকির ভঙ্গিমায় একেকজন বিচারক সেজে চালিয়ে যাচ্ছে নানা অপরাধ কর্মকান্ড । যা বিএনপির জন্য অত্যান্ত ক্ষতিকর । আর এই সুযোগ নিয়ে বিএনপির প্রতিপক্ষ চক্র ফায়দা হাসিলে ব্যস্ত রয়েছে ।”
বিএনপির নেতাকর্মীদের দূর্ণাম লাঘবে দ্রুত নামধারী বিচারক সেজে এমন বাড়ি, গাড়ি, নারী, ফ্লাট গড়ে তোলা নেতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীও করেন এই নেতা।









Discussion about this post