তিতাসের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কর্মচারী, ওমেদার দালালচক্র ছাড়াও রাজনৈতিক দলের হোমরাচোমরারা কি পরিমাণ দূর্ণীতি কিরে যাচ্ছে তার হিসাব কেউ রাখে না । সরকারের যে সংস্থা দূর্ণীতি দমনে কাজ করবে সেই দুদকের মাত্র কয়েক গজের মধ্যে দূর্ণীতির (ঘুষের) টাকা ভাগবাটোয়ারার খবর গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে আসলেও কোন খোজ খবর ই রাখেন না দুদক ।
ফলে দূর্ণীতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে । এমন খবর এবার তুলে এনেছে দৈনিক কালবেলা। দূর্নীতি যেন রন্ধ্রে রন্ধ্রে, প্রতিটি সরকারি দপ্তরে এখনো চলনান থাকায় ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া সেই দূর্ণীতি নতুন এই ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকারের শাসনামলের মাথাচাড়া দেয়ায় সমালোচনা চলছে সমানতালে।
ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক সড়কের একপাশে দুদক কার্যালয়, অপদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার, পশু কর্মকর্তা কার্যালয়, তিতাসের ফতুল্লা জোনের কার্যালয়সহ আশেপাশে কর কর্মকর্তার কার্যালয়, রেজিষ্ট্রেশন কার্যালয় থাকলেও সকলেই যেন দূর্ণীতি যেন একে অপরের পরিপূরক ।
নিম্নে তিতাসের ‘ঘুষের টাকা ভাগাভাগি হয় দপ্তরে বসেই’ শীর্ষক সংবাদ হুবহু তুলে ধরা হলো :
দিনভর তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ এবং অননুমোদিত লোডের বিনিময়ে সংগ্রহ করা হয় ঘুষের টাকা। এরপর সেই টাকা ভাগাভাগি হয় সরকারি দপ্তরে বসেই। সবাই সবার অংশ বুঝে নেন। যেই কক্ষে টাকার ভাগভাটোয়ারা হয়, তার অন্য পাশেই প্রধান কর্মকর্তার কক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের প্রধান কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপক মশিউর রহমানের যোগসাজশে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন নিম্নপদস্থ কর্মকর্তারা। তিতাস গ্যাসের ফতুল্লা আঞ্চলিক বিক্রয় অফিসে এমন কয়েকজন কর্মকর্তার টাকা ভাগাভাগির কয়েকটি ভিডিও এসেছে কালবেলার হাতে।
ভিডিওতে টাকা ভাগাভাগিতে যাদের দেখা গেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী কারিগরি কর্মকর্তা মো. হারুন শেখ, সিনিয়র প্রকর্মী (জোনাল) ইসমাইল প্রধান, পিসি অপারেটর মো. হাসান ইমাম, সাহায্যকারী মো. সামছুদ্দিন ও সিনিয়র গাড়িচালক মো. সোলায়মান।
দেশের গ্রাহকদের উন্নত সেবা, প্রাকৃতিক গ্যাসের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ ও গ্যাস বিপণনে সুশাসন নিশ্চিতকরণে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় এবং পেট্রোবাংলার অধীনে তিতাস গ্যাস তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই সংস্থা ও তার কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নিজেরা আর্থিক সুবিধা নিয়ে গ্যাস চুরি তথা অবৈধ সংযোগ এবং অননুমোদিত লোড দিয়ে রাষ্ট্রীয় বিপুল আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ বহু পুরোনো।
এবার ফতুল্লার আঞ্চলিক বিক্রয় অফিসে কয়েকজন কর্মচারীর টাকা ভাগাভাগির এমন দৃশ্য জ্বালানি খাতে সুশাসন প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
জানা গেছে, প্রতিদিনই ফিল্ড থেকে অবৈধ টাকা সংগ্রহ করে তা সংস্থাটির সহকারী কারিগরি কর্মকর্তা মো. হারুন শেখের কক্ষে বসে ভাগভাটোয়ারা করা হয়। গণমাধ্যমের হাতে আসা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সহকারী কারিগরি কর্মকর্তা মো. হারুন শেখ তার নিজ কক্ষে বসে আছেন। আশপাশে দাঁড়িয়ে আছেন অন্য সবাই। সেখানে পিসি অপারেটর মো. হাসান ইমাম ১ হাজার টাকার কতগুলো নোট প্রথমে গণনা করেন। এরপর ছোট একটি স্লিপে সবার নাম লিখে লিখে টাকা দিচ্ছেন। বাকিরা হাসান ইমামের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিজেরাও গুনে নিচ্ছেন। এ সময় একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘৫টা বেজে গেছে, তাড়াতাড়ি কর।’ আরও কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, লাল রঙের টিশার্ট পরিহিত সিনিয়র গাড়িচালক মো. সোলায়মান সবাইকে টাকা ভাগভাটোয়ারা করে দিচ্ছেন।
জানতে চাইলে মো. সোলায়মান বলেন, ‘আমার মায়ের চিকিৎসার জন্য আমার কলিগ হারুন শেখের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিছিলাম। সেটা তাকে ফেরত দেওয়ার সময় কেউ একজন ছবি তুলেছে।’
এ বিষয়ে পিসি অপারেটর মো. হাসান ইমামকে একাধিকবার ফোন দিলেও পাওয়া যায়নি।
সহকারী কারিগরি কর্মকর্তা মো. হারুন শেখ বলেন, ‘আমি আপনাকে কোনো কথা বলব না। এ ঘটনার পরে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমি যা বলার কমিটির কাছে বলব।’
বক্তব্য জানতে তিতাস গ্যাসের ফতুল্লার আঞ্চলিক বিক্রয় অফিসের ব্যবস্থাপক মশিউর রহমানকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি। এ ঘটনার পরপরই ওই পাঁচজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এমন ঘটনায় খোজ নিয়ে আরো জানা যায় এই মশিউর রহমান ই তিতাস দূর্ণীতির অন্যতম প্রধান হোতা।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে
প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘জেলা কারাগার, কর কর্মকর্তার অফিস, রেজিস্টার অফিস, পশু সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় কিংবা তিতাস কার্যালয় ই বলি, এমন কোন সরকারি প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে দূর্ণীতি মুক্ত। আর দূদক তো দূর্নীতি নামক এই মেলা অর্থাৎ ‘দূর্ণীতি মেলা’র মূখ্য ভূমিকা পালন করছে দুদক । নইলে সকল দপ্তরে দূর্ণীতি হচ্ছে আর দুদক মাঝস্থানে বসে করছে টা কি ? তারা কি ভেরেন্ডা ভাজেন ?’









Discussion about this post