সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের কোটি কোটি টাকার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ সরকার বিদায়ের পর থেকে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ছোট আকারে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় ঘটলেও এবার লংকাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজির করা হয় পলাতক এমপি মামীমওসমানরে অত্যিান্ত আস্থাভাজন ও সিদ্ধিরগঞ্জের ক্যাশিয়ার কুখ্যাত অপরাধী ও দীর্ঘদিন আদমজী ইপিজেডের একক নিয়ন্ত্রণকারী সাবেক কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতিকে। এ সময় মতির সাথে বিএনপির কয়েকজন নেতার সাথে মোটা অংকের টাকায় আদালতের কোন এক কক্ষ্যে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেন একজন আইনজীবী। ওই সাক্ষাতেই আদমজী ইপিজেড দখলের দিক নির্দেশনা দেয় মতি।
কুখ্যাত ওই অপরাধীর এমন দিক নির্দেশনার এক সপ্তাহের মধ্যেই সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেডের ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই-গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটনা ঘটেছে।
এমন মন্তব্য করেন, নাম প্রকাশ না করা অনুরোধে ওই আইনজীবী। তিনি আজ সন্ধ্যায় ইফতারকালীন সময়ে বলেন, মতি তাইলে ঠিকই কারিশমা দেখাইলো। মতি আসলেই একটা কামলা। ফাঁসির আসামী থেকে কাউন্সিলর হয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে ফের আবার কারাগারে থেকেই কুটকৌশল ভালো জানে মতি।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেডের ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই-গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১০ / ১২ জন আহত হয়েছেন ।
সংঘর্ষের সময় গুলিবর্ষণের পাশাপাশি তিনটি মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়। এমন ঘটনার খবরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতির পর শান্ত হয় পরিস্থিতি।

উপস্থিত স্থানীয়রা জানায়, আদমজী ইপিজেডের ইউনিভার্সেল নামক একটি গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সেই কুখ্যাত অপরাধী গলাকাটা কাশেমের পুত্র মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগর ও রুহুল আমিন নামক এক বিএনপি নেতার সহযোগীদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ সময় রুহুলের সহযোগীরা ইপিজেডের ভেতরে সাগরের সহযোগীদের কুপিয়ে জখম করে। এর জের ধরে পরে বিকেলে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলিবর্ষণসহ ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় তোফাজ্জল হোসেন নামে এক গণমাধ্যমকর্মীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০/১২ জন আহত হন ।
গণমাধ্যমকর্মী মোস্তাক শাওন বলেন, সাংবাদিক তোফাজ্জলের অবস্থা ভালো না। ধারণা করা যাচ্ছে তার হাত এবং মাজার হাড্ডি ভেঙে গেছে । তাকে নিয়ে খানপুর হাসপাতালে চিকিসা দেয়া হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগর এ বিষয়ে জানায়, পূর্বশত্রুতার জেরে বিকেলে আওয়ামী লীগ নেতার মতির লোক রুহুল, সাজ্জাদ, পাকনা বাবুর, রেহান সাহেবের নাতি শাকিলের নেতৃত্বে হামলা হয়। এ সময় সাবেক ছাত্রদল নেতা মোহন, মানিকসহ ৪-৫জনকে কুপিয়ে জখম করে। পরে তারা আদমজীর পুরান থানার সামনে ৩-৪টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আমার কয়েকজন লোককে মারধর করে আহত করা হয়। পাশাপাশি আমার অনুসারীদের উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়েন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মাত্র কয়েকশ গজের মধ্যে এমন তান্ডবের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি। প্রচুর ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি হচ্ছিল। পরিস্থিতি সামলানো কঠিন ছিল। আমাদের ফোর্স এবং সেনাবাহিনীর সহযোগীতায় সামলানো গিয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।









Discussion about this post