বিএনপির নাম ভাঙিয়ে স্থানীয় এক নেতার লাগামহীন চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানা ঘেরাও করে শাস্তির দাবি করেছে।
বৃহস্পতিবার ১৩ ফেব্রুয়ার বিকেলে উপজেলার ছোট ফাউসা এলাকাবাসী শাহীন মিয়া নামে ওই চাঁদাবাজের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে আড়াইহাজার থানা ঘেরাও করে। এ সময় বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ থানায় সমবেত হয়।
এলাকাবাসী জানায়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি প্রার্থী শাহীন মিয়া ছোট ফাউসা এলাকায় মামলা হামলার ভয় দেখিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজি শুরু করে। চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
ক্ষুদ্ধ মনির হোসেন জানান, শাহীন ও তাঁর লোকজন তাঁর কাছ থেকে এক লাখ টাকা দাবি করে। শাহিনের দাবীর অনুযায়ী চাঁদা না দিলে তাঁকে আওয়ামী লীগার বানিয়ে মামলায় কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেয় তারা।
টেক্সটাইল মিলের শ্রমিক আমান উল্লাহ ক্ষোভের সাথে জানান, তাঁর কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করে শাহীন ও তাঁর লোকজন। চাঁদা না দিলে তাঁকে আওয়ামী লীগের দোসর বানিয়ে মামলায় তাঁর নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছে তারা।
চাঁদাবাজ শাহীন মিয়া ছোট ফাউসা গ্রামের আনছার আলীর পুত্র। এক সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর সঙ্গে সখ্য রেখে এলাকায় বেশ প্রভাব বিস্তার করে চলতেন তিনি। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর রাতারাতি ভোল পাল্টে বিএনপি বনে যান। শুরু হয় শাহীনের নতুন অধ্যায়। বিভিন্ন স্থানে নিজেকে ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি প্রার্থী প্রচার করে ব্যানার টাঙ্গায়। শাহীন এলাকায় ছাত্রলীগের বেশ কিছু কর্মী নিয়ে একটি ক্লাব গঠন করে। তার বাহিনী নিয়ে একটি চক্র তৈরি করেন। এ চক্রটি ওরশ, খেলা, বিচার-সালিশসহ বিভিন্ন অজুহাতে স্থানীয়দের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতে থাকে।
মাদক কারবারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে অবাধে ব্যবসা করার সুযোগ করে দেয়।
বৃহস্পতিবারও ওরশ উদযাপনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে শাহীন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা ।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল আমিন জানান, শাহীনের চাঁদাবাজির কারণে ছোট ফাউসা এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। বিভিন্ন অজুহাতে তিনি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এসব অপকর্ম করে যাচ্ছেন।
আড়াইহাজার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ বলেন, এই শাহীন পলাতক নজরুল ইসলাম বাবু ও তাঁর ভাগনিজামাই রবিনের কর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলো। এখন ভোল পাল্টে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করছে। শাহীন বিএনপির কেউ না। শাহীনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে থানার ওসিকে বলা হয়েছে।
এমন চাঁদাবাজির বিষয় অস্বীকার করেছেন শাহীন। নিজেকে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য দাবি করে শাহীন বলেন, দলের প্রতিপক্ষরা আওয়ামী লীগের লোকজনকে ফুসলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। ছাত্রলীগের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িঘরে হামলা করা হয়েছে।
এ বিসয়ে আড়াইহাজার থানার ওসি এনায়েত হোসেন জানান, এ ব্যাপারে স্থানীয়রা থানায় এসে পুলিশকে জানিয়েছে। শাহীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।









Discussion about this post